ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ
সন্তানদের নতুন জামা পরিয়ে রাতে ঘর থেকে বের হয়ে আর ফিরলেন না বাবা প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতির ফলে দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মুল হয়েছেঃ সিলেটে আইজিপি বড় পরিসরে আর. কে. মিশন রোডে ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন সৌদিতে প্রথমবারের মতো সুইমস্যুট পরে র‌্যাম্পে হাঁটলেন মডেলরা ‘আয়রনম্যান’ চরিত্রে ফিরতে ‘আপত্তি নেই’ রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংসের জন্য ভারত সরকার দায়ী : কর্নেল অলি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সিরিজ নিয়ে শঙ্কা কাঠালিয়ায় ডাকাতের গুলিতে আহত ২ বিএনপি একটা জালিয়ত রাজনৈতিক দল : পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেয়র তাপস মনগড়া ও অসত্য বক্তব্য দিচ্ছেন : সাঈদ খোকন

সাংবাদিক আবদুস সবুরকে প্রাণনাশের হুমকি; ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৩৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জুন ২০২৩
  • / ৩৩২ Time View

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ৪ নম্বর মরিচা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নান্টু আলী

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ৪ নম্বর মরিচা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নান্টু আলী ওরফে নান্টু ডাক্তার গত ১০ জুন আনুমানিক দুপুর ৩:৩০ ঘটিকায় সাংবাদিক আব্দুস সবুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

দৈনিক নওরোজের স্টাফ রিপোর্টার আব্দুস সবুর উল্লেখিত ঘটনার সময় ঢাকার মিরপুর ১-নম্বর শাহ আলী মাজারের সামনে অবস্থান করছিলেন। সে মোতাবেক আত্মরক্ষার্থে আইনের আশ্রয় নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি ধামকির বিষয়ে মিরপুর শাহ আলী থানাতে নান্টু মেম্বারের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়, যাহার নম্বর-৪১৭ ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১০ জুন কুষ্টিয়া দৌলতপুর চার নম্বর মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর মোল্লাপাড়া নামক গ্রামে কুষ্টিয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল অভিযান পরিচালনা করেন বৈরাগীরচর মোল্লাপাড়া গ্রামের মহিলা মেম্বারের বাড়িতে। উল্লেখিত স্থানে একটি মাদকের আখড়া থেকে কয়েকজন মাদকসেবী ও এক মাদক ব্যবসায়ীকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করে কুষ্টিয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানিক দল। সে অভিযানের টিম লিডারের নেতৃত্বে ছিলেন কুষ্টিয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহাবুবা রুমা, এসআই জাকির হোসেন, এসআই সানোয়ার হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স। স্থানীয় স‚ত্রে সাংবাদিক আব্দুস সবুরের মোবাইল ফোনে খবর আসে যে উল্লেখিত স্থান হতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া শাখার অভিযানিক দল মুল মাদক ব্যবসায়ী একজনকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করার পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিশেষ অনুরোধে ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে ছেড়ে দেয়।

এই বিষয়টি জানার জন্য উল্লেখিত স্থানের স্থানীয় মহিলা মেম্বারের মোবাইল ফোনে কল করে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা প্রকাশ করেন সাংবাদিক আব্দুস সবুরের কাছে। তবে কিছুক্ষণ পর মোবাইল ফোনটি কেটে যায়। পরে উল্লেখিত মহিলা মেম্বারের মোবাইল ফোনে পুনরায় সাংবাদিক আব্দুস সবুর ফোন করে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাইলে সেই মহিলা মেম্বারের কাছ থেকে উল্লেখিত ঘটনা স্থানের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার নান্টু আলী ওরফে নান্টু ডাক্তার ফোনটি মহিলা মেম্বার এর কাছ থেকে কেড়ে নেয় ও সাংবাদিক আব্দুস সবুরের সাথে কথা হয় ওই স্থানীয় মেম্বার নান্টু আলীর। নান্টু আলী প্রথমে সাংবাদিক আব্দুস সবুরের কাছে আসামীকে ছেড়ে দেওয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকারোক্তি দেয়। যাহার উপযুক্ত ডকুমেন্টস রয়েছে। কিন্তুু সাংবাদিক আব্দুস সবুরের সাথে স্থানীয় মেম্বার নান্টু আলীর কথা চলমান অবস্থায় নান্টু মেম্বারকে জিজ্ঞেস করা হয় আটককৃত মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড়ানোর জন্য আপনি কি অভিযানিক টিমের নেতৃত্বে থাকা পরিদর্শক মাহবুবা রুমা ও সকল সদস্যদের তদবির করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন ছাড়িয়ে নেবার জন্য। অনেক অনুরোধ করেছেন, সেটা তথ্য প্রমান আমাদের কাছে এসেছে ও অভিযানের টিমের পরিদর্শক মাহবুবা রুমাকে আসামীগুলো ছেড়ে দেয়ার জন্য অনেক অনুনয়-বিনয়সহ একটি মাধ্যমে টাকার অফার করেছেন। এসব গুরুত্বপ‚র্ণ তথ্য আমাদের কাছে এসেছে, এই কথা মেম্বার নান্টু আলীকে বলা হলে তিনি সাংবাদিক আব্দুস সবুরকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে এতো মাতামাতির কি আছে? তুই ঘোলাটে করছিস কেনো বলে ও পরে সাংবাদিক আব্দুস সবুর ইউপি সদস্য নান্টু আলীকে বলে-আপনি যেগুলো করছেন মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষে, বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে জেলার ডিডিএলজি, ইউএনও এবং ডিসি মহোদয়কে অবগত করানো হবে, এই কথা বলার পরপরই নান্টু মেম্বার সাংবাদিক আব্দুর সবুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন ও প্রাননাশের হুমকি দেন।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, আটককৃত আসামিদের মধ্যে মেম্বার নান্টু আলীর ভাই মাহাবুলের দুইজন মাদক সাপ্লাইয়ের বড় কাস্টমার ছিলেন। তাই নান্টু মেম্বার বিভিন্ন কৌশলে তাদের ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য সর্বোচ্চ কৌশল অবলম্বন করেন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া শাখার উল্লেখিত অভিযান টিমের সোর্স ও সদস্যদের মাধ্যমে টাকার প্রস্তাব করেন। কিন্তুু বিষয়টি অভিযানের নেতৃত্ব থাকা পরিদর্শক মাহবুবা রুমার কাছে গেলে তিনি সম্পূর্ণ ডিনাই করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মেম্বার নান্টুর কথা ও প্রস্তাব।

কুষ্টিয়া দৌলতপুর ৪ নং মরিচা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার নান্টু আলীর বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের প‚র্বে কুষ্টিয়া জেলা ডিডিএলজি-র মুঠোফোনে কল করে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি, অবগত আছি, দৌলতপুর ইউএনও-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তবে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে এ বিষয়ে জানার জন্য মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Please Share This Post in Your Social Media

সাংবাদিক আবদুস সবুরকে প্রাণনাশের হুমকি; ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

Update Time : ০৬:৩৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জুন ২০২৩

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ৪ নম্বর মরিচা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নান্টু আলী ওরফে নান্টু ডাক্তার গত ১০ জুন আনুমানিক দুপুর ৩:৩০ ঘটিকায় সাংবাদিক আব্দুস সবুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

দৈনিক নওরোজের স্টাফ রিপোর্টার আব্দুস সবুর উল্লেখিত ঘটনার সময় ঢাকার মিরপুর ১-নম্বর শাহ আলী মাজারের সামনে অবস্থান করছিলেন। সে মোতাবেক আত্মরক্ষার্থে আইনের আশ্রয় নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি ধামকির বিষয়ে মিরপুর শাহ আলী থানাতে নান্টু মেম্বারের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়, যাহার নম্বর-৪১৭ ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১০ জুন কুষ্টিয়া দৌলতপুর চার নম্বর মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর মোল্লাপাড়া নামক গ্রামে কুষ্টিয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল অভিযান পরিচালনা করেন বৈরাগীরচর মোল্লাপাড়া গ্রামের মহিলা মেম্বারের বাড়িতে। উল্লেখিত স্থানে একটি মাদকের আখড়া থেকে কয়েকজন মাদকসেবী ও এক মাদক ব্যবসায়ীকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করে কুষ্টিয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানিক দল। সে অভিযানের টিম লিডারের নেতৃত্বে ছিলেন কুষ্টিয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মাহাবুবা রুমা, এসআই জাকির হোসেন, এসআই সানোয়ার হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স। স্থানীয় স‚ত্রে সাংবাদিক আব্দুস সবুরের মোবাইল ফোনে খবর আসে যে উল্লেখিত স্থান হতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া শাখার অভিযানিক দল মুল মাদক ব্যবসায়ী একজনকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করার পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিশেষ অনুরোধে ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে ছেড়ে দেয়।

এই বিষয়টি জানার জন্য উল্লেখিত স্থানের স্থানীয় মহিলা মেম্বারের মোবাইল ফোনে কল করে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা প্রকাশ করেন সাংবাদিক আব্দুস সবুরের কাছে। তবে কিছুক্ষণ পর মোবাইল ফোনটি কেটে যায়। পরে উল্লেখিত মহিলা মেম্বারের মোবাইল ফোনে পুনরায় সাংবাদিক আব্দুস সবুর ফোন করে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাইলে সেই মহিলা মেম্বারের কাছ থেকে উল্লেখিত ঘটনা স্থানের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার নান্টু আলী ওরফে নান্টু ডাক্তার ফোনটি মহিলা মেম্বার এর কাছ থেকে কেড়ে নেয় ও সাংবাদিক আব্দুস সবুরের সাথে কথা হয় ওই স্থানীয় মেম্বার নান্টু আলীর। নান্টু আলী প্রথমে সাংবাদিক আব্দুস সবুরের কাছে আসামীকে ছেড়ে দেওয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকারোক্তি দেয়। যাহার উপযুক্ত ডকুমেন্টস রয়েছে। কিন্তুু সাংবাদিক আব্দুস সবুরের সাথে স্থানীয় মেম্বার নান্টু আলীর কথা চলমান অবস্থায় নান্টু মেম্বারকে জিজ্ঞেস করা হয় আটককৃত মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড়ানোর জন্য আপনি কি অভিযানিক টিমের নেতৃত্বে থাকা পরিদর্শক মাহবুবা রুমা ও সকল সদস্যদের তদবির করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন ছাড়িয়ে নেবার জন্য। অনেক অনুরোধ করেছেন, সেটা তথ্য প্রমান আমাদের কাছে এসেছে ও অভিযানের টিমের পরিদর্শক মাহবুবা রুমাকে আসামীগুলো ছেড়ে দেয়ার জন্য অনেক অনুনয়-বিনয়সহ একটি মাধ্যমে টাকার অফার করেছেন। এসব গুরুত্বপ‚র্ণ তথ্য আমাদের কাছে এসেছে, এই কথা মেম্বার নান্টু আলীকে বলা হলে তিনি সাংবাদিক আব্দুস সবুরকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে এতো মাতামাতির কি আছে? তুই ঘোলাটে করছিস কেনো বলে ও পরে সাংবাদিক আব্দুস সবুর ইউপি সদস্য নান্টু আলীকে বলে-আপনি যেগুলো করছেন মাদক ব্যবসায়ীদের পক্ষে, বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে জেলার ডিডিএলজি, ইউএনও এবং ডিসি মহোদয়কে অবগত করানো হবে, এই কথা বলার পরপরই নান্টু মেম্বার সাংবাদিক আব্দুর সবুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন ও প্রাননাশের হুমকি দেন।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, আটককৃত আসামিদের মধ্যে মেম্বার নান্টু আলীর ভাই মাহাবুলের দুইজন মাদক সাপ্লাইয়ের বড় কাস্টমার ছিলেন। তাই নান্টু মেম্বার বিভিন্ন কৌশলে তাদের ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য সর্বোচ্চ কৌশল অবলম্বন করেন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া শাখার উল্লেখিত অভিযান টিমের সোর্স ও সদস্যদের মাধ্যমে টাকার প্রস্তাব করেন। কিন্তুু বিষয়টি অভিযানের নেতৃত্ব থাকা পরিদর্শক মাহবুবা রুমার কাছে গেলে তিনি সম্পূর্ণ ডিনাই করেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মেম্বার নান্টুর কথা ও প্রস্তাব।

কুষ্টিয়া দৌলতপুর ৪ নং মরিচা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার নান্টু আলীর বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের প‚র্বে কুষ্টিয়া জেলা ডিডিএলজি-র মুঠোফোনে কল করে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি, অবগত আছি, দৌলতপুর ইউএনও-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তবে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে এ বিষয়ে জানার জন্য মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।