ঢাকা ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরকার ও সরকারি দল মিলে প্রহসনমুলক নির্বাচন দিয়ে রাষ্ট্র দখল করতে চায়: জিএম কাদের

আলমগীর হোসেন অপু,রংপুর জেলা প্রতিনিধি
  • Update Time : ০৫:৪১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১২ Time View

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) বলেছেন, দেশের প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী সরকারের নিয়োগকর্তা বৈষম্যবিরোধী নেতারা। যারা পরবর্তিতে এনসিপি গঠন করেছেন। তারাই বর্তমানে সরকারী দল। তাদের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে। তাই নির্বাচন ব্যবস্থায় কোন নিরপেক্ষতা দেখছি না। সরকার ও সরকারি দল মিলে প্রহসনমুলক নির্বাচন দিয়ে রাষ্ট্র দখল করতে চায়। রাষ্ট্র নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র আমরা আর মেনে নেবো না।

শনিবার (২৪ জানুয়ারী) বিকেলে সেন্ট্রাল রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে লাঙ্গলের প্রচারণার পুর্বে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

জিএম কাদের বলেন, নানা বাধা বিপত্তির মুখে আমরা নির্বাচনে এসেছি। তারা আমাদের দলকে ভাগ করার চেষ্টা করেছিলো, নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলা, আমরা তা রুখে দিয়েছি। আমাদের প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়ে জেলে রাখছে। কোন জামিন হচ্ছে না। উল্টো আরো মামলা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের নির্বাচনে বাধা দেওয়া হচ্ছে, রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তথাপিও আমরা আমাদের রাজনীতি করছি। দরকার হলে বুকের রক্ত দিবো তবুও আমরা আমাদের অধিকার আদায় করে ছাড়বো। আমরা মারা যাবো, তবু আমরা দেশের মানুষর অধিকার প্রতিষ্ঠা করবো।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আওয়ামীলীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ নয়। তাদের রাজনীতি করতে দেওয়া হচ্ছে না। যা কোনভাবেই ঠিক নয়। তারা যদি নির্বাচনে আসতে চায়, তাদের উপর প্রেসার দেওয়া হচ্ছে, তাদের অত্যাচার করা হচ্ছে। তবে আওয়ামীলীগের ভোট বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি চাচ্ছে। তাদের ভোট দিলে ভোট নিতে পারবে। কিন্তু জাতীয় পার্টিকে ভোট দিলে তাদের ভোট দিতে দিবে না। এমন করে দেশের সংখ্যালঘুদের উপরও অত্যাচার করা হচ্ছে, যাতে করে তারা ভোট দিতে না পারে। তাদেরকে একই কথা বলছে। বিএনপি, জামায়াত এনসিপি তাদেরকে ভোট দিতে বলছে। কিন্তু আমাদের ভোট দিলে সমস্যা আছে। তাই আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবী জানাচ্ছি, আমাদের যেন সুষ্ঠভাবে নির্বাচন করতে দেওয়া হয়। আমাদের উপর যেন কোন নির্যাতন করা না হয়, আমাদের নির্বাচনে যেন বাধা দেওয়া না হয়।

হ্যাঁ, না ভোট প্রসঙ্গে জিএম কাদের বলেন, গতকাল রংপুরে সরকারের একজন উপদেষ্টা বলেছেন, যারা না ভোট চাচ্ছেন তারা স্বৈরাচারের দোসর। আমি বলতে চাই, আমরা দেশ বাঁচাতে না ভোটের পক্ষে। আর যারা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে তারা নাৎসীবাদের দোসর।

জিএম কাদের রংপুর বাসীর কাছে ভোট চেয়ে বলেন, আমি রংপুরের সন্তান। রংপুরবাসীর কাছে আমারও চাওয়া হলো, জাতীয় পার্টি যতদিন ক্ষমতায় ছিলো ততদিন রংপুরবাসী শান্তিতে ছিলো। জাতীয় পার্টি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি করে নাই। জাতীয় পার্টি কাউকে অত্যাচার করে নাই। বিএনপি, জামায়াতসহ সকল দলের লোক আমার কাছে যারা এসেছিলো, সবিইকে  সমানভাবে দেখা হয়েছে। তাই রংপুরবাসী যদি শান্তি চান, স্বস্তি চান, সুন্দরভাবে বাঁচতে চান, তাহলে বিগত দিনের মতো আবারো জাতীয় পার্টিকে সমর্থন দিবেন, লাঙল মার্কায় ভোট দিবেন এই কামনা করছি।

এরপর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রংপুরে লাঙলের প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন এবং নগরীর সেন্ট্রাল রোড, পায়রা চত্বর ও জাহাজকোম্পানীসহ বিভিন্ন মোড়ে পথচারী, ব্যবসায়ীসহ সবার কাছে লিফলেট দিয়ে লাঙলের ভোট চান। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আজমল হোসেন লেবু, এস এম ইয়াসীরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Please Share This Post in Your Social Media

সরকার ও সরকারি দল মিলে প্রহসনমুলক নির্বাচন দিয়ে রাষ্ট্র দখল করতে চায়: জিএম কাদের

আলমগীর হোসেন অপু,রংপুর জেলা প্রতিনিধি
Update Time : ০৫:৪১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) বলেছেন, দেশের প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী সরকারের নিয়োগকর্তা বৈষম্যবিরোধী নেতারা। যারা পরবর্তিতে এনসিপি গঠন করেছেন। তারাই বর্তমানে সরকারী দল। তাদের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে। তাই নির্বাচন ব্যবস্থায় কোন নিরপেক্ষতা দেখছি না। সরকার ও সরকারি দল মিলে প্রহসনমুলক নির্বাচন দিয়ে রাষ্ট্র দখল করতে চায়। রাষ্ট্র নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র আমরা আর মেনে নেবো না।

শনিবার (২৪ জানুয়ারী) বিকেলে সেন্ট্রাল রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে লাঙ্গলের প্রচারণার পুর্বে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

জিএম কাদের বলেন, নানা বাধা বিপত্তির মুখে আমরা নির্বাচনে এসেছি। তারা আমাদের দলকে ভাগ করার চেষ্টা করেছিলো, নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলা, আমরা তা রুখে দিয়েছি। আমাদের প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়ে জেলে রাখছে। কোন জামিন হচ্ছে না। উল্টো আরো মামলা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের নির্বাচনে বাধা দেওয়া হচ্ছে, রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তথাপিও আমরা আমাদের রাজনীতি করছি। দরকার হলে বুকের রক্ত দিবো তবুও আমরা আমাদের অধিকার আদায় করে ছাড়বো। আমরা মারা যাবো, তবু আমরা দেশের মানুষর অধিকার প্রতিষ্ঠা করবো।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আওয়ামীলীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ নয়। তাদের রাজনীতি করতে দেওয়া হচ্ছে না। যা কোনভাবেই ঠিক নয়। তারা যদি নির্বাচনে আসতে চায়, তাদের উপর প্রেসার দেওয়া হচ্ছে, তাদের অত্যাচার করা হচ্ছে। তবে আওয়ামীলীগের ভোট বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি চাচ্ছে। তাদের ভোট দিলে ভোট নিতে পারবে। কিন্তু জাতীয় পার্টিকে ভোট দিলে তাদের ভোট দিতে দিবে না। এমন করে দেশের সংখ্যালঘুদের উপরও অত্যাচার করা হচ্ছে, যাতে করে তারা ভোট দিতে না পারে। তাদেরকে একই কথা বলছে। বিএনপি, জামায়াত এনসিপি তাদেরকে ভোট দিতে বলছে। কিন্তু আমাদের ভোট দিলে সমস্যা আছে। তাই আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবী জানাচ্ছি, আমাদের যেন সুষ্ঠভাবে নির্বাচন করতে দেওয়া হয়। আমাদের উপর যেন কোন নির্যাতন করা না হয়, আমাদের নির্বাচনে যেন বাধা দেওয়া না হয়।

হ্যাঁ, না ভোট প্রসঙ্গে জিএম কাদের বলেন, গতকাল রংপুরে সরকারের একজন উপদেষ্টা বলেছেন, যারা না ভোট চাচ্ছেন তারা স্বৈরাচারের দোসর। আমি বলতে চাই, আমরা দেশ বাঁচাতে না ভোটের পক্ষে। আর যারা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে তারা নাৎসীবাদের দোসর।

জিএম কাদের রংপুর বাসীর কাছে ভোট চেয়ে বলেন, আমি রংপুরের সন্তান। রংপুরবাসীর কাছে আমারও চাওয়া হলো, জাতীয় পার্টি যতদিন ক্ষমতায় ছিলো ততদিন রংপুরবাসী শান্তিতে ছিলো। জাতীয় পার্টি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি করে নাই। জাতীয় পার্টি কাউকে অত্যাচার করে নাই। বিএনপি, জামায়াতসহ সকল দলের লোক আমার কাছে যারা এসেছিলো, সবিইকে  সমানভাবে দেখা হয়েছে। তাই রংপুরবাসী যদি শান্তি চান, স্বস্তি চান, সুন্দরভাবে বাঁচতে চান, তাহলে বিগত দিনের মতো আবারো জাতীয় পার্টিকে সমর্থন দিবেন, লাঙল মার্কায় ভোট দিবেন এই কামনা করছি।

এরপর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রংপুরে লাঙলের প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন এবং নগরীর সেন্ট্রাল রোড, পায়রা চত্বর ও জাহাজকোম্পানীসহ বিভিন্ন মোড়ে পথচারী, ব্যবসায়ীসহ সবার কাছে লিফলেট দিয়ে লাঙলের ভোট চান। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আজমল হোসেন লেবু, এস এম ইয়াসীরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।