ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা আরও কমল

অর্থনীতি ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:২৯:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১৫৬ Time View

সঞ্চয়পত্র

নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে সঞ্চয়পত্রে সুদহার কমালো সরকার। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কেনা সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফা মিলবে সাড়ে ১০ শতাংশের আশপাশে। এতদিন যা ১২ শতাংশের কাছাকাছি ছিল।

আগামী ছয় মাসে কেনা সঞ্চয়পত্রে নতুন এ সুদহার কার্যকর হবে। পুরাতন সঞ্চয়পত্রে আগের মতোই সুদ পাবেন গ্রাহকরা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে বৃহস্পতিবার একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

একটি সময় সঞ্চয়পত্রের সুদহার অপরির্তিত ছিল। তবে গতবছরের জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের সুদহার সরকারি ট্রেজারি বন্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে। বর্তমানে ৫ বছর এবং ২ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদহার (সর্বশেষ ৬ মাসের নিলামের ভিত্তিতে) নির্ধারিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হারও কমছে। ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন কেনা সঞ্চয়পত্রে নতুন এ হার কার্যকর হবে। এর আগে গত জুলাই–ডিসেম্বরের জন্যও সুদহার সামান্য কমেছিল।

বর্তমানে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র এবং পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিট নামে সরকারের সঞ্চয় স্কিম রয়েছে। প্রতি ক্ষেত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং এর বেশি সঞ্চয়পত্রে আলাদা সুদ দেওয়া হয়। একজন ব্যক্তি বর্তমানে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ রয়েছে। সঞ্চয়পত্রের বাইরে বাইরে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক সাধারণ হিসাব এবং প্রবাসীদের জন্য তিন ধরনের বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সুদহার অপরির্তিত রাখা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী–এখন থেকে কেনা পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা বা এর কম বিনিয়োগকারী মেয়াদ পূর্তিতে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। গত জুলাই–ডিসেম্বর সময়ে যা ছিল ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এর বেশি অংকের বিনিয়োগে মুনাফা কমে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে নেমেছে; আগে যা ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ ছিল।

তিন বছর মেয়াদি তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ; আগে যা ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। আর সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফা পাওয়া যাবে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ: আগে যা ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ ছিল।

পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ মুনাফার হার কমিয়ে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে; আগে যা ছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। আর সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফা হবে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ; আগে যা ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ ছিল।

পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ মুনাফা দেওয়া হবে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ; আগে যা ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এর বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফা হবে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ; এতদিন যা ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ ছিল।

এ ছাড়া তিন বছর মেয়াদি পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিট হিসাবের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা পাওয়া যাবে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ; আগে যা ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছিল। এর বেশি বিনিয়োগে মুনাফা হবে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ; আগে যা ছিল ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। প্রতি ক্ষেত্রে মেয়াদ পূর্তির আগে ভাঙানো হলে তখন প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বছর শেষে মুনাফা আরও কম পাওয়া যাবে। যেসব ক্ষেত্রে মুনাফার টাকা পরিশোধ করা হয় সে ক্ষেত্রে মূল টাকা থেকে নির্ধারিত হারে সমন্বয় করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা আরও কমল

অর্থনীতি ডেস্ক
Update Time : ০৬:২৯:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে সঞ্চয়পত্রে সুদহার কমালো সরকার। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কেনা সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ পূর্তিতে মুনাফা মিলবে সাড়ে ১০ শতাংশের আশপাশে। এতদিন যা ১২ শতাংশের কাছাকাছি ছিল।

আগামী ছয় মাসে কেনা সঞ্চয়পত্রে নতুন এ সুদহার কার্যকর হবে। পুরাতন সঞ্চয়পত্রে আগের মতোই সুদ পাবেন গ্রাহকরা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে বৃহস্পতিবার একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

একটি সময় সঞ্চয়পত্রের সুদহার অপরির্তিত ছিল। তবে গতবছরের জানুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্রের সুদহার সরকারি ট্রেজারি বন্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে। বর্তমানে ৫ বছর এবং ২ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদহার (সর্বশেষ ৬ মাসের নিলামের ভিত্তিতে) নির্ধারিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার কমায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফা হারও কমছে। ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন কেনা সঞ্চয়পত্রে নতুন এ হার কার্যকর হবে। এর আগে গত জুলাই–ডিসেম্বরের জন্যও সুদহার সামান্য কমেছিল।

বর্তমানে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র এবং পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিট নামে সরকারের সঞ্চয় স্কিম রয়েছে। প্রতি ক্ষেত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং এর বেশি সঞ্চয়পত্রে আলাদা সুদ দেওয়া হয়। একজন ব্যক্তি বর্তমানে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কেনার সুযোগ রয়েছে। সঞ্চয়পত্রের বাইরে বাইরে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক সাধারণ হিসাব এবং প্রবাসীদের জন্য তিন ধরনের বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সুদহার অপরির্তিত রাখা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী–এখন থেকে কেনা পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা বা এর কম বিনিয়োগকারী মেয়াদ পূর্তিতে ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। গত জুলাই–ডিসেম্বর সময়ে যা ছিল ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এর বেশি অংকের বিনিয়োগে মুনাফা কমে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশে নেমেছে; আগে যা ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ ছিল।

তিন বছর মেয়াদি তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ; আগে যা ছিল ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। আর সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফা পাওয়া যাবে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ: আগে যা ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ ছিল।

পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ মুনাফার হার কমিয়ে ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে; আগে যা ছিল ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। আর সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফা হবে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ; আগে যা ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ ছিল।

পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ মুনাফা দেওয়া হবে ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ; আগে যা ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এর বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফা হবে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ; এতদিন যা ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ ছিল।

এ ছাড়া তিন বছর মেয়াদি পোস্ট অফিস ফিক্সড ডিপোজিট হিসাবের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফা পাওয়া যাবে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ; আগে যা ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছিল। এর বেশি বিনিয়োগে মুনাফা হবে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ; আগে যা ছিল ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। প্রতি ক্ষেত্রে মেয়াদ পূর্তির আগে ভাঙানো হলে তখন প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বছর শেষে মুনাফা আরও কম পাওয়া যাবে। যেসব ক্ষেত্রে মুনাফার টাকা পরিশোধ করা হয় সে ক্ষেত্রে মূল টাকা থেকে নির্ধারিত হারে সমন্বয় করা হয়।