ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিশুদের পা জন্মগত বাঁকা কোনও সমস্যা নয়

কামরুল হাসান টিটু, রংপুর ব্যুরো
  • Update Time : ০৬:০৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জুন ২০২৩
  • / ২১৭ Time View

বাংলাদেশে বছরে পাঁচ হাজার শিশু ক্লাবফুট (বাঁকা পা) সমস্যা নিয়ে জন্ম নিচ্ছেন। তবে এটি এখন আর কোনো সমস্যা নয়। অভিভাবকরা একটু সচেতন থাকলে সহজেই চিকিৎসার মাধ্যমে বাঁকা পায়ের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব পনসেটি পদ্ধতিতে চিকিৎসা শুরু করা উচিত।

গত পনোরো বছরে ওয়াক ফর লাইফ সফলতার সঙ্গে দেশে ৩২ হাজারের বেশি ক্লাবফুট শিশুকে চিকিৎসার আওতায় এনেছে। যাদের বেশির ভাগই চিকিৎসায় ক্লাবফুটমুক্ত হয়েছে।

সোমবার (৫ জুন) দুপুরে রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অতিথিরা। দাতা সংস্থা মিরাকেল ফিট ও অ্যাকশন অন পোভার্টির সহায়তায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্যানক্রিড রেকেয়ার ফাউন্ডেশন পরিচালিত প্রকল্প ওয়াক ফর লাইফ। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ ক্লাবফুট চিকিৎসায় অবহেলা আর নয়, সঠিক সময়ে ধারাবাহিক চিকিৎসায় ক্লাবফুট ভালো হয় ‘।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুর নাহার বেগম। সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ডা. গোলাম রসূল। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শিখা রানী রায়।

 

এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স অ্যান্ড ট্রমাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. শরীফুল হক শরীফ। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন, ওয়াক ফর লাইফের ফিজিওথেরাপিস্ট ও প্রকল্প প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম নাঈম, ওয়াক ফর লাইফের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান রনি, ক্লাবফুটমুক্ত শিশুর অভিভাবক হারুন অর রশিদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, দেশে শিশুদের প্রতিবন্ধিতা দূরীকরণে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রকল্পের মাধ্যমে যৌথভাবে কাজ করছে। ওয়াক ফর লাইফ প্রকল্পটির মাধ্যমে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মে পর্যন্ত চৌদ্দ বছরে দেশে মোট ৩২ হাজারের বেশি শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশুই চিকিৎসার মাধ্যমে সাফল্য পেয়েছে।

ফিজিওথেরাপিস্ট নজরুল ইসলাম নাঈম জানান, রংপুরে সপ্তাহের প্রতি রোববার ও বুধবার হতদরিদ্র ক্লাবফুট রোগীদের বিনামূল্যে এ চিকিৎসা দেওয়া হয়। রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ওয়াক ফর লাইফ ক্লাবফুট পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে সেবামূলক এ কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হয়েছে। ক্লাবফুট (মুগুর পা) বিশিষ্ট শিশুদের হতদরিদ্র পরিবারকে সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ সেবা কার্যক্রম চালু হয়। এরপর স্থান পরিবর্তন করে ২০১৫ সাল থেকে প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এটি পরিচালনা করা হচ্ছে। যেকোনো প্রয়োজনে ক্লাবফুট শিশুদের অভিভাবকরা প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের অফিস কক্ষে যোগাযোগ করতে পারবেন।

আলোচনা শেষে দিবস উদযাপনে শিশুদের ও অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে সচেতনতামূলক একটি শোভাযাত্রা বের হয় হাসপাতাল চত্বর প্রদক্ষিণ করে। এতে অতিথি, চিকিৎসক, নার্সরাও অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, ক্লাবফুট বা মুগুর পা কিং বাঁকা পায়ের পাতা (talipes equinovarus নামেও ডাকা হয়) শিশুর এক ধরনের জন্মগত ত্রুটি। জন্মগত ত্রুটি শিশুর শরীরের এক ধরনের সমস্যা যা শিশুর জন্মের সময় থেকেই দেখা যায়। এই ত্রুটি শিশুর এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন ও কার্যকলাপে সাময়িক কিংবা স্থায়ীভাবে প্রভাব ফেলে। তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের ওয়াক ফর লাইফ প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

শিশুদের পা জন্মগত বাঁকা কোনও সমস্যা নয়

Update Time : ০৬:০৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জুন ২০২৩

বাংলাদেশে বছরে পাঁচ হাজার শিশু ক্লাবফুট (বাঁকা পা) সমস্যা নিয়ে জন্ম নিচ্ছেন। তবে এটি এখন আর কোনো সমস্যা নয়। অভিভাবকরা একটু সচেতন থাকলে সহজেই চিকিৎসার মাধ্যমে বাঁকা পায়ের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব পনসেটি পদ্ধতিতে চিকিৎসা শুরু করা উচিত।

গত পনোরো বছরে ওয়াক ফর লাইফ সফলতার সঙ্গে দেশে ৩২ হাজারের বেশি ক্লাবফুট শিশুকে চিকিৎসার আওতায় এনেছে। যাদের বেশির ভাগই চিকিৎসায় ক্লাবফুটমুক্ত হয়েছে।

সোমবার (৫ জুন) দুপুরে রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অতিথিরা। দাতা সংস্থা মিরাকেল ফিট ও অ্যাকশন অন পোভার্টির সহায়তায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে স্যানক্রিড রেকেয়ার ফাউন্ডেশন পরিচালিত প্রকল্প ওয়াক ফর লাইফ। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ ক্লাবফুট চিকিৎসায় অবহেলা আর নয়, সঠিক সময়ে ধারাবাহিক চিকিৎসায় ক্লাবফুট ভালো হয় ‘।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুর নাহার বেগম। সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ডা. গোলাম রসূল। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শিখা রানী রায়।

 

এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স অ্যান্ড ট্রমাটোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. শরীফুল হক শরীফ। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন, ওয়াক ফর লাইফের ফিজিওথেরাপিস্ট ও প্রকল্প প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম নাঈম, ওয়াক ফর লাইফের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান রনি, ক্লাবফুটমুক্ত শিশুর অভিভাবক হারুন অর রশিদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, দেশে শিশুদের প্রতিবন্ধিতা দূরীকরণে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রকল্পের মাধ্যমে যৌথভাবে কাজ করছে। ওয়াক ফর লাইফ প্রকল্পটির মাধ্যমে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মে পর্যন্ত চৌদ্দ বছরে দেশে মোট ৩২ হাজারের বেশি শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশুই চিকিৎসার মাধ্যমে সাফল্য পেয়েছে।

ফিজিওথেরাপিস্ট নজরুল ইসলাম নাঈম জানান, রংপুরে সপ্তাহের প্রতি রোববার ও বুধবার হতদরিদ্র ক্লাবফুট রোগীদের বিনামূল্যে এ চিকিৎসা দেওয়া হয়। রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ওয়াক ফর লাইফ ক্লাবফুট পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে সেবামূলক এ কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হয়েছে। ক্লাবফুট (মুগুর পা) বিশিষ্ট শিশুদের হতদরিদ্র পরিবারকে সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ সেবা কার্যক্রম চালু হয়। এরপর স্থান পরিবর্তন করে ২০১৫ সাল থেকে প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এটি পরিচালনা করা হচ্ছে। যেকোনো প্রয়োজনে ক্লাবফুট শিশুদের অভিভাবকরা প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের অফিস কক্ষে যোগাযোগ করতে পারবেন।

আলোচনা শেষে দিবস উদযাপনে শিশুদের ও অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে সচেতনতামূলক একটি শোভাযাত্রা বের হয় হাসপাতাল চত্বর প্রদক্ষিণ করে। এতে অতিথি, চিকিৎসক, নার্সরাও অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, ক্লাবফুট বা মুগুর পা কিং বাঁকা পায়ের পাতা (talipes equinovarus নামেও ডাকা হয়) শিশুর এক ধরনের জন্মগত ত্রুটি। জন্মগত ত্রুটি শিশুর শরীরের এক ধরনের সমস্যা যা শিশুর জন্মের সময় থেকেই দেখা যায়। এই ত্রুটি শিশুর এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন ও কার্যকলাপে সাময়িক কিংবা স্থায়ীভাবে প্রভাব ফেলে। তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের ওয়াক ফর লাইফ প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।