ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শাশুড়ীকে হত্যার চেষ্টায় পুত্রবধুর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি 
  • Update Time : ১১:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জুন ২০২৩
  • / ১৬০ Time View

নরসিংদীর রায়পুরায় শাশুড়ীকে হত্যার চেষ্টায় দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করায় গ্রেফতারকৃত পুত্রবধূ অনামিকার শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা। আজ রোববার বিকেলে হাইরমারা বাজারে এ সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আহত লুৎফা আক্তারের(৭৫) এর ছেলে আবু কাইয়ুম। তিনি বলেন গত ৩১ মে সকালে ইউনিয়নের মামুদপুর গ্রামে মোল্লাবাড়িতে আবদুল মজিদ মিয়ার স্ত্রীকে পুত্রবধূ অনামিকা খানম(২০)ফাঁকা বাড়িতে ঢুকে লুন্ঠন করার উদ্দেশ্য আমার মা এর নিকট মোটরসাইকেল ও আলমিরার চাবি খুঁজতে থাকে। মা চাবি না দেয়ায় দরজা বন্ধ করে ধারালো দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। মায়ের চিৎকার শুনে স্থানীয় এলাকাবাসী ঘরের দরজা ভেঙে গুরুতর আহত অবস্থা উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। মায়ের জখমে ১২০ টি সেলাই দিতে হয়েছে।

অবস্থার অবনতি হলে ওইখানকার চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে মা এর অবস্থা আসংখ্যাজনক। মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। পরদিন এ সংক্রান্ত অনামিকাকে আসামি করে রায়পুরা থানায় মামলা করেন আহতের ছেলে। ওই দিন ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অনামিকা খানমকে আটক করে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। অভিযুক্ত পুত্রবধূ অনামিকা খানম (২০) প্রবাসী কামরুল হাসানের স্ত্রী এবং পার্শ্ববর্তী হাইরমারা এলাকার জাহাঙ্গীর খানের মেয়ে।

মা হত্যার চেষ্টায় অনামিকার ফাঁসিসহ কঠিন শাস্তি দাবি করছি। এ ঘটনার পর অনামিকার পরিবারের লোকজন মামলা অন্য দিকে প্রভাবিত করতে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকদের নিকট আমি ও আমার স্ত্রী লিজাকে নিয়ে কুরুচি পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচার করান। পাশাপাশি মামলাটি উঠিয়ে নিতে চাপসহ প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তাদের এমন বক্তব্যের তিব্র নিন্দা প্রতিবাদসহ তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

কাইয়ুম এর স্ত্রী লিজা বলেন,কামরুল বিদেশ যাওয়ার পর অনামিকা গর্ভবতী ছিলো। কিন্তু সে তার পরিবারের পরামর্শক্রমে বাচ্চা নষ্ট করে ফেলে। এখবর পেয়ে স্বামী কামরুল ও তার পরিবারের লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একদিকে বাপের বাড়ীর লোকজনের পরামর্শক্রমে বাচ্চা নষ্ট করা অন্যদিকে কেন বাচ্চা নষ্ট করলো শুশুর বাড়ীর লোকজনের এমন চাপে পুত্রবধু অনামিকা অনেকটা দিশেহারা হয়ে যায়। আমি ও আমার স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট কুরুচি পূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছে। এই দেশে পুত্রবধূর হাতে কোনো শাশুড়ী এমন ভাবে রক্তাক্ত জখম হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে না হয়। দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করছি। গ্রেফতারকৃত পুত্রবধূ অনামিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জানান ভুক্তভোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা।

জানা যায়, গত এক বছর আগে উভয় পরিবারের সম্মতিতে আব্দুল মজিদের ছেলে মালদ্বীপ প্রবাসী কামরুলের সাথে অনামিকার মুঠোফোনে বিয়ে হয়। গত দুইমাস আগে বাড়িতে এসে সংসার করেন দুইজন। গত একমাস আগে আবারও প্রবাসে পারি জমান কামরুল। স্বামী বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পরওই অনামিকাও শশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি চলে যান। এরি মাঝে অনামিকার গর্ভে সন্তান লাভের সংবাদ পান। কিছুদিন যেতে না যেতেই অনামিকা সন্তান নষ্টের সংবাদ দেন। তার পর থেকে শুরু হয় তাদের পারিবারিক কলহ। ওই দিন অনামিকা দুই যুবককে সাথে নিয়ে বাবার বাড়ী থেকে বাজারের ব্যাগ নিয়ে শুশুর বাড়ীতে প্রবেশ করে। একা বাড়িতে থাকা তার শাশুড়ীরকে আলমিরা ও বাইকের চাবি দিতে বলে। শাশুড়ী চাবি দিতে অস্বীকার করলে ঘরের দরজা বন্ধ করে শাশুড়ীকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি রক্তাক্ত জখম করে। শাশুড়ীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘরের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও পরে তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনার মমলায় অনামিকা জেলহাজতে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

শাশুড়ীকে হত্যার চেষ্টায় পুত্রবধুর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ

Update Time : ১১:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জুন ২০২৩

নরসিংদীর রায়পুরায় শাশুড়ীকে হত্যার চেষ্টায় দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করায় গ্রেফতারকৃত পুত্রবধূ অনামিকার শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা। আজ রোববার বিকেলে হাইরমারা বাজারে এ সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আহত লুৎফা আক্তারের(৭৫) এর ছেলে আবু কাইয়ুম। তিনি বলেন গত ৩১ মে সকালে ইউনিয়নের মামুদপুর গ্রামে মোল্লাবাড়িতে আবদুল মজিদ মিয়ার স্ত্রীকে পুত্রবধূ অনামিকা খানম(২০)ফাঁকা বাড়িতে ঢুকে লুন্ঠন করার উদ্দেশ্য আমার মা এর নিকট মোটরসাইকেল ও আলমিরার চাবি খুঁজতে থাকে। মা চাবি না দেয়ায় দরজা বন্ধ করে ধারালো দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। মায়ের চিৎকার শুনে স্থানীয় এলাকাবাসী ঘরের দরজা ভেঙে গুরুতর আহত অবস্থা উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। মায়ের জখমে ১২০ টি সেলাই দিতে হয়েছে।

অবস্থার অবনতি হলে ওইখানকার চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে মা এর অবস্থা আসংখ্যাজনক। মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। পরদিন এ সংক্রান্ত অনামিকাকে আসামি করে রায়পুরা থানায় মামলা করেন আহতের ছেলে। ওই দিন ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অনামিকা খানমকে আটক করে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। অভিযুক্ত পুত্রবধূ অনামিকা খানম (২০) প্রবাসী কামরুল হাসানের স্ত্রী এবং পার্শ্ববর্তী হাইরমারা এলাকার জাহাঙ্গীর খানের মেয়ে।

মা হত্যার চেষ্টায় অনামিকার ফাঁসিসহ কঠিন শাস্তি দাবি করছি। এ ঘটনার পর অনামিকার পরিবারের লোকজন মামলা অন্য দিকে প্রভাবিত করতে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকদের নিকট আমি ও আমার স্ত্রী লিজাকে নিয়ে কুরুচি পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচার করান। পাশাপাশি মামলাটি উঠিয়ে নিতে চাপসহ প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তাদের এমন বক্তব্যের তিব্র নিন্দা প্রতিবাদসহ তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

কাইয়ুম এর স্ত্রী লিজা বলেন,কামরুল বিদেশ যাওয়ার পর অনামিকা গর্ভবতী ছিলো। কিন্তু সে তার পরিবারের পরামর্শক্রমে বাচ্চা নষ্ট করে ফেলে। এখবর পেয়ে স্বামী কামরুল ও তার পরিবারের লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একদিকে বাপের বাড়ীর লোকজনের পরামর্শক্রমে বাচ্চা নষ্ট করা অন্যদিকে কেন বাচ্চা নষ্ট করলো শুশুর বাড়ীর লোকজনের এমন চাপে পুত্রবধু অনামিকা অনেকটা দিশেহারা হয়ে যায়। আমি ও আমার স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট কুরুচি পূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছে। এই দেশে পুত্রবধূর হাতে কোনো শাশুড়ী এমন ভাবে রক্তাক্ত জখম হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে না হয়। দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করছি। গ্রেফতারকৃত পুত্রবধূ অনামিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জানান ভুক্তভোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা।

জানা যায়, গত এক বছর আগে উভয় পরিবারের সম্মতিতে আব্দুল মজিদের ছেলে মালদ্বীপ প্রবাসী কামরুলের সাথে অনামিকার মুঠোফোনে বিয়ে হয়। গত দুইমাস আগে বাড়িতে এসে সংসার করেন দুইজন। গত একমাস আগে আবারও প্রবাসে পারি জমান কামরুল। স্বামী বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পরওই অনামিকাও শশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি চলে যান। এরি মাঝে অনামিকার গর্ভে সন্তান লাভের সংবাদ পান। কিছুদিন যেতে না যেতেই অনামিকা সন্তান নষ্টের সংবাদ দেন। তার পর থেকে শুরু হয় তাদের পারিবারিক কলহ। ওই দিন অনামিকা দুই যুবককে সাথে নিয়ে বাবার বাড়ী থেকে বাজারের ব্যাগ নিয়ে শুশুর বাড়ীতে প্রবেশ করে। একা বাড়িতে থাকা তার শাশুড়ীরকে আলমিরা ও বাইকের চাবি দিতে বলে। শাশুড়ী চাবি দিতে অস্বীকার করলে ঘরের দরজা বন্ধ করে শাশুড়ীকে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি রক্তাক্ত জখম করে। শাশুড়ীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘরের দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও পরে তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনার মমলায় অনামিকা জেলহাজতে।