ঢাকা ১১:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শাকিব খানের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা

বিনোদন ডেস্ক
  • Update Time : ১১:৪৭:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৩
  • / ২১৩ Time View

চলচ্চিত্রনায়ক শাকিব খানের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, মিথ্যা আশ্বাস ও সহ-নারী প্রযোজককে ধর্ষণের মতো গুরুতর বিষয়ে লিখিত অভিযোগের পর এবার ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করলেন ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ সিনেমার প্রযোজক রহমত উল্লাহ।

রোববার (৩০ এপ্রিল) ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ মাসুদুল হকের আদালতে এ মামলা করেন তিনি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কোর্ট ফি দাখিলের জন্য আগামী ১৫ মে তারিখ ধার্য করেছেন।

গত ১৩ এপ্রিল মানহানির অভিযোগ এনে চিত্রনায়ক শাকিব খানের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা করেন প্রযোজক মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন।

গত ১৬ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াতের আদালতে রহমত উল্লাহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আবেদন করেন। তবে আদালত মামলাটি খারিজের আদেশ দেন।

গত ২৩ মার্চ চাঁদা দাবি, হত্যার হুমকির অভিযোগে মোহাম্মদ রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে সিএমএম আদালতে মামলা করেন নায়ক শাকিব খান। এরপর ২৭ মার্চ ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন শাকিব খান। মামলার অভিযোগের বিষয়টি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

এর আগে, গণমাধ্যমের কাছে রহমত উল্লাহকে বাটপার-প্রতারক ও আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে রহমত উল্লাহর পক্ষে শাকিব খানকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান আইনজীবী ড. মো. তবারক হোসেন ভূঁঞা।

এদিকে প্রযোজকের নামে মানহানি মামলা করতে গত ১৮ মার্চ রাতে গুলশান থানায় যান শাকিব খান। সেখানে মামলা নেওয়া হয়নি। পরের দিন ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন এবং পরবর্তীতে চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে প্রযোজক রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে গত ২৩ মার্চ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাতুল রাকিবের আদালতে মামলা করেন শাকিব খান। বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করে ২৬ এপ্রিল আসামিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন আদালত। ওই মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন পেয়েছেন রহমত উল্লাহ। পরবর্তীতে রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ঢাকা ট্রাইব্যুনালে আরেকটি মামলা করেন শাকিব খান।

মামলার শুনানি শেষে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এএম জুলফিকার হায়েত শাকিব খানের জবানবন্দি রেকর্ড করেন, অভিযোগ আমলে নেন এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এ প্রসঙ্গে প্রযোজক রহমত উল্লাহ বলেন, ‘আইনের প্রতি শতভাগ আমার আস্থা রয়েছে বলেই আমি অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে এসেছি। শাকিব খানের করা একটি মিথ্যা মামলায় আদালত আমাকে জামিন দিয়েছে। শাকিব খান আমার বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা গল্প তৈরি করেছে তা আইনিভাবেই আমি মোকাবিলা করব। তাই আমি এই মানহানি মামলাটি করেছি। আমার বিশ্বাস আমি সুবিচার পাব। আইনের প্রতি সেই আস্থা আমার আছে। আমার জায়গা থেকেও আমি শতভাগ সৎ ও আত্মবিশ্বাসী। ’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী সমিতি ও ক্যামেরাম্যান সমিতি বরাবর গত ১৫ মার্চ বিকালে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাঙালি এই প্রযোজক সশরীরে এফডিসিতে উপস্থিত হয়ে শাকিব খানের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, মিথ্যা আশ্বাস ও সহ-নারী প্রযোজককে ধর্ষণের মতো গুরুতর বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। নির্মিতব্য ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ (২০১৭) সিনেমায় অসদাচরণ, মিথ্যা আশ্বাস, ধর্ষণ (মামলা নং: ৬২৪৯৪৯৫৯) এবং পেশাগত অবহেলার মাধ্যমে চলচ্চিত্রটির ক্ষতি সাধন, চলচ্চিত্রের শুটিং সম্পন্ন করতে অথবা লগ্নিকৃত অর্থ ফিরিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় নিরুপায় হয়ে অভিযোগ করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন রহমত উল্লাহ।

এদিকে নিজের নিরাপত্তার জন্য (২৫ এপ্রিল) আদাবর থানায় শাকিব খানের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন রহমত উল্লাহ।

Please Share This Post in Your Social Media

শাকিব খানের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা

Update Time : ১১:৪৭:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৩

চলচ্চিত্রনায়ক শাকিব খানের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, মিথ্যা আশ্বাস ও সহ-নারী প্রযোজককে ধর্ষণের মতো গুরুতর বিষয়ে লিখিত অভিযোগের পর এবার ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করলেন ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ সিনেমার প্রযোজক রহমত উল্লাহ।

রোববার (৩০ এপ্রিল) ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ মাসুদুল হকের আদালতে এ মামলা করেন তিনি। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে কোর্ট ফি দাখিলের জন্য আগামী ১৫ মে তারিখ ধার্য করেছেন।

গত ১৩ এপ্রিল মানহানির অভিযোগ এনে চিত্রনায়ক শাকিব খানের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা করেন প্রযোজক মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন।

গত ১৬ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াতের আদালতে রহমত উল্লাহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আবেদন করেন। তবে আদালত মামলাটি খারিজের আদেশ দেন।

গত ২৩ মার্চ চাঁদা দাবি, হত্যার হুমকির অভিযোগে মোহাম্মদ রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে সিএমএম আদালতে মামলা করেন নায়ক শাকিব খান। এরপর ২৭ মার্চ ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন শাকিব খান। মামলার অভিযোগের বিষয়টি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

এর আগে, গণমাধ্যমের কাছে রহমত উল্লাহকে বাটপার-প্রতারক ও আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে রহমত উল্লাহর পক্ষে শাকিব খানকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান আইনজীবী ড. মো. তবারক হোসেন ভূঁঞা।

এদিকে প্রযোজকের নামে মানহানি মামলা করতে গত ১৮ মার্চ রাতে গুলশান থানায় যান শাকিব খান। সেখানে মামলা নেওয়া হয়নি। পরের দিন ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন এবং পরবর্তীতে চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে প্রযোজক রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে গত ২৩ মার্চ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাতুল রাকিবের আদালতে মামলা করেন শাকিব খান। বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করে ২৬ এপ্রিল আসামিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন আদালত। ওই মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন পেয়েছেন রহমত উল্লাহ। পরবর্তীতে রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ঢাকা ট্রাইব্যুনালে আরেকটি মামলা করেন শাকিব খান।

মামলার শুনানি শেষে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এএম জুলফিকার হায়েত শাকিব খানের জবানবন্দি রেকর্ড করেন, অভিযোগ আমলে নেন এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এ প্রসঙ্গে প্রযোজক রহমত উল্লাহ বলেন, ‘আইনের প্রতি শতভাগ আমার আস্থা রয়েছে বলেই আমি অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে এসেছি। শাকিব খানের করা একটি মিথ্যা মামলায় আদালত আমাকে জামিন দিয়েছে। শাকিব খান আমার বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা গল্প তৈরি করেছে তা আইনিভাবেই আমি মোকাবিলা করব। তাই আমি এই মানহানি মামলাটি করেছি। আমার বিশ্বাস আমি সুবিচার পাব। আইনের প্রতি সেই আস্থা আমার আছে। আমার জায়গা থেকেও আমি শতভাগ সৎ ও আত্মবিশ্বাসী। ’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী সমিতি ও ক্যামেরাম্যান সমিতি বরাবর গত ১৫ মার্চ বিকালে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাঙালি এই প্রযোজক সশরীরে এফডিসিতে উপস্থিত হয়ে শাকিব খানের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, মিথ্যা আশ্বাস ও সহ-নারী প্রযোজককে ধর্ষণের মতো গুরুতর বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। নির্মিতব্য ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ (২০১৭) সিনেমায় অসদাচরণ, মিথ্যা আশ্বাস, ধর্ষণ (মামলা নং: ৬২৪৯৪৯৫৯) এবং পেশাগত অবহেলার মাধ্যমে চলচ্চিত্রটির ক্ষতি সাধন, চলচ্চিত্রের শুটিং সম্পন্ন করতে অথবা লগ্নিকৃত অর্থ ফিরিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় নিরুপায় হয়ে অভিযোগ করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন রহমত উল্লাহ।

এদিকে নিজের নিরাপত্তার জন্য (২৫ এপ্রিল) আদাবর থানায় শাকিব খানের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন রহমত উল্লাহ।