ঢাকা ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ
কিশোরগঞ্জে ২০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে কাজ করছেঃ সিলেটে বিচারপতি মো. নিজামুল হক গাইবান্ধায় তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব কংক্রিটের ইট গাইবান্ধায় মামলা প্রত্যাহার ও পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন সিলেট প্রেসক্লাব নির্বাচনে সভাপতি ইকরামুল কবির, সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ঝালকাঠিতে ট্রাকচাপায় ১৪ জন নিহতের ঘটনায় চালক-হেলপার কারাগারে সূর্যের প্রখরতা আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ বিএনপির লক্ষ্য একাত্তর মুছে সাত চল্লিশে ফিরে যাওয়া: শাহরিয়ার কবির  হানিমুনে যাওয়া হলো না নবদম্পতির, একই পরিবারের ৬ জন নিহত ঝালকাঠিতে ট্রাকচাপায় নিহত ১৪ জনের মরদেহ হস্তান্তর

রাজউক কর্তৃক মেডলার ফ্যাশন লিমিটেডকে ৮৫ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা জরিমানা

Reporter Name
  • Update Time : ০১:১৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ মে ২০২৩
  • / ১২৫ Time View

স্টাফ রিপোর্টার : মেডলার ফ্যাশন লিমিটেড, ওপেক্স-সিনহা গ্রুপের একটি বাণিজ্যিক অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

রাজউক হতে ৬১, ৬৩, ৬৫ ও ৬৭ নং বাণিজ্যিক প্লটগুলো, মোট ৮০ কাঠা মেডলার ফ্যাশনের নামে ২০০৩ সালে বিএনপি সরকারের আমলে ৯ কোটি ৬৪ লক্ষ ৮ হাজার ৮০ টাকায় বরাদ্দ দেয়া হয়। প্লটগুলো নিকুঞ্জ (উত্তর) এয়ারপোর্ট রোড সংলগ্ন বিমানবন্দরের খুব কাছে অবস্থিত।

ন্যাম সম্মেলনের জন্য ঐ সময় বিভিন্ন দেশ হতে ভিআইপিদের বিমানবন্দরের কাছাকাছি থাকার জন্য আন্তর্জাতিকমানের একটি পাঁচ তারকা হোটেল তৈরীর লক্ষ্যে এই প্লটগুলো মেডলার ফ্যাশন লিমিটেডকে বরাদ্দ দেয়া হয়। অথচ এই গ্রুপটির আন্তর্জাতিকমানের হোটেল পরিচালনার কোন অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা নেই।

রাজউকের সাথে শর্তানুযায়ী মেডলার ফ্যাশন লিমিটেড ২০০৩ সালেই হোটেলটি তৈরীর করার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ ২১ বছর যাবত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত ৮০ কাঠার বাণিজ্যিক প্লটগুলোতে হোটেল নির্মাণতো দূরের কথা, একটি স্থাপনাও তৈরী করেনি এই প্রতিষ্ঠান। রাজউক মাঝেমধ্যে উক্ত প্রতিষ্ঠানকে ৮০ কাঠার প্লটে ইমারত নির্মাণের জন্য তাগিদ প্রদান করতো। কিন্তু মেডলার ফ্যাশন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোন কর্ণপাত করেনি। যার ফলে দীর্ঘ ২১ বছর যাবত প্লটগুলো অবহেলিত অবস্থায় খালি পড়ে আছে।

অথচ চুক্তিপত্র অনুযায়ী কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে প্লট বরাদ্দ দেয়া হলে, রাজউকের শর্তাবলী না মানলে বা রাজউকের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে বরাদ্দকৃত ঐ প্লট বাতিলের ক্ষমতা রাজউকের এককভাবে রয়েছে। কোন অদৃশ্য কারণে রাজউক এই প্লটগুলোর ব্যাপারে এ যাবত কোন কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করেনি-তা মোটেও বোধগম্য নয়। তবে রাজউক চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল শর্ত মোতাবেক ইমারত নির্মাণ না করায় ৮৫ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য্য করে মেডলার ফ্যাশন লিমিটেডের কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি ইস্যু করে। পত্র জারির তারিখ হতে ১ মাসের মধ্যে জরিমানার সমুদয় টাকা পরিশোধ করার জন্য রাজউকের নির্দেশ রয়েছে।

এমতাবস্থায় মেডলার ফ্যাশন লিমিটেড কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে।

জানা গেছে, রাজউকের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহযোগিতায় জরিমানার এই বিপুল অংকের টাকা পরিশোধ না করার জন্য মেডলার ফ্যাশন লিমিটেডের কর্তাব্যক্তিরা উপায় খুঁজছেন ও রাজউককে ম্যানেজ করার জন্য লবিং করছে।

যেহেতু ন্যাম সম্মেলন হয়নি, মেডলার ফ্যাশন লিমিটেডও কোন হোটেল তৈরী করেনি, তাহলে রাজউকের শর্তানুযায়ী ৮০ কাঠার প্লটটির বরাদ্দ বাতিল করার এখতিয়ার রাজউকের রয়েছে। রাজউক বরাদ্দ বাতিল করে দেশী/বিদেশী উদ্যোক্তাকে পুনরায় বরাদ্দ প্রদান করে বাণিজ্যিক কর্মকান্ড পরিচালনা করার জন্য উৎসাহিত করতে পারে।

আন্তর্জাতিকমানের হোটেল কিংবা যেকোন আধুনিক প্রকল্প এখানে করা হলে বহু লোকের কর্মসংস্থান হবে এবং আর্থ সামাজিক উন্নয়নে এখানে স্থাপিত প্রকল্প অগ্রণী ভূমিকা রাখবে ও দেশের ভাবমূর্তি আরও বাড়বে।

জানা যায় যে, ওপেক্স-সিনহা গ্রুপ এখন প্রায় মৃত। এই গ্রুপের সবকটি প্রকল্প অর্থের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে এবং হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণে গ্রুপটি দিশেহারা। এমতাবস্থায় এই গ্রুপের পক্ষে নতুন কোন প্রকল্প স্থাপন করা সম্ভব নয় বলে প্রতীয়মান।

Please Share This Post in Your Social Media

রাজউক কর্তৃক মেডলার ফ্যাশন লিমিটেডকে ৮৫ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা জরিমানা

Update Time : ০১:১৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ মে ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার : মেডলার ফ্যাশন লিমিটেড, ওপেক্স-সিনহা গ্রুপের একটি বাণিজ্যিক অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।

রাজউক হতে ৬১, ৬৩, ৬৫ ও ৬৭ নং বাণিজ্যিক প্লটগুলো, মোট ৮০ কাঠা মেডলার ফ্যাশনের নামে ২০০৩ সালে বিএনপি সরকারের আমলে ৯ কোটি ৬৪ লক্ষ ৮ হাজার ৮০ টাকায় বরাদ্দ দেয়া হয়। প্লটগুলো নিকুঞ্জ (উত্তর) এয়ারপোর্ট রোড সংলগ্ন বিমানবন্দরের খুব কাছে অবস্থিত।

ন্যাম সম্মেলনের জন্য ঐ সময় বিভিন্ন দেশ হতে ভিআইপিদের বিমানবন্দরের কাছাকাছি থাকার জন্য আন্তর্জাতিকমানের একটি পাঁচ তারকা হোটেল তৈরীর লক্ষ্যে এই প্লটগুলো মেডলার ফ্যাশন লিমিটেডকে বরাদ্দ দেয়া হয়। অথচ এই গ্রুপটির আন্তর্জাতিকমানের হোটেল পরিচালনার কোন অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা নেই।

রাজউকের সাথে শর্তানুযায়ী মেডলার ফ্যাশন লিমিটেড ২০০৩ সালেই হোটেলটি তৈরীর করার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ ২১ বছর যাবত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত ৮০ কাঠার বাণিজ্যিক প্লটগুলোতে হোটেল নির্মাণতো দূরের কথা, একটি স্থাপনাও তৈরী করেনি এই প্রতিষ্ঠান। রাজউক মাঝেমধ্যে উক্ত প্রতিষ্ঠানকে ৮০ কাঠার প্লটে ইমারত নির্মাণের জন্য তাগিদ প্রদান করতো। কিন্তু মেডলার ফ্যাশন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোন কর্ণপাত করেনি। যার ফলে দীর্ঘ ২১ বছর যাবত প্লটগুলো অবহেলিত অবস্থায় খালি পড়ে আছে।

অথচ চুক্তিপত্র অনুযায়ী কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে প্লট বরাদ্দ দেয়া হলে, রাজউকের শর্তাবলী না মানলে বা রাজউকের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে বরাদ্দকৃত ঐ প্লট বাতিলের ক্ষমতা রাজউকের এককভাবে রয়েছে। কোন অদৃশ্য কারণে রাজউক এই প্লটগুলোর ব্যাপারে এ যাবত কোন কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করেনি-তা মোটেও বোধগম্য নয়। তবে রাজউক চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল শর্ত মোতাবেক ইমারত নির্মাণ না করায় ৮৫ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য্য করে মেডলার ফ্যাশন লিমিটেডের কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি ইস্যু করে। পত্র জারির তারিখ হতে ১ মাসের মধ্যে জরিমানার সমুদয় টাকা পরিশোধ করার জন্য রাজউকের নির্দেশ রয়েছে।

এমতাবস্থায় মেডলার ফ্যাশন লিমিটেড কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে।

জানা গেছে, রাজউকের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহযোগিতায় জরিমানার এই বিপুল অংকের টাকা পরিশোধ না করার জন্য মেডলার ফ্যাশন লিমিটেডের কর্তাব্যক্তিরা উপায় খুঁজছেন ও রাজউককে ম্যানেজ করার জন্য লবিং করছে।

যেহেতু ন্যাম সম্মেলন হয়নি, মেডলার ফ্যাশন লিমিটেডও কোন হোটেল তৈরী করেনি, তাহলে রাজউকের শর্তানুযায়ী ৮০ কাঠার প্লটটির বরাদ্দ বাতিল করার এখতিয়ার রাজউকের রয়েছে। রাজউক বরাদ্দ বাতিল করে দেশী/বিদেশী উদ্যোক্তাকে পুনরায় বরাদ্দ প্রদান করে বাণিজ্যিক কর্মকান্ড পরিচালনা করার জন্য উৎসাহিত করতে পারে।

আন্তর্জাতিকমানের হোটেল কিংবা যেকোন আধুনিক প্রকল্প এখানে করা হলে বহু লোকের কর্মসংস্থান হবে এবং আর্থ সামাজিক উন্নয়নে এখানে স্থাপিত প্রকল্প অগ্রণী ভূমিকা রাখবে ও দেশের ভাবমূর্তি আরও বাড়বে।

জানা যায় যে, ওপেক্স-সিনহা গ্রুপ এখন প্রায় মৃত। এই গ্রুপের সবকটি প্রকল্প অর্থের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে এবং হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণে গ্রুপটি দিশেহারা। এমতাবস্থায় এই গ্রুপের পক্ষে নতুন কোন প্রকল্প স্থাপন করা সম্ভব নয় বলে প্রতীয়মান।