ঢাকা ১১:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

যাদের এনআইডি আছে, সবাইকে করের আওতায় আনা উচিত : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : ০২:৩৮:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ মে ২০২৩
  • / ৫৭ Time View

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি আছে, সবাইকে করের আওতায় আনতে পারলে দেশের জিডিপি বাড়বে। তাদেরই আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে—করের আওতা বাড়াতে দেশে এ রকম একটি পদ্ধতি চালু করা যায়।’

শনিবার (২৭ মে) রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) আয়োজনে অনুষ্ঠিত আবুল মাল আবদুল মুহিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফজলে কবির ও সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বক্তব্য দেন। ইআরএফ সভাপতি মোহাম্মদ রেফায়েত উল্লাহ মৃধা এতে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘সরকার প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিতের কারণে দেশ ও মানুষের মঙ্গল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মানুষের মঙ্গল চান। প্রধানমন্ত্রীর এ চাওয়া কীভাবে অর্জন করা যায়, সেই মাধ্যম বের করতেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ কারণে আমাদের দেশের চেহারা পাল্টে গেছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুহিত ভাই অর্থমন্ত্রী থাকার সময় আমি করের আওতা বাড়ানোর জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র যাদের আছে, তাদের সবার রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেটি হয়নি আমলাতন্ত্রের কারণে, এনআইডি যাদের আছে সবাইকে করের আওতায় আনতে পারলে কর জিডিপি রেশিও যা সাত থেকে আট শতাংশ রয়েছে, এটা বেড়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হবে।

আসছে বাজেটকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমকর্মীদের এ নিয়ে কাজ করারও পরামর্শ দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের ১৭ কোটি মানুষ। অথচ কর জিডিপির হার সাড়ে সাত থেকে আট শতাংশ। আমি ভাইকে (আবুল মাল আবদুল মুহিত) বলেছিলাম, আমেরিকায় যাদের সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড আছে তাদের ট্যাক্স দিতে হয়। যাদের আয় সাড়ে ৩ হাজার ডলারের নিচে তাদের ট্যাক্স দিতে হয় না। আর যাদের এর ওপরে তাদের ট্যাক্স দিতে হয়।

অথচ আমাদের দেশে করদাতা টিন নম্বর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। এমনকি কোম্পানি ও কর্পোরেশনগুলো টিন নম্বর করেছে। এজন্য আমি বলেছিলাম, যাদের এনআইডি আছে তাদের সবাইকে ট্যাক্স দিতে হবে। এটা সম্ভব।

আবুল মাল আবদুল মুহিতকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে আবদুল মোমেন বলেন, ২০০১ সালে হুমায়ুন রশীদ হঠাৎ মারা গেলেন। তখন আমি সৌদি আরবে চাকরিতে। তখন নেত্রী (শেখ হাসিনা) আমাকে ফোন করলেন। প্রস্তাব দিলেন নির্বাচনের জন্য। আমি রাজি না হয়ে বললাম আমার কাছে ভালো প্রার্থী আছে। নেত্রী জানতে চাইলে বললাম আমার বড় ভাই। তখন শেখ হাসিনা বলেন সে মেজাজ গরম মানুষ। পরে আমি দায়িত্ব নিলাম। মুহিত ভাইয়ের সঙ্গে কথা বললাম।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা আবুল মাল আবদুল মুহিতকে সুযোগ দিয়েছেন যে কারণে দেশে যে অর্থনৈতিক চিন্তা, অবস্থার পরিবর্তন তা সম্ভব হয়েছে। তাই এই কৃতিত্বের জন্য সবচেয়ে প্রশংসার দাবিদার শেখ হাসিনা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিত জুটির কারণে দেশ ও মানুষের মঙ্গল হয়েছে। কারণ শেখ হাসিনা মানুষের মঙ্গল চান। আর এ মঙ্গল কীভাবে অর্জন করা যায়, সেই মাধ্যম বের করতেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। একই সঙ্গে সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য এ জুটি সবসময় কাজ করেছেন। তার ফলে আজ আমাদের দেশের চেহারা পালটে গেছে। দেশ উন্নত হচ্ছে, আজ ২৪ ঘণ্টার পথ ৪৫ মিনিটে যেতে পারছি। সেটা সম্ভব হয়েছে এরকম কৃতী পুরুষ ছিল বলে। আমরা তার মাগফিরাত কামনা করছি।

সৌদিতে স্থায়ী মিশন খোলার বিষয়ে মুহিতের সহযোগিতার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সময় ২৭টি মিশন করা হয়েছে এবং কেনা হয়েছে। সৌদি আরবে ৩৭ বছর পর শেখ হাসিনার সময়ে মিশন হয়েছে। সব মিলিয়ে নিজেদের মিশন থাকার কারণে সরকারের ৪৭ হাজার ডলারের মতো সেভ হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অর্থের অভাবে মিশনগুলোতে জাতীয় দিবসগুলো উদযাপন করা হতো না। সেটা জানার পর প্রধানমন্ত্রীর সামনেই মুহিত ভাই অর্থ দেওয়ার জন্য রাজি হয়ে গেলেন।

ইআরএফের সভাপতি মোহাম্মদ রেফায়েত উল্লাহ মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফজলে কবির ও সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ।

ফজলে কবির বলেন, মুহিত স‍্যার ছিলেন একজন বড় মনের অর্থনীতিবিদ।

ইআরএফের সাধারণ সম্পাদকের আবুল কাশেম অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন ইআরএফের সদস্যরা।

Please Share This Post in Your Social Media

যাদের এনআইডি আছে, সবাইকে করের আওতায় আনা উচিত : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : ০২:৩৮:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ মে ২০২৩

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি আছে, সবাইকে করের আওতায় আনতে পারলে দেশের জিডিপি বাড়বে। তাদেরই আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে—করের আওতা বাড়াতে দেশে এ রকম একটি পদ্ধতি চালু করা যায়।’

শনিবার (২৭ মে) রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) আয়োজনে অনুষ্ঠিত আবুল মাল আবদুল মুহিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফজলে কবির ও সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বক্তব্য দেন। ইআরএফ সভাপতি মোহাম্মদ রেফায়েত উল্লাহ মৃধা এতে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘সরকার প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিতের কারণে দেশ ও মানুষের মঙ্গল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মানুষের মঙ্গল চান। প্রধানমন্ত্রীর এ চাওয়া কীভাবে অর্জন করা যায়, সেই মাধ্যম বের করতেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ কারণে আমাদের দেশের চেহারা পাল্টে গেছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুহিত ভাই অর্থমন্ত্রী থাকার সময় আমি করের আওতা বাড়ানোর জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র যাদের আছে, তাদের সবার রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেটি হয়নি আমলাতন্ত্রের কারণে, এনআইডি যাদের আছে সবাইকে করের আওতায় আনতে পারলে কর জিডিপি রেশিও যা সাত থেকে আট শতাংশ রয়েছে, এটা বেড়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হবে।

আসছে বাজেটকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমকর্মীদের এ নিয়ে কাজ করারও পরামর্শ দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের ১৭ কোটি মানুষ। অথচ কর জিডিপির হার সাড়ে সাত থেকে আট শতাংশ। আমি ভাইকে (আবুল মাল আবদুল মুহিত) বলেছিলাম, আমেরিকায় যাদের সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড আছে তাদের ট্যাক্স দিতে হয়। যাদের আয় সাড়ে ৩ হাজার ডলারের নিচে তাদের ট্যাক্স দিতে হয় না। আর যাদের এর ওপরে তাদের ট্যাক্স দিতে হয়।

অথচ আমাদের দেশে করদাতা টিন নম্বর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। এমনকি কোম্পানি ও কর্পোরেশনগুলো টিন নম্বর করেছে। এজন্য আমি বলেছিলাম, যাদের এনআইডি আছে তাদের সবাইকে ট্যাক্স দিতে হবে। এটা সম্ভব।

আবুল মাল আবদুল মুহিতকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে আবদুল মোমেন বলেন, ২০০১ সালে হুমায়ুন রশীদ হঠাৎ মারা গেলেন। তখন আমি সৌদি আরবে চাকরিতে। তখন নেত্রী (শেখ হাসিনা) আমাকে ফোন করলেন। প্রস্তাব দিলেন নির্বাচনের জন্য। আমি রাজি না হয়ে বললাম আমার কাছে ভালো প্রার্থী আছে। নেত্রী জানতে চাইলে বললাম আমার বড় ভাই। তখন শেখ হাসিনা বলেন সে মেজাজ গরম মানুষ। পরে আমি দায়িত্ব নিলাম। মুহিত ভাইয়ের সঙ্গে কথা বললাম।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা আবুল মাল আবদুল মুহিতকে সুযোগ দিয়েছেন যে কারণে দেশে যে অর্থনৈতিক চিন্তা, অবস্থার পরিবর্তন তা সম্ভব হয়েছে। তাই এই কৃতিত্বের জন্য সবচেয়ে প্রশংসার দাবিদার শেখ হাসিনা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিত জুটির কারণে দেশ ও মানুষের মঙ্গল হয়েছে। কারণ শেখ হাসিনা মানুষের মঙ্গল চান। আর এ মঙ্গল কীভাবে অর্জন করা যায়, সেই মাধ্যম বের করতেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। একই সঙ্গে সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য এ জুটি সবসময় কাজ করেছেন। তার ফলে আজ আমাদের দেশের চেহারা পালটে গেছে। দেশ উন্নত হচ্ছে, আজ ২৪ ঘণ্টার পথ ৪৫ মিনিটে যেতে পারছি। সেটা সম্ভব হয়েছে এরকম কৃতী পুরুষ ছিল বলে। আমরা তার মাগফিরাত কামনা করছি।

সৌদিতে স্থায়ী মিশন খোলার বিষয়ে মুহিতের সহযোগিতার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সময় ২৭টি মিশন করা হয়েছে এবং কেনা হয়েছে। সৌদি আরবে ৩৭ বছর পর শেখ হাসিনার সময়ে মিশন হয়েছে। সব মিলিয়ে নিজেদের মিশন থাকার কারণে সরকারের ৪৭ হাজার ডলারের মতো সেভ হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অর্থের অভাবে মিশনগুলোতে জাতীয় দিবসগুলো উদযাপন করা হতো না। সেটা জানার পর প্রধানমন্ত্রীর সামনেই মুহিত ভাই অর্থ দেওয়ার জন্য রাজি হয়ে গেলেন।

ইআরএফের সভাপতি মোহাম্মদ রেফায়েত উল্লাহ মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফজলে কবির ও সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ।

ফজলে কবির বলেন, মুহিত স‍্যার ছিলেন একজন বড় মনের অর্থনীতিবিদ।

ইআরএফের সাধারণ সম্পাদকের আবুল কাশেম অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন ইআরএফের সদস্যরা।