ঢাকা ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ
বিমানবন্দর-টঙ্গী থেকে ধারালো অস্ত্রসহ ৮ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার কিশোরগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের উন্নয়ন খাতের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সাংবাদিককে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা ও গ্র্যাজুয়েট হতে হবে বেনজীরের আরও ১১৩ দলিলের সম্পদ ও গুলশানের ৪টি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ সুজানগরে গৃহবধূকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কাউকে ছাড় দেব না : ইসি রাশেদা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে একটি বাড়ি থেকে ১২ কোটি রুপির স্বর্ণ জব্দ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণের আহ্বান প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর ঝালকাঠিতে রেমালের প্রভাবে নদীর পানি বেড়েছে ২১৭ নেতাকে বহিষ্কার করল বিএনপি

মুক্তি পেতে আরও ২৮ মামলায় জামিন লাগবে মামুনুল হকের

Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৪৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৩
  • / ২৬৯ Time View

হেফাজতের সাবেক নেতা এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ঠিক কতটি মামলা আছে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউই। আর হেফাজতে ইসলামও তার মুক্তির বিষয়ে ধীরে চলো নীতিতে আছে।

পুলিশ বলছে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা আছে প্রায় ৫০টি। কিন্তু খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক হেফাজত নেতা মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন জানান মামলা আছে ৪০টি। এরমধ্যে ১২টি মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন। তাকে মুক্তি পেতে হলে আরও ২৮ মামলায় জামিন পেতে হবে। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলার বিচার চলছে। আর মামুনুল হকের আইনজীবী জয়নুল আবেদিন মেসবাহ জানান, মামুনুল হকের ৩৫টি মামলায় তিনি আইনি সহায়তা দিচ্ছেন। এপর্যন্ত ছয়টি মামলায় চার্জশিট হয়েছে।

মামুনুল হকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে একটি ধর্ষণ মামলা, খুলনায় একটি বিস্ফোরক মামলা এবং ঢাকায় একটি হত্যা মামলায় বিচার চলছে। ২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এখনো তিনি কারাগারে আছেন। গ্রেপ্তারের সময় তিনি ছিলেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব। পরে ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হলে তাকে হেফাজতের আর কোনো কমিটিতে রাখা হয়নি।

২০২১ সালে মামুনুল হককে ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি মাদ্রাসা থেকে ২০১৩ সালের একটি নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের একটি রিসোর্টে ধর্ষণসহ মোট দুইটি মামলা হয়। তার আগে ঢাকায় তার বিরুদ্ধে মোট ১৭টি মামলা ছিলো। এরমধ্যে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় দায়ের করা ১৫টি মামলায় সে আসামি। ২০২০ সালের মার্চেও ঢাকায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

২০২১ সালের ২৩ এপ্রিল গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ৫ এপ্রিল বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এলাকায় সংঘর্ষ ও সংঘাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়। এছাড়া খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামের অনেক মামলায় মামুনুল হক আসামি। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো সিআইডি, পিবিআই এবং ডিবি তদন্ত করছে।

নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় এখন আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই মামলায় নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে মোট ২০ জন সাক্ষী দিয়েছেন। ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল বিকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার রয়্যাল রিসোর্টের একটি কক্ষে এক নারীর সঙ্গে অবরুদ্ধ হন মামুনুল হক। এই ঘটনার পর ৩০ এপ্রিল ওই নারী সোনারগাঁ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করেন।

খুলনায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের একটি মামলায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর । খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটির বিচার চলছে।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দারুসসালাম এলাকায় মোসলেম উদ্দিন হত্যা মামলায় মামুনুল হকসহ ১১০ জনের বিরুদ্ধে বিচারকাজ চলছে ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে। জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দারুসসালাম এলাকার কিয়াংসী চাইনিজ রেস্টুরেন্টের সামনে গুলি ও হাত বোমা ছোড়ে। এতে আহত হন মোসলে উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবারও ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় মামুনুল হকের জামিন চাওয়া হয়েছিলো। কিন্তু আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। ২০২০ সালের ৭ মার্চ ঢাকার মোহাম্মদপুরে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভাঙচুরের ঘটনায় ওই মামলাটি দায়ের করা হয়।

খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক হেফাজত নেতা মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন বলেন, ‘আমরা তো বার বার মামুনুল হকের জামিনের দাবি জানাচ্ছি। রমজানের মধ্যে ৩০০ ইফতার মাহফিল করেছি তার মুক্তির দাবিতে। সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছি। সম্প্রতি চট্টগ্রামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজত নেতাদের যে বৈঠক হয় সেখানেও মামুনুল হকের মুক্তির ব্যাপারে কথা হয়েছে। আমরা আশ্বাস পাচ্ছি ; কিন্তু সেটা কবে সেই প্রতিশ্রতি পাচ্ছিনা।’ তিনি জানান, তারা নতুন করে তার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি দেবেন।

তবে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, ‘আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আলাদা করে কোনো নেতার মুক্তি বা জামিন চাইনি। কারাগারে আটক সব নেতার মুক্তি চেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে মামলার তালিকা এবং সর্বশেষ অবস্থা জানানো হয়েছে। তবে আমাদের প্রায় সবাই এরইমধ্যে জামিন পেয়েছেন। এখন সর্বোচ্চ ১৩-১৪ জন কারাগারে আছেন।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মামুনুল হকের মামলা তার পরিবারের লোকজন দেখছেন। আমরা আলাদাভাবে দেখছি না। তার বিরুদ্ধে কতটি মামলা তাও আমি এখন বলতে পারব না।’

মামুনুল হকের আইনজীবী জয়নুল আবেদিন মেসবাহ বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় মামলা আছে। আমি ৩৫টি মামলা দেখছি। আমার জানামতে এ পর্যন্ত ছয়টি মামলার চার্জশিট হয়েছে। তিনটি মামলার বিচার চলছে। তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো ২০১৩ এবং ২০২০-২১ সালের। তিনি অনেক দিন ধরে কারাগারে আছেন। মামলাগুলোর তদন্তও হচ্ছে না, চার্জশিটও হচ্ছে না। শাপলা চত্বরের ঘটনার ১০ বছর হয়ে গেলেও মামলার তদন্ত শেষ করা হচ্ছে না। আমরা আইনগতভাবেই মামলাগুলো মোকাবেলা করতে চাই। কিন্তু তিনি এখন বিনা বিচারে আটক আছেন। তাই বার বার তার জামিনের চেষ্টা করছি।’

এনিয়ে ডিবিসহ পুলিশের কয়েকটি পর্যায়ে যোগাযোগ করেও বক্তব্য জানা যায়নি। তবে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘তদন্ত কেন শেষ হচ্ছে না এটা তদন্তকারীরাই ভালো বলতে পারবেন। আমাদের দিক থেকে এটা নিয়ে করার কিছু নেই।’

 

Please Share This Post in Your Social Media

মুক্তি পেতে আরও ২৮ মামলায় জামিন লাগবে মামুনুল হকের

Update Time : ০৫:৪৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৩

হেফাজতের সাবেক নেতা এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ঠিক কতটি মামলা আছে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউই। আর হেফাজতে ইসলামও তার মুক্তির বিষয়ে ধীরে চলো নীতিতে আছে।

পুলিশ বলছে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা আছে প্রায় ৫০টি। কিন্তু খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক হেফাজত নেতা মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন জানান মামলা আছে ৪০টি। এরমধ্যে ১২টি মামলায় তিনি জামিন পেয়েছেন। তাকে মুক্তি পেতে হলে আরও ২৮ মামলায় জামিন পেতে হবে। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলার বিচার চলছে। আর মামুনুল হকের আইনজীবী জয়নুল আবেদিন মেসবাহ জানান, মামুনুল হকের ৩৫টি মামলায় তিনি আইনি সহায়তা দিচ্ছেন। এপর্যন্ত ছয়টি মামলায় চার্জশিট হয়েছে।

মামুনুল হকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে একটি ধর্ষণ মামলা, খুলনায় একটি বিস্ফোরক মামলা এবং ঢাকায় একটি হত্যা মামলায় বিচার চলছে। ২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এখনো তিনি কারাগারে আছেন। গ্রেপ্তারের সময় তিনি ছিলেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব। পরে ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হলে তাকে হেফাজতের আর কোনো কমিটিতে রাখা হয়নি।

২০২১ সালে মামুনুল হককে ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি মাদ্রাসা থেকে ২০১৩ সালের একটি নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের একটি রিসোর্টে ধর্ষণসহ মোট দুইটি মামলা হয়। তার আগে ঢাকায় তার বিরুদ্ধে মোট ১৭টি মামলা ছিলো। এরমধ্যে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় দায়ের করা ১৫টি মামলায় সে আসামি। ২০২০ সালের মার্চেও ঢাকায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

২০২১ সালের ২৩ এপ্রিল গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ৫ এপ্রিল বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এলাকায় সংঘর্ষ ও সংঘাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়। এছাড়া খুলনা, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামের অনেক মামলায় মামুনুল হক আসামি। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো সিআইডি, পিবিআই এবং ডিবি তদন্ত করছে।

নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় এখন আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই মামলায় নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে মোট ২০ জন সাক্ষী দিয়েছেন। ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল বিকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার রয়্যাল রিসোর্টের একটি কক্ষে এক নারীর সঙ্গে অবরুদ্ধ হন মামুনুল হক। এই ঘটনার পর ৩০ এপ্রিল ওই নারী সোনারগাঁ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করেন।

খুলনায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের একটি মামলায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় ২০২১ সালের ১৮ অক্টোবর । খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটির বিচার চলছে।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দারুসসালাম এলাকায় মোসলেম উদ্দিন হত্যা মামলায় মামুনুল হকসহ ১১০ জনের বিরুদ্ধে বিচারকাজ চলছে ঢাকার পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে। জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দারুসসালাম এলাকার কিয়াংসী চাইনিজ রেস্টুরেন্টের সামনে গুলি ও হাত বোমা ছোড়ে। এতে আহত হন মোসলে উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবারও ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় মামুনুল হকের জামিন চাওয়া হয়েছিলো। কিন্তু আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। ২০২০ সালের ৭ মার্চ ঢাকার মোহাম্মদপুরে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভাঙচুরের ঘটনায় ওই মামলাটি দায়ের করা হয়।

খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক হেফাজত নেতা মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন বলেন, ‘আমরা তো বার বার মামুনুল হকের জামিনের দাবি জানাচ্ছি। রমজানের মধ্যে ৩০০ ইফতার মাহফিল করেছি তার মুক্তির দাবিতে। সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছি। সম্প্রতি চট্টগ্রামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজত নেতাদের যে বৈঠক হয় সেখানেও মামুনুল হকের মুক্তির ব্যাপারে কথা হয়েছে। আমরা আশ্বাস পাচ্ছি ; কিন্তু সেটা কবে সেই প্রতিশ্রতি পাচ্ছিনা।’ তিনি জানান, তারা নতুন করে তার মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি দেবেন।

তবে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী বলেন, ‘আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আলাদা করে কোনো নেতার মুক্তি বা জামিন চাইনি। কারাগারে আটক সব নেতার মুক্তি চেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে মামলার তালিকা এবং সর্বশেষ অবস্থা জানানো হয়েছে। তবে আমাদের প্রায় সবাই এরইমধ্যে জামিন পেয়েছেন। এখন সর্বোচ্চ ১৩-১৪ জন কারাগারে আছেন।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মামুনুল হকের মামলা তার পরিবারের লোকজন দেখছেন। আমরা আলাদাভাবে দেখছি না। তার বিরুদ্ধে কতটি মামলা তাও আমি এখন বলতে পারব না।’

মামুনুল হকের আইনজীবী জয়নুল আবেদিন মেসবাহ বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় মামলা আছে। আমি ৩৫টি মামলা দেখছি। আমার জানামতে এ পর্যন্ত ছয়টি মামলার চার্জশিট হয়েছে। তিনটি মামলার বিচার চলছে। তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো ২০১৩ এবং ২০২০-২১ সালের। তিনি অনেক দিন ধরে কারাগারে আছেন। মামলাগুলোর তদন্তও হচ্ছে না, চার্জশিটও হচ্ছে না। শাপলা চত্বরের ঘটনার ১০ বছর হয়ে গেলেও মামলার তদন্ত শেষ করা হচ্ছে না। আমরা আইনগতভাবেই মামলাগুলো মোকাবেলা করতে চাই। কিন্তু তিনি এখন বিনা বিচারে আটক আছেন। তাই বার বার তার জামিনের চেষ্টা করছি।’

এনিয়ে ডিবিসহ পুলিশের কয়েকটি পর্যায়ে যোগাযোগ করেও বক্তব্য জানা যায়নি। তবে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘তদন্ত কেন শেষ হচ্ছে না এটা তদন্তকারীরাই ভালো বলতে পারবেন। আমাদের দিক থেকে এটা নিয়ে করার কিছু নেই।’