ঢাকা ১১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাত ভালো করছে, আরও ভালো করবে

স্টাফ রিপোর্টার
  • Update Time : ০৫:০৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ৪৯ Time View

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাত ভালো করছে, ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের সী পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পাতে বিএসইসি এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে ‘ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কনফারেন্সের তিনি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। সামনের দিনগুলোতেও বাংলাদেশ উন্নয়নের ধারা ধরে রাখবে।

তিনি বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলে এই খাতের উন্নয়ন সাধনের অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করছে।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান চ্যালেঞ্জিং সময়ে বিনিয়োগকারীরা বেশি মুনাফা লাভ করতে না পারলেও যেন কোনোভাবেই ক্ষতির সম্মুখীন না হোন তার জন্য বিএসইসি কাজ করছে।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের শিল্পায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহার হচ্ছে যা অদূর ভবিষ্যতে আমাদের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আগামী ৫ বছর হবে বাংলাদেশের জন্য সোনালী সময় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি’র কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ এবং আবদুল হালিম।

বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিস অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডস (এএএমসিএমএফ) এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইকুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ভিসিপিইএবি) শীর্ষ কর্মকর্তা এবং প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসইসি’র কমিশনার ড. মিজানুর রহমান। তিনি বাংলাদেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন।

তিনি এশিয়া ও পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশের সঙ্গে দেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি বাংলাদেশে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন এবং সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে দেশে এই খাতকে আরও বর্ধিত করা যায় সে বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেন।

দেশে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের সম্প্রসারণের জন্য আগামীতে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিধিবিধান ও নীতি সংশ্লিষ্ট পুনর্গঠন প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতকে বিকশিত করতে দেশের পুঁজিবাজারের ইক্যুইটি মার্কেটেরও উন্নয়ন প্রয়োজন এবং তার জন্য দেশের পুঁজিবাজারের ভালো কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তি প্রয়োজন।

তিনি ভালো কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারের নিয়ে আসতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সচেষ্ট হতে অনুরোধ করেন।

কমিশনার আবদুল হালিম বলেন, আমাদের জাতীয় অর্থনীতির তুলনায় দেশের পুঁজিবাজার এখনো অনেক খানি পিছিয়ে রয়েছে।

আমরা দেশের পুঁজিবাজারকে উন্নত ও স্মার্ট পুঁজিবাজারে পরিণত করতে কাজ করছি।তিনি অংশীজনদের সকলকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে এই খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিস্তার ঘটানোর মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে বিকশিত করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বাংলাদেশে মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির উন্নয়নে সকল অংশীজনের সঙ্গে কাজ করার কথা বলেন এবং দেশের বিনিয়োগকারীদের কাছে মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে জনপ্রিয় করতে ডিএসই কাজ করছে বলে জানান।

অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানিজস অ্যান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের (এএএমসিএমএফ) সভাপতি হাসান ইমাম বলেন, বিশ্বে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৩০০ বছরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে।

অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিরা একই সঙ্গে দেশের পুঁজিবাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী এবং পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বৃহৎ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী।

তিনি সকলকে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর উত্তরণে কাজ করার অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় টেকনোলজি ফর ট্রান্সপারেন্ট অ্যান্ড লিকিউডিটি অব মিউচ্যুয়াল ফান্ডস অ্যান্ড আদার কালেকটিভ ইনভেস্টমেন্ট স্কিমস শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্যানেল আলোচনায় আলোচক হিসেবে অংশ নেন এএএমসিএমএফের প্রেসিডেন্ট হাসান ইমাম, ভিসিপিইএবির চেয়ারম্যান শামীম আহসান, ডিএসই সিআরও আবু তাহের মোহাম্মদ খায়রুল বাশার এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম ফারুক।

Please Share This Post in Your Social Media

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাত ভালো করছে, আরও ভালো করবে

Update Time : ০৫:০৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাত ভালো করছে, ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজারের সী পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পাতে বিএসইসি এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) যৌথ উদ্যোগে কক্সবাজারে ‘ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কনফারেন্সের তিনি এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। সামনের দিনগুলোতেও বাংলাদেশ উন্নয়নের ধারা ধরে রাখবে।

তিনি বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলে এই খাতের উন্নয়ন সাধনের অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করছে।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান চ্যালেঞ্জিং সময়ে বিনিয়োগকারীরা বেশি মুনাফা লাভ করতে না পারলেও যেন কোনোভাবেই ক্ষতির সম্মুখীন না হোন তার জন্য বিএসইসি কাজ করছে।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের শিল্পায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহার হচ্ছে যা অদূর ভবিষ্যতে আমাদের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আগামী ৫ বছর হবে বাংলাদেশের জন্য সোনালী সময় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি’র কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ এবং আবদুল হালিম।

বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিস অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডস (এএএমসিএমএফ) এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইকুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ভিসিপিইএবি) শীর্ষ কর্মকর্তা এবং প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসইসি’র কমিশনার ড. মিজানুর রহমান। তিনি বাংলাদেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন।

তিনি এশিয়া ও পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশের সঙ্গে দেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি বাংলাদেশে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন এবং সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে দেশে এই খাতকে আরও বর্ধিত করা যায় সে বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেন।

দেশে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের সম্প্রসারণের জন্য আগামীতে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিধিবিধান ও নীতি সংশ্লিষ্ট পুনর্গঠন প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতকে বিকশিত করতে দেশের পুঁজিবাজারের ইক্যুইটি মার্কেটেরও উন্নয়ন প্রয়োজন এবং তার জন্য দেশের পুঁজিবাজারের ভালো কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তি প্রয়োজন।

তিনি ভালো কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারের নিয়ে আসতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সচেষ্ট হতে অনুরোধ করেন।

কমিশনার আবদুল হালিম বলেন, আমাদের জাতীয় অর্থনীতির তুলনায় দেশের পুঁজিবাজার এখনো অনেক খানি পিছিয়ে রয়েছে।

আমরা দেশের পুঁজিবাজারকে উন্নত ও স্মার্ট পুঁজিবাজারে পরিণত করতে কাজ করছি।তিনি অংশীজনদের সকলকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে এই খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিস্তার ঘটানোর মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে বিকশিত করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বাংলাদেশে মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির উন্নয়নে সকল অংশীজনের সঙ্গে কাজ করার কথা বলেন এবং দেশের বিনিয়োগকারীদের কাছে মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে জনপ্রিয় করতে ডিএসই কাজ করছে বলে জানান।

অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কম্পানিজস অ্যান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের (এএএমসিএমএফ) সভাপতি হাসান ইমাম বলেন, বিশ্বে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ৩০০ বছরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে।

অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিরা একই সঙ্গে দেশের পুঁজিবাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী এবং পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বৃহৎ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী।

তিনি সকলকে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর উত্তরণে কাজ করার অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় টেকনোলজি ফর ট্রান্সপারেন্ট অ্যান্ড লিকিউডিটি অব মিউচ্যুয়াল ফান্ডস অ্যান্ড আদার কালেকটিভ ইনভেস্টমেন্ট স্কিমস শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্যানেল আলোচনায় আলোচক হিসেবে অংশ নেন এএএমসিএমএফের প্রেসিডেন্ট হাসান ইমাম, ভিসিপিইএবির চেয়ারম্যান শামীম আহসান, ডিএসই সিআরও আবু তাহের মোহাম্মদ খায়রুল বাশার এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম ফারুক।