ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ
সন্তানদের নতুন জামা পরিয়ে রাতে ঘর থেকে বের হয়ে আর ফিরলেন না বাবা প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতির ফলে দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মুল হয়েছেঃ সিলেটে আইজিপি বড় পরিসরে আর. কে. মিশন রোডে ব্র্যাক ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন সৌদিতে প্রথমবারের মতো সুইমস্যুট পরে র‌্যাম্পে হাঁটলেন মডেলরা ‘আয়রনম্যান’ চরিত্রে ফিরতে ‘আপত্তি নেই’ রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংসের জন্য ভারত সরকার দায়ী : কর্নেল অলি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সিরিজ নিয়ে শঙ্কা কাঠালিয়ায় ডাকাতের গুলিতে আহত ২ বিএনপি একটা জালিয়ত রাজনৈতিক দল : পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেয়র তাপস মনগড়া ও অসত্য বক্তব্য দিচ্ছেন : সাঈদ খোকন

মা-বাবাসহ ১৭ জনকে হারিয়ে বেঁচে ফেরা পাভেল ভালো নেই

কামরুল হাসান টিটু,রংপুর
  • Update Time : ০৮:২৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জুন ২০২৩
  • / ৯৩ Time View

‘ডাক্তাররা মৃত ভেবে পলিথিন দিয়ে আমার দেহকে মুড়িয়েছিল। পরে আমার হাত-পা নাড়াতে দেখে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখেন। পুরো তিন মাস অচেতন থাকার পর আল্লাহর রহমতে জ্ঞান ফিরেছে। এখন কিছুটা সুস্থ হলেও আমার অনেক কিছুই মনে থাকে না। আমার স্মরণশক্তি অনেকটা লোপ পেতে বসেছে।’

কথাগুলো বলছিলেন ১৯ বছরের তরুণ পাভেল রহমান। তার বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দ্বাড়িকাপাড়া গ্রামে। তিনি রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। ২০২১ সালের ২৬ মার্চ রাজশাহীর কাটাখালীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়। ওই দুর্ঘটনায় বাবা মোখলেসুর রহমান ও মা পারভীন বেগমসহ নিকট আত্মীয়দের হারিয়েছেন। সেদিন মাইক্রোবাসের চালকসহ সবার মৃত্যু হলেও বিস্ময়করভাবে বেঁচে গেছেন পাভেল।

এই প্রতিবেদকের কাছে দুই বছর আগের সেই রোমহর্ষক ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পাভেল রহমান। চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু মুছতে মুছতে পাভেল বলেন, সেদিন মাইক্রোবাসে ওঠার পর একটি সেলফি তুলে ফেসবুকের ‘মাই ডে’ করেছিলাম। তাতে লিখেছিলাম ‘গোয়িং টু রাজশাহী’। রাজশাহীতে পিকনিকে গিয়েই ঘটে ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। আমি ওই দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গেলেও ওই সময়টা আমি অজ্ঞান ছিলাম। পরে জানতে পেরেছি বাবা ও মাসহ আত্মীয়-স্বজনদের অনেককে হারিয়েছি।

২০২১ সালের ২৬ মার্চ ছিল শুক্রবার। সেদিন দুপুর পৌনে ২টার দিকে রাজশাহী নগরীর কাটাখালী থানার সামনে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে বাস-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটিতে আগুন লেগে যায়। দুর্ঘটনার পর আটজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এদের মধ্যে ছয়জন মারা যান। পরে আগুনে পোড়া মাইক্রোবাস থেকে নারী ও শিশুসহ ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ওই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতরা সবাই রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা। এদের মধ্যে ১ নম্বর চৈত্রকোল ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি গ্রামের পাঁচজন (একই পরিবারের), ১৩ নম্বর রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় মহাজিদপুর গ্রামের ছয়জন (একই পরিবারের পাঁচজন), ৮ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের দ্বাড়িকাপাড়া গ্রামের তিনজন (একই পরিবারের) ও পৌর এলাকার প্রজাপাড়ার একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন।

রাজশাহীর আলোচিত ওই সড়ক দুর্ঘটনায় জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা এতিম পাভেল এখন নিঃস্ব। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী বাবা ও মাকে অকালে হারিয়ে এখন অর্থাভাবে পারছেন না নিজের চিকিৎসা করাতে। লেখাপড়ার খরচ জোগাতেও হিমশিম খাচ্ছেন। অথচ বছর দুয়েক আগে যে পাভেল ছিল কলেজের সেরা ছাত্র, আজ সেই পাভেল লেখাপড়ায় সবার চেয়ে পিছিয়ে।

জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে সৃষ্টিকর্তা পাভেল রহমানকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এতিম পাভেল হারিয়েছেন তার সবচেয়ে আস্থা, ভরসা এবং নির্ভরতার মা-বাবাকে।

পাভেল রহমান বলেন, দুর্ঘটনার তিন-চার মাস পর জানতে পারি আমার মা-বাবা কেউই বেঁচে নেই। কতটা কষ্ট পেয়েছি, আঘাত পেয়েছি, তা একমাত্র আল্লাহ জানেন। এখন আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই। আমার পড়ালেখা নিয়মিত করে মা-বাবার স্বপ্ন পূরণে কিছু করতে চাই। কিন্তু আমার জন্য এখন পড়ালেখার খরচাপাতি এবং বাড়ির খরচ চালানো খুব কষ্টকর। আমি তো ওই দুর্ঘটনার পর কারো কাছ থেকে কোনো আর্থিক সহায়তা পাইনি। আর যার জন্য আমার জীবন এলোমেলো হয়ে গেল, এতগুলো মানুষ অকালে মারা গেল তার (বাসচালক) বিচার আজো হয়নি।

পাভেল রহমানের দাদি খুকু মনি বলেন, আমার ছেলে মোখলেসুর ও বউমা পারভীন বেঁচে থাকাকালীন পাভেল খুব ভালো ছাত্র ছিল। তার বাবা কোনো দিন তাকে অভাব কী জিনিস বুঝতে দেয়নি। সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যুর পর যে অবশিষ্ট অর্থ ছিল তা পাভেলকে বাঁচাতেই শেষ হয়ে গেছে। এখন ওর চিকিৎসা খরচ, লেখাপড়ার খরচসহ অন্যান্য খরচাপাতি কীভাবে আসবে, বাকি জীবনটাইবা কীভাবে কাটাবে তা নিয়েও চরম হতাশায় ভুগছি ।

তিনি আরও বলেন, ওই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা সারাদেশের মানুষকে মর্মাহত করে তুলেছিল। অথচ এই মর্মান্তিক রোমহর্ষক ঘটনার দুই বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কেউ কোনো ধরনের সহযোগিতা করেনি।

পাভেলের চাচাতো ভাই সাগর মিয়া বলেন, পাভেলের জীবনে যে কী ঘটে গেছে তা এখনো সে ভুলতে পারেনি। তার মা নেই, বাবা নেই, আমাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন নেই। গ্রামের অনেক চেনা মানুষকে আমরা অসময়ে হারিয়ে ফেলেছি। পাভেলের বাঁচার কথা ছিল না, আল্লাহ ওকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এখন ওর সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

পাভেলের ফুফু মোহনা আক্তার জান্নাতি ও শিউলি বেগম বলেন, সাংবাদিকরা যদি লেখুনীর মাধ্যমে সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিকট পাভেল রহমানের কষ্টময় জীবনের গল্প তুলে ধরেন, তাহলে পাভেলের চিকিৎসা ও লেখাপড়ার খরচ চালাতে কিছুটা হলেও কষ্ট দূর হবে। তারা পাভেলের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানান।

পাভেল রহমানের শারীরিক ও মানসিক বিষয়ে রংপুর পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, পাভেল দুই বছর থেকে পড়াশোনা করছে। কিন্তু তার স্মৃতিশক্তি আগের মতো নেই, এখনই তার উন্নত চিকিৎসা না করালে তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যাবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মা-বাবাসহ ১৭ জনকে হারিয়ে বেঁচে ফেরা পাভেল ভালো নেই

Update Time : ০৮:২৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জুন ২০২৩

‘ডাক্তাররা মৃত ভেবে পলিথিন দিয়ে আমার দেহকে মুড়িয়েছিল। পরে আমার হাত-পা নাড়াতে দেখে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখেন। পুরো তিন মাস অচেতন থাকার পর আল্লাহর রহমতে জ্ঞান ফিরেছে। এখন কিছুটা সুস্থ হলেও আমার অনেক কিছুই মনে থাকে না। আমার স্মরণশক্তি অনেকটা লোপ পেতে বসেছে।’

কথাগুলো বলছিলেন ১৯ বছরের তরুণ পাভেল রহমান। তার বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দ্বাড়িকাপাড়া গ্রামে। তিনি রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। ২০২১ সালের ২৬ মার্চ রাজশাহীর কাটাখালীতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়। ওই দুর্ঘটনায় বাবা মোখলেসুর রহমান ও মা পারভীন বেগমসহ নিকট আত্মীয়দের হারিয়েছেন। সেদিন মাইক্রোবাসের চালকসহ সবার মৃত্যু হলেও বিস্ময়করভাবে বেঁচে গেছেন পাভেল।

এই প্রতিবেদকের কাছে দুই বছর আগের সেই রোমহর্ষক ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পাভেল রহমান। চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু মুছতে মুছতে পাভেল বলেন, সেদিন মাইক্রোবাসে ওঠার পর একটি সেলফি তুলে ফেসবুকের ‘মাই ডে’ করেছিলাম। তাতে লিখেছিলাম ‘গোয়িং টু রাজশাহী’। রাজশাহীতে পিকনিকে গিয়েই ঘটে ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। আমি ওই দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গেলেও ওই সময়টা আমি অজ্ঞান ছিলাম। পরে জানতে পেরেছি বাবা ও মাসহ আত্মীয়-স্বজনদের অনেককে হারিয়েছি।

২০২১ সালের ২৬ মার্চ ছিল শুক্রবার। সেদিন দুপুর পৌনে ২টার দিকে রাজশাহী নগরীর কাটাখালী থানার সামনে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে বাস-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটিতে আগুন লেগে যায়। দুর্ঘটনার পর আটজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এদের মধ্যে ছয়জন মারা যান। পরে আগুনে পোড়া মাইক্রোবাস থেকে নারী ও শিশুসহ ১১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ওই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতরা সবাই রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা। এদের মধ্যে ১ নম্বর চৈত্রকোল ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি গ্রামের পাঁচজন (একই পরিবারের), ১৩ নম্বর রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় মহাজিদপুর গ্রামের ছয়জন (একই পরিবারের পাঁচজন), ৮ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের দ্বাড়িকাপাড়া গ্রামের তিনজন (একই পরিবারের) ও পৌর এলাকার প্রজাপাড়ার একই পরিবারের তিনজন রয়েছেন।

রাজশাহীর আলোচিত ওই সড়ক দুর্ঘটনায় জীবন নিয়ে বেঁচে থাকা এতিম পাভেল এখন নিঃস্ব। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী বাবা ও মাকে অকালে হারিয়ে এখন অর্থাভাবে পারছেন না নিজের চিকিৎসা করাতে। লেখাপড়ার খরচ জোগাতেও হিমশিম খাচ্ছেন। অথচ বছর দুয়েক আগে যে পাভেল ছিল কলেজের সেরা ছাত্র, আজ সেই পাভেল লেখাপড়ায় সবার চেয়ে পিছিয়ে।

জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে সৃষ্টিকর্তা পাভেল রহমানকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এতিম পাভেল হারিয়েছেন তার সবচেয়ে আস্থা, ভরসা এবং নির্ভরতার মা-বাবাকে।

পাভেল রহমান বলেন, দুর্ঘটনার তিন-চার মাস পর জানতে পারি আমার মা-বাবা কেউই বেঁচে নেই। কতটা কষ্ট পেয়েছি, আঘাত পেয়েছি, তা একমাত্র আল্লাহ জানেন। এখন আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই। আমার পড়ালেখা নিয়মিত করে মা-বাবার স্বপ্ন পূরণে কিছু করতে চাই। কিন্তু আমার জন্য এখন পড়ালেখার খরচাপাতি এবং বাড়ির খরচ চালানো খুব কষ্টকর। আমি তো ওই দুর্ঘটনার পর কারো কাছ থেকে কোনো আর্থিক সহায়তা পাইনি। আর যার জন্য আমার জীবন এলোমেলো হয়ে গেল, এতগুলো মানুষ অকালে মারা গেল তার (বাসচালক) বিচার আজো হয়নি।

পাভেল রহমানের দাদি খুকু মনি বলেন, আমার ছেলে মোখলেসুর ও বউমা পারভীন বেঁচে থাকাকালীন পাভেল খুব ভালো ছাত্র ছিল। তার বাবা কোনো দিন তাকে অভাব কী জিনিস বুঝতে দেয়নি। সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যুর পর যে অবশিষ্ট অর্থ ছিল তা পাভেলকে বাঁচাতেই শেষ হয়ে গেছে। এখন ওর চিকিৎসা খরচ, লেখাপড়ার খরচসহ অন্যান্য খরচাপাতি কীভাবে আসবে, বাকি জীবনটাইবা কীভাবে কাটাবে তা নিয়েও চরম হতাশায় ভুগছি ।

তিনি আরও বলেন, ওই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা সারাদেশের মানুষকে মর্মাহত করে তুলেছিল। অথচ এই মর্মান্তিক রোমহর্ষক ঘটনার দুই বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কেউ কোনো ধরনের সহযোগিতা করেনি।

পাভেলের চাচাতো ভাই সাগর মিয়া বলেন, পাভেলের জীবনে যে কী ঘটে গেছে তা এখনো সে ভুলতে পারেনি। তার মা নেই, বাবা নেই, আমাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন নেই। গ্রামের অনেক চেনা মানুষকে আমরা অসময়ে হারিয়ে ফেলেছি। পাভেলের বাঁচার কথা ছিল না, আল্লাহ ওকে বাঁচিয়ে রেখেছে। এখন ওর সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

পাভেলের ফুফু মোহনা আক্তার জান্নাতি ও শিউলি বেগম বলেন, সাংবাদিকরা যদি লেখুনীর মাধ্যমে সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিকট পাভেল রহমানের কষ্টময় জীবনের গল্প তুলে ধরেন, তাহলে পাভেলের চিকিৎসা ও লেখাপড়ার খরচ চালাতে কিছুটা হলেও কষ্ট দূর হবে। তারা পাভেলের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানান।

পাভেল রহমানের শারীরিক ও মানসিক বিষয়ে রংপুর পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, পাভেল দুই বছর থেকে পড়াশোনা করছে। কিন্তু তার স্মৃতিশক্তি আগের মতো নেই, এখনই তার উন্নত চিকিৎসা না করালে তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যাবে।