ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ঠাকুরপাড়ার হিন্দুপল্লীতে তাণ্ডব

মহানবীকে কটুক্তি; টিটু রায়ের ১০ বছর কারাদন্ড

কামরুল হাসান টিটু,রংপুর ব্যুরো
  • Update Time : ১০:৫৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ মে ২০২৩
  • / ২০৯ Time View

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর নামে কটুক্তিমূলক স্ট্যাটাস দেয়ায় ঘটনায় আসামি টিটু রায়কে ১০ দশ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে ওই আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও পাঁচ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ মে) দুপুরে রংপুর সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক ড. আবদুল মজিদ এই রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত টিটু রায় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আসামি টিটু রায়ের বিরুদ্ধে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার স্ট্যাটাস দিয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। তার স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে রংপুরের শলেয়াশাহ ঠাঁকুরপাড়া এলাকায় হিন্দু বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থান করে রংপুর জেলার গঙ্গচড়া থানাধীন হরকলি ঠাঁকুরপাড়ার মৃত খগেন্দ্রনাথ রায়ের ছেলে টিটু রায় ২০১৭ সালের ২৮ অক্টোবর এমডি টিটু নামে ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে মহানবী হযরত মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে কটুক্তিমূলক স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর ওই বছরের ১০ নভেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের পর টিটু রায়ের শাস্তির দাবিতে শলেয়াশাহ বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে স্থানীয় জনতা। পরে কয়েক হাজার মানুষ টিটু রায়ের বাড়িসহ ঠাঁকুরপাড়ার হিন্দুপল্লীর বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় রংপুর সদর ও গঙ্গাচড়া থানায় দুটি মামলা হয়।

এদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সরকারী কৌশলী এডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার জানান, কোনভাবেই ধর্ম অবমাননা সমীচিন নয়। এটা আইন পরিপন্থী। যা ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করে। ধর্মীয় অবমাননাকর ছবি তৈরি করে প্রচার করায় আসামী টিুট রায় কে ৫৭(২) ধারায় ১০ বছরের কারাদন্ড প্রদান করেছেন বিজ্ঞ বিচারক।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রশান্ত কুমার রায় এই রায় প্রসঙ্গে আপত্তি জানিয়ে বলেন, সাইবার ট্রাইবুনালে ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে রায় প্রদান করা হয়ে থাকে। সেই মোতাবেক ফরেনসিক রিপোর্ট থেকে টিটু রায়ের মোবাইল ডিভাইস থেকে ওই ধরণের বিতর্কিত পোস্ট দেয়ার প্রমাণ মেলেনি। আমরা মনে করি নিরক্ষর একটি ছেলের পক্ষে ফেক আইডি খুলে এই রকম পোষ্ট প্রচার করা সম্ভব নয়। বিচারক রায় দিয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

প্রসঙ্গত, মহানবীকে (সা.) নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি ও অবমাননাকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৬ নভেম্বর ঠাকুরপাড়ার মৃত খগেন রায়ের ছেলে টিটু রায়ের বিরুদ্ধে রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের শলেয়াশাহ গ্রামের মুদি দোকানি রাজু মিয়া গঙ্গাচড়া থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করেন। এরপর ৬ নভেম্বর স্থানীয় জনতা প্রশাসনকে একটি স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে টিটু রায়কে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

পরে ১০ নভেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের পর টিটু রায়ের ফাঁসির দাবিতে শলেয়াশাহ বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে স্থানীয়রা। পরে কয়েক হাজার মানুষ ঠাকুরপাড়া গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে।

এ নিয়ে স্থানীয় মুসল্লি ও গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হন পুলিশসহ ১৫ জন।এ ঘটনায় সদর ও গঙ্গাচড়া থানায় দুটি মামলা হয়। গঙ্গাচড়া থানার মামলায় ২২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মকবুল হোসেন।

Please Share This Post in Your Social Media

স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ঠাকুরপাড়ার হিন্দুপল্লীতে তাণ্ডব

মহানবীকে কটুক্তি; টিটু রায়ের ১০ বছর কারাদন্ড

Update Time : ১০:৫৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ মে ২০২৩

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর নামে কটুক্তিমূলক স্ট্যাটাস দেয়ায় ঘটনায় আসামি টিটু রায়কে ১০ দশ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে ওই আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও পাঁচ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ মে) দুপুরে রংপুর সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক ড. আবদুল মজিদ এই রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত টিটু রায় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আসামি টিটু রায়ের বিরুদ্ধে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার স্ট্যাটাস দিয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। তার স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে রংপুরের শলেয়াশাহ ঠাঁকুরপাড়া এলাকায় হিন্দু বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থান করে রংপুর জেলার গঙ্গচড়া থানাধীন হরকলি ঠাঁকুরপাড়ার মৃত খগেন্দ্রনাথ রায়ের ছেলে টিটু রায় ২০১৭ সালের ২৮ অক্টোবর এমডি টিটু নামে ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে মহানবী হযরত মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে কটুক্তিমূলক স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর ওই বছরের ১০ নভেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের পর টিটু রায়ের শাস্তির দাবিতে শলেয়াশাহ বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে স্থানীয় জনতা। পরে কয়েক হাজার মানুষ টিটু রায়ের বাড়িসহ ঠাঁকুরপাড়ার হিন্দুপল্লীর বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় রংপুর সদর ও গঙ্গাচড়া থানায় দুটি মামলা হয়।

এদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সরকারী কৌশলী এডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার জানান, কোনভাবেই ধর্ম অবমাননা সমীচিন নয়। এটা আইন পরিপন্থী। যা ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করে। ধর্মীয় অবমাননাকর ছবি তৈরি করে প্রচার করায় আসামী টিুট রায় কে ৫৭(২) ধারায় ১০ বছরের কারাদন্ড প্রদান করেছেন বিজ্ঞ বিচারক।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রশান্ত কুমার রায় এই রায় প্রসঙ্গে আপত্তি জানিয়ে বলেন, সাইবার ট্রাইবুনালে ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে রায় প্রদান করা হয়ে থাকে। সেই মোতাবেক ফরেনসিক রিপোর্ট থেকে টিটু রায়ের মোবাইল ডিভাইস থেকে ওই ধরণের বিতর্কিত পোস্ট দেয়ার প্রমাণ মেলেনি। আমরা মনে করি নিরক্ষর একটি ছেলের পক্ষে ফেক আইডি খুলে এই রকম পোষ্ট প্রচার করা সম্ভব নয়। বিচারক রায় দিয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

প্রসঙ্গত, মহানবীকে (সা.) নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি ও অবমাননাকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগে ২০১৭ সালের ৬ নভেম্বর ঠাকুরপাড়ার মৃত খগেন রায়ের ছেলে টিটু রায়ের বিরুদ্ধে রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের শলেয়াশাহ গ্রামের মুদি দোকানি রাজু মিয়া গঙ্গাচড়া থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা করেন। এরপর ৬ নভেম্বর স্থানীয় জনতা প্রশাসনকে একটি স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে টিটু রায়কে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

পরে ১০ নভেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের পর টিটু রায়ের ফাঁসির দাবিতে শলেয়াশাহ বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে স্থানীয়রা। পরে কয়েক হাজার মানুষ ঠাকুরপাড়া গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে।

এ নিয়ে স্থানীয় মুসল্লি ও গ্রামবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হন পুলিশসহ ১৫ জন।এ ঘটনায় সদর ও গঙ্গাচড়া থানায় দুটি মামলা হয়। গঙ্গাচড়া থানার মামলায় ২২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মকবুল হোসেন।