ঢাকা ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ
পাঁচ কোটি টাকার বিনিয়োগ হারালেন আয়ামান সাদিক নোয়াখালীতে নকল ক্যাবল বিক্রির দায়ে জরিমানা কোটা সংস্কার আন্দোলনে যাওয়ায় ইবি শিক্ষার্থীকে বেধরক মারধর  পিবিআই এর দুই কর্মকর্তার বদলী জনিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত মোটরসাইকেল নিয়ে বিরোধ: নোয়াখালীতে বসতঘরে ঢুকে যুবককে গুলি করে হত্যা ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরে সওজের জায়গায় অবৈধ দখলে থাকা দোকানপাট উচ্ছেদ দুই বঙ্গকন্যা ব্রিটিশ মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়ায় বঙ্গবন্ধু লেখক-সাংবাদিক ফোরামের আনন্দ সভা নতুন আশ্রয়ণের ঘর নির্মাণে খুশী গাইবান্ধার চরাঞ্চলের মানুষ গ্যাস সংকটে চার মাস ধরে শাহজালাল সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ সুবর্ণচরে বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

মহাদেবপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ফাঁস

কাজী সাঈদ টিটো, নওগাঁ
  • Update Time : ০৬:০৯:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জুন ২০২৩
  • / ২৪৫ Time View

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের এজলাশ কক্ষে ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও ফাঁস হয়েছে। এনিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। কর্তৃপক্ষ এর কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

সংবাদ মাধ্যমের হাতে আসা ১৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মহাদেবপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের এজলাশের সামনে চেয়ারে বসা একজন কর্মচারি সেখানে থাকা এক ব্যক্তিকে বলছেন, দুই হাজার টাকা দেন। স্যার খাবে, দুই হাজার টাকা দেন’’। এরপর ওই ব্যক্তি চারটি পাঁচশ’ টাকার নোট গুনে ওই কর্মচারির হাতে দেন। তিনি টাকা হাতে নিয়ে নিজের টেবিলের ড্রয়ারে রাখেন এবং প্রশ্ন করেন কত নম্বর। ওই ব্যক্তি নম্বরটি বলেন। এরপর ওই কর্মচারি তার টেবিলে থাকা তালিকায় টিক চিহ্ন দেন।

বিষয়টি জানতে সোমবার (১৯ জুন) দুপুরে একদল সাংবাদিক সাবরেজিস্ট্রি অফিসে গেলে ওই কর্মচারি অফিস সহকারি নাসির উদ্দিন প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন। ভিডিওটি দেখানোর পরে তিনি সেটি তার নিজের বলে স্বীকার করেন।

তবে তিনি জানান, নকল নবিশদের ফিস বাবদ দলিল প্রতি নগদ ২৪০ টাকা গ্রহণ করা হয়। এটা ছাড়া অন্য কোন টাকা নেয় হয়না। কিন্তু ভিডিওতে কেন দুই হাজার টাকা নেয়া হলো তার কোন সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

উপজেলা সাবরেজিষ্ট্রার মনিরুজ্জামান মোবাইলফোনে জানান, তার অজ্ঞাতে কোন কর্মচারি অপকর্ম করলে তার দায় সাবরেজিষ্ট্রারের নয়। তবে নকল নবিশদের ফিস ছাড়া অন্য কোন নগদ টাকা লেনদেন হয়ে থাকলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন তিন যুগের বেশি সময় ধরে এই অফিসের সাথে যুক্ত। ১৯৮৪ সালে এখানে তিনি নকল নবিশ হিসেবে যোগ দেন। ২০১৬ সালে তিনি মোহরার পদে এবং এর পরপরই অফিস সহকারি হিসেবে পদোন্নতি পান। এই দীর্ঘ সময় একই অফিসে কর্মরত থাকায় এখানকার নানা অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েন। অনেক সময় তিনি নিজেই দলিল শুনানী করতেন। এছাড়া অফিসের খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ তার হাত দিয়েই করা হয়। এভাবে তিনি এই অফিসের হোতায় পরিণত হন। স্থানীয়রা অবিলম্বে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

মহাদেবপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ফাঁস

কাজী সাঈদ টিটো, নওগাঁ
Update Time : ০৬:০৯:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জুন ২০২৩

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের এজলাশ কক্ষে ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও ফাঁস হয়েছে। এনিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে। কর্তৃপক্ষ এর কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

সংবাদ মাধ্যমের হাতে আসা ১৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মহাদেবপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের এজলাশের সামনে চেয়ারে বসা একজন কর্মচারি সেখানে থাকা এক ব্যক্তিকে বলছেন, দুই হাজার টাকা দেন। স্যার খাবে, দুই হাজার টাকা দেন’’। এরপর ওই ব্যক্তি চারটি পাঁচশ’ টাকার নোট গুনে ওই কর্মচারির হাতে দেন। তিনি টাকা হাতে নিয়ে নিজের টেবিলের ড্রয়ারে রাখেন এবং প্রশ্ন করেন কত নম্বর। ওই ব্যক্তি নম্বরটি বলেন। এরপর ওই কর্মচারি তার টেবিলে থাকা তালিকায় টিক চিহ্ন দেন।

বিষয়টি জানতে সোমবার (১৯ জুন) দুপুরে একদল সাংবাদিক সাবরেজিস্ট্রি অফিসে গেলে ওই কর্মচারি অফিস সহকারি নাসির উদ্দিন প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন। ভিডিওটি দেখানোর পরে তিনি সেটি তার নিজের বলে স্বীকার করেন।

তবে তিনি জানান, নকল নবিশদের ফিস বাবদ দলিল প্রতি নগদ ২৪০ টাকা গ্রহণ করা হয়। এটা ছাড়া অন্য কোন টাকা নেয় হয়না। কিন্তু ভিডিওতে কেন দুই হাজার টাকা নেয়া হলো তার কোন সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।

উপজেলা সাবরেজিষ্ট্রার মনিরুজ্জামান মোবাইলফোনে জানান, তার অজ্ঞাতে কোন কর্মচারি অপকর্ম করলে তার দায় সাবরেজিষ্ট্রারের নয়। তবে নকল নবিশদের ফিস ছাড়া অন্য কোন নগদ টাকা লেনদেন হয়ে থাকলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন তিন যুগের বেশি সময় ধরে এই অফিসের সাথে যুক্ত। ১৯৮৪ সালে এখানে তিনি নকল নবিশ হিসেবে যোগ দেন। ২০১৬ সালে তিনি মোহরার পদে এবং এর পরপরই অফিস সহকারি হিসেবে পদোন্নতি পান। এই দীর্ঘ সময় একই অফিসে কর্মরত থাকায় এখানকার নানা অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েন। অনেক সময় তিনি নিজেই দলিল শুনানী করতেন। এছাড়া অফিসের খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ তার হাত দিয়েই করা হয়। এভাবে তিনি এই অফিসের হোতায় পরিণত হন। স্থানীয়রা অবিলম্বে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।