ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ
বিমানবন্দর-টঙ্গী থেকে ধারালো অস্ত্রসহ ৮ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার কিশোরগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের উন্নয়ন খাতের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সাংবাদিককে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা ও গ্র্যাজুয়েট হতে হবে বেনজীরের আরও ১১৩ দলিলের সম্পদ ও গুলশানের ৪টি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ সুজানগরে গৃহবধূকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কাউকে ছাড় দেব না : ইসি রাশেদা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে একটি বাড়ি থেকে ১২ কোটি রুপির স্বর্ণ জব্দ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণের আহ্বান প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর ঝালকাঠিতে রেমালের প্রভাবে নদীর পানি বেড়েছে ২১৭ নেতাকে বহিষ্কার করল বিএনপি
শুভ জন্মাষ্টমী 

ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হোক পৃথিবী

নওরোজ ডেস্ক
  • Update Time : ০৭:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ২৮৯ Time View

সমাজ থেকে অন্যায়-অত্যাচার, নিপীড়ন ও হানাহানি দূর করে মানুষে-মানুষে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলাই ছিল শ্রীকৃষ্ণের মূলদর্শন।

জন্মাষ্টমী হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দুষ্টের দমন ও সৃষ্টের রক্ষায় অত্যাচারী রাজা কংসকে দমন করতে মহাবতার শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভূত হয়েছিলেন।

সনাতন ধর্ম মতে, অপশক্তির হাত থেকে শুভশক্তিকে রক্ষার জন্য শ্রীকৃষ্ণ মথুরার অত্যাচারী রাজা কংসকে হত্যা করে মথুরায় শান্তি স্থাপন করেন। কৃষ্ণের প্রেমিক রূপের পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর বৃন্দাবন লীলায়, যা বৈষ্ণব সাহিত্যের মূল প্রেরণা।

জন্মাষ্টমী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেই শুভ আবির্ভাব তিথি। বিশ্বব্যাপি সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীদের কাছে এই তিথির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।

প্রভুত্ববাদ আর অন্যের ওপর খবরদারি করার অপচেষ্টায় দিন দিন কলুষিত হচ্ছে মানব সমাজ।

বিরূপ পরিবেশে কলুষিত হচ্ছে মন, বিকৃত হচ্ছে মানসিকতা। জগতের কলুষিত বন্ধন যখন জীবসত্ত্বাকে বিপথগামী করে তখন পৃথিবী ছেয়ে যায় অনাচার আর পাপকর্মে। ন্যায় আর সত্য তখন ঢাকা পড়ে যায় পাপের ছায়ায়। সাধু-সন্ন্যাসীদের ঐশ্বরিক শক্তিও তখন হার মেনে যায় অপশক্তির কূটচালে।

পৃথিবীর ইতিহাসে এমন সময় এসেছে অনেকবার। আর যুগে যুগে এমন প্রতিকূল সময়ে মানবসভ্যতা রক্ষায় স্রষ্টা কর্তৃক প্রেরিত শক্তি বিভিন্ন রূপে আবির্ভূত হয়েছে পৃথিবীতে। ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধ্বংস করেছে অপশক্তিকে। প্রচার করেছে শান্তি, সাম্য ও সুন্দরের জয়গান।

ন্যায়ের পক্ষে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ধর্ম প্রতিষ্ঠা করে মানুষকে শিক্ষা দেয়ার জন্য কর্ম করেছেন অনেক। দিয়ে গেছেন ভবিষ্যতের সত্য, সুন্দর ও আলোর পথে চলার নির্দেশনা।

সনাতন ধর্মে এ আবির্ভাব প্রক্রিয়া নিয়ে রয়েছে নানান মত। শাস্ত্রমতে যুগে যুগে পথভ্রষ্ট ও বিপদগামী মানুষকে সত্য ও আলোর পথে ফিরিয়ে আনার, অপশক্তিকে ধ্বংস এবং সজ্জনকে রক্ষা করে সত্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভগবান বিভিন্ন রূপে এই পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই আবির্ভাবের জন্যই তিনি মহাবতার বলে পরিচিত হন।

অন্যায়, অসত্য ও পাপের দ্বারা পরিচালিত ও প্ররোচিত হয়ে জ্ঞান শূন্যতার অহমিকায় ভুগছি আমরা। আত্নঅহংকারে ভুলে যাচ্ছি মহান সৃষ্টিকর্তাকে। পার্থিব সুখে ভুলে যাই মহা অবতার ভগবানের সঙ্গে আমাদের চিন্ময় সম্পর্ককে।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনের মাধ্যমে পবিত্র শ্রীমদভগবত গীতায় যে জ্ঞান দান করেছেন তাও যদি আমরা গ্রহণ করতে সক্ষম হতাম এবং যথাযথভাবে পালন করতাম তবে কোনো প্রকার অন্যায় ও অসত্য আমাদের ঈশ্বর চেতনাকে স্পর্শ করতে পারতো না।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশ। এ দেশে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হিন্দু ধর্মীয় কল্যান ট্রাস্টের মাধ্যমে মন্দির সংস্কারসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যানে নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার।

শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ও শিক্ষা বাঙালির হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সোহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। অশান্তি নিরসনে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হোক এই পৃথিবী। আলোকিত হোক মানবসমাজ।

পৃথিবী থেকে অর্থনৈতিক মন্দা, ডেঙ্গুর প্রকোপ ,বন্যাসহ সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাক মানবকূল – ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথিতে এমনই প্রত্যাশা।

লেখক – পরিমল কুমার পরাণ, কবি ও সাংবাদিক।

Please Share This Post in Your Social Media

শুভ জন্মাষ্টমী 

ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হোক পৃথিবী

Update Time : ০৭:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

সমাজ থেকে অন্যায়-অত্যাচার, নিপীড়ন ও হানাহানি দূর করে মানুষে-মানুষে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলাই ছিল শ্রীকৃষ্ণের মূলদর্শন।

জন্মাষ্টমী হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দুষ্টের দমন ও সৃষ্টের রক্ষায় অত্যাচারী রাজা কংসকে দমন করতে মহাবতার শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভূত হয়েছিলেন।

সনাতন ধর্ম মতে, অপশক্তির হাত থেকে শুভশক্তিকে রক্ষার জন্য শ্রীকৃষ্ণ মথুরার অত্যাচারী রাজা কংসকে হত্যা করে মথুরায় শান্তি স্থাপন করেন। কৃষ্ণের প্রেমিক রূপের পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর বৃন্দাবন লীলায়, যা বৈষ্ণব সাহিত্যের মূল প্রেরণা।

জন্মাষ্টমী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেই শুভ আবির্ভাব তিথি। বিশ্বব্যাপি সনাতন ধর্ম বিশ্বাসীদের কাছে এই তিথির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।

প্রভুত্ববাদ আর অন্যের ওপর খবরদারি করার অপচেষ্টায় দিন দিন কলুষিত হচ্ছে মানব সমাজ।

বিরূপ পরিবেশে কলুষিত হচ্ছে মন, বিকৃত হচ্ছে মানসিকতা। জগতের কলুষিত বন্ধন যখন জীবসত্ত্বাকে বিপথগামী করে তখন পৃথিবী ছেয়ে যায় অনাচার আর পাপকর্মে। ন্যায় আর সত্য তখন ঢাকা পড়ে যায় পাপের ছায়ায়। সাধু-সন্ন্যাসীদের ঐশ্বরিক শক্তিও তখন হার মেনে যায় অপশক্তির কূটচালে।

পৃথিবীর ইতিহাসে এমন সময় এসেছে অনেকবার। আর যুগে যুগে এমন প্রতিকূল সময়ে মানবসভ্যতা রক্ষায় স্রষ্টা কর্তৃক প্রেরিত শক্তি বিভিন্ন রূপে আবির্ভূত হয়েছে পৃথিবীতে। ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধ্বংস করেছে অপশক্তিকে। প্রচার করেছে শান্তি, সাম্য ও সুন্দরের জয়গান।

ন্যায়ের পক্ষে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ধর্ম প্রতিষ্ঠা করে মানুষকে শিক্ষা দেয়ার জন্য কর্ম করেছেন অনেক। দিয়ে গেছেন ভবিষ্যতের সত্য, সুন্দর ও আলোর পথে চলার নির্দেশনা।

সনাতন ধর্মে এ আবির্ভাব প্রক্রিয়া নিয়ে রয়েছে নানান মত। শাস্ত্রমতে যুগে যুগে পথভ্রষ্ট ও বিপদগামী মানুষকে সত্য ও আলোর পথে ফিরিয়ে আনার, অপশক্তিকে ধ্বংস এবং সজ্জনকে রক্ষা করে সত্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভগবান বিভিন্ন রূপে এই পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই আবির্ভাবের জন্যই তিনি মহাবতার বলে পরিচিত হন।

অন্যায়, অসত্য ও পাপের দ্বারা পরিচালিত ও প্ররোচিত হয়ে জ্ঞান শূন্যতার অহমিকায় ভুগছি আমরা। আত্নঅহংকারে ভুলে যাচ্ছি মহান সৃষ্টিকর্তাকে। পার্থিব সুখে ভুলে যাই মহা অবতার ভগবানের সঙ্গে আমাদের চিন্ময় সম্পর্ককে।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনের মাধ্যমে পবিত্র শ্রীমদভগবত গীতায় যে জ্ঞান দান করেছেন তাও যদি আমরা গ্রহণ করতে সক্ষম হতাম এবং যথাযথভাবে পালন করতাম তবে কোনো প্রকার অন্যায় ও অসত্য আমাদের ঈশ্বর চেতনাকে স্পর্শ করতে পারতো না।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশ। এ দেশে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হিন্দু ধর্মীয় কল্যান ট্রাস্টের মাধ্যমে মন্দির সংস্কারসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যানে নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার।

শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ও শিক্ষা বাঙালির হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সোহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। অশান্তি নিরসনে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হোক এই পৃথিবী। আলোকিত হোক মানবসমাজ।

পৃথিবী থেকে অর্থনৈতিক মন্দা, ডেঙ্গুর প্রকোপ ,বন্যাসহ সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাক মানবকূল – ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথিতে এমনই প্রত্যাশা।

লেখক – পরিমল কুমার পরাণ, কবি ও সাংবাদিক।