ঢাকা ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভূঞাপুরে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে থানার ‘মুক্ত পাঠাগার’

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৩
  • / ২০২ Time View

ফুয়াদ হাসান রঞ্জু, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: মানব সভ্যতার ইতিহাস, বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান আহরণের একমাত্র সহজ পন্থা। সেই জ্ঞান আহরণের আধার হলো পাঠাগার। গ্রামাঞ্চল বা শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে সরকারি, বেসরকারি, ব্যক্তি ও সংগঠনের উদ্যোগে এ পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। এবার জ্ঞান অর্জনের পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে থানার ভিতর। এমন এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম।

ওসি ফরিদুল ইসলাম সামাজিক সেবামূলক ‘ছায়া নীড়’ নামে একটি সংগঠনের সৌজন্যে তার বর্তমান কর্মস্থল ‘ভূঞাপুর থানা মুক্ত পাঠাগার’ স্থাপন করেছেন। এতে থানার ভেতরে সেবাগ্রহীতারা সেবা নিতে এসে অপেক্ষারত লোকজন থানার ভিতরে মুক্ত পাঠাগার থেকে যেকোন ধরণের বই সংগ্রহ করে বই পড়তে পারছেন। এছাড়াও পাঠাগার থেকে রেজিস্ট্রার খাতায় এন্ট্রির মাধ্যমে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বই পড়ার সুবিধা রয়েছে।

মুক্ত পাঠাগারে শিশু কিশোরদের বই থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও ঐতিহ্য, সাহিত্য, বিনোদন, রাজনীতি, অর্থনীতি, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রচনা সমগ্র, জীবনী, ছোট গল্প, কবিতা, ভাষাতত্ত, খেলাধুলা, দেশি-বিদেশি গুণী ব্যক্তিদের লেখা নানা ধরণের বই বিজ্ঞানসহ সাহিত্যের প্রায় সকল শাখার শতাধিক বই রয়েছে এই পাঠাগারে। এছাড়াও স্থানীয় লেখকদেরও বিভিন্ন ধরণের বই সংগ্রহে রয়েছে।

জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ছায়া নীড় নামে একটি সামাজিক সংগঠনের সৌজন্যে ওসি ফরিদুল ইসলাম থানার ভিতর এক কোণায় ‘ভূঞাপুর থানা মুক্ত পাঠাগার’ স্থাপন করেন। মূলত থানায় নানা ধরণের লোকজন সেবা নিতে আসে। অনেক সময় তাদের অপেক্ষা করতে হয়। অপেক্ষার সময়টুকু সেবাগ্রহীতারা যাতে বই পড়ে অপেক্ষা করে সে লক্ষ্যে থানার ভিতরে এমন একটি পাঠাগার স্থাপন করে থানা কর্তৃপক্ষ।

থানায় সেবা নিতে আসা রফিকুল ইসলাম রবি, ফরমান শেখ ও শেখ রুবেল বলেন, থানায় ওসি স্যারের সাথে একটি বিষয়ে আলোচনা করতে আসি। তখন দেখি তিনি অন্য একটি কাজে ব্যস্ত। পরে অফিসের এক কোণায় চোখ যায়, দেখি ভূঞাপুর থানা মুক্ত পাঠাগার। অপেক্ষারত সময়ে সেখান থেকে ‘ভূঞাপুরের ইতিহাস ও মুক্তযুদ্ধ’ এবং ‘ভাষার প্রতি ভালবাসা’ নামক বই সংগ্রহ করে পড়ি। আমরা সত্যিই মুগ্ধ থানার ভিতর এমন একটি পাঠাগার স্থাপন করায়।

এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সৃজনশীল জাতি গঠনে পাঠাগারের গুরুত্ব অপরিসীম, সে লক্ষ্যে জেলা পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশনায় ও ছায়া নীড় নামে একটি সংগঠনের সৌজন্যে ভূঞাপুর থানা মুক্ত পাঠাগার স্থাপন করি। থানায় সেবা নিতে আসা লোকজন এখানে তাদের পছন্দের বই পড়তে পারবেন। এছাড়া বই ফেরত দেওয়ার শর্তে বাড়িতে নিয়ে পড়ার সুযোগও রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

ভূঞাপুরে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে থানার ‘মুক্ত পাঠাগার’

Update Time : ০৭:২৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৩

ফুয়াদ হাসান রঞ্জু, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: মানব সভ্যতার ইতিহাস, বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান আহরণের একমাত্র সহজ পন্থা। সেই জ্ঞান আহরণের আধার হলো পাঠাগার। গ্রামাঞ্চল বা শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে সরকারি, বেসরকারি, ব্যক্তি ও সংগঠনের উদ্যোগে এ পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। এবার জ্ঞান অর্জনের পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে থানার ভিতর। এমন এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম।

ওসি ফরিদুল ইসলাম সামাজিক সেবামূলক ‘ছায়া নীড়’ নামে একটি সংগঠনের সৌজন্যে তার বর্তমান কর্মস্থল ‘ভূঞাপুর থানা মুক্ত পাঠাগার’ স্থাপন করেছেন। এতে থানার ভেতরে সেবাগ্রহীতারা সেবা নিতে এসে অপেক্ষারত লোকজন থানার ভিতরে মুক্ত পাঠাগার থেকে যেকোন ধরণের বই সংগ্রহ করে বই পড়তে পারছেন। এছাড়াও পাঠাগার থেকে রেজিস্ট্রার খাতায় এন্ট্রির মাধ্যমে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বই পড়ার সুবিধা রয়েছে।

মুক্ত পাঠাগারে শিশু কিশোরদের বই থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও ঐতিহ্য, সাহিত্য, বিনোদন, রাজনীতি, অর্থনীতি, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রচনা সমগ্র, জীবনী, ছোট গল্প, কবিতা, ভাষাতত্ত, খেলাধুলা, দেশি-বিদেশি গুণী ব্যক্তিদের লেখা নানা ধরণের বই বিজ্ঞানসহ সাহিত্যের প্রায় সকল শাখার শতাধিক বই রয়েছে এই পাঠাগারে। এছাড়াও স্থানীয় লেখকদেরও বিভিন্ন ধরণের বই সংগ্রহে রয়েছে।

জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ছায়া নীড় নামে একটি সামাজিক সংগঠনের সৌজন্যে ওসি ফরিদুল ইসলাম থানার ভিতর এক কোণায় ‘ভূঞাপুর থানা মুক্ত পাঠাগার’ স্থাপন করেন। মূলত থানায় নানা ধরণের লোকজন সেবা নিতে আসে। অনেক সময় তাদের অপেক্ষা করতে হয়। অপেক্ষার সময়টুকু সেবাগ্রহীতারা যাতে বই পড়ে অপেক্ষা করে সে লক্ষ্যে থানার ভিতরে এমন একটি পাঠাগার স্থাপন করে থানা কর্তৃপক্ষ।

থানায় সেবা নিতে আসা রফিকুল ইসলাম রবি, ফরমান শেখ ও শেখ রুবেল বলেন, থানায় ওসি স্যারের সাথে একটি বিষয়ে আলোচনা করতে আসি। তখন দেখি তিনি অন্য একটি কাজে ব্যস্ত। পরে অফিসের এক কোণায় চোখ যায়, দেখি ভূঞাপুর থানা মুক্ত পাঠাগার। অপেক্ষারত সময়ে সেখান থেকে ‘ভূঞাপুরের ইতিহাস ও মুক্তযুদ্ধ’ এবং ‘ভাষার প্রতি ভালবাসা’ নামক বই সংগ্রহ করে পড়ি। আমরা সত্যিই মুগ্ধ থানার ভিতর এমন একটি পাঠাগার স্থাপন করায়।

এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সৃজনশীল জাতি গঠনে পাঠাগারের গুরুত্ব অপরিসীম, সে লক্ষ্যে জেলা পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশনায় ও ছায়া নীড় নামে একটি সংগঠনের সৌজন্যে ভূঞাপুর থানা মুক্ত পাঠাগার স্থাপন করি। থানায় সেবা নিতে আসা লোকজন এখানে তাদের পছন্দের বই পড়তে পারবেন। এছাড়া বই ফেরত দেওয়ার শর্তে বাড়িতে নিয়ে পড়ার সুযোগও রয়েছে।