ঢাকা ০৮:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

পরকীয়া প্রেমের জেরে ব্যাটারির অ্যাসিড পুশ করে স্বামীকে হত্যা

Reporter Name
  • Update Time : ১০:৩৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ মে ২০২৩
  • / ১১৭ Time View

পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্বামী জহির হাসান গাজীকে হত্যার ঘটনায় স্ত্রী শেফালি বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক রবিউল সরদারকে আলাদা অভিযানে র‌্যাব ও যশোর কোতয়ালি থানা পুলিশ আটক করেছে।

এ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে যশোর কোতয়ালি পুলিশ ও যশোর র‌্যাব ক্যাম্প আলাদা আলাদা প্রেসবিফিংয়ে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে।

জহির হাসান শহরের বকচর হুশতলা এলাকার মৃত হোসেন আলী গাজীর ছেলে। তিনি ওই এলাাকার কল্পতরু হাউজিয় স্টেটের শান্তা রানী কুন্ডর বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন।

যশোর কোতয়ালি থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ভিন্ন কৌশলে স্বামীকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন শেফালি। তিনি যশোর শহরের মাতৃসেবা নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আয়া। শেফালির সাথে শহরের শংকরপুরের রবিউল সরদার নামে এক যুবকের পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি হয়। রবিউল শংকরপুর ইসহাক সড়কের আব্দুল সরদারের ছেলে। এ নিয়ে আগের দিন স্বামী জহিরের সাথে তার গোলযোগ হয়। পরদিন দুপুরে স্বামীর খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন তিনি। ওষুধের প্রভাবে ঘুমিয়ে পড়ার পর ওই দিন সন্ধ্যার দিকে তার শরীরে ভিজিয়ে রাখা মোবাইল ফোনের ব্যাটারি থেকে নিসৃত অ্যাসিড সিরিঞ্জের মাধ্যমে পুশ করেন শেফালি। এ অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। কিন্তু রাতে জহির হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে পরিবারের কছে জানান শেফালি। জহিরের ছোট ভাই ফেরদৌস রাত দেড়টার দিকে তাকে নিয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আসেন। এসময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরও জানান, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জহিরের স্ত্রীর পরকীয়া ও এ নিয়ে দাম্পত্য কলোহের কথা জেনে শেফালিকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং ঘটনার বর্ণনা দেন।

এদিকে বিকেলে র‌্যাব যশোর ক্যাম্পে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ঘটনার সাথে মূল পরিকল্পনাকারী শেফালির প্রেমিক রবিউল সরদারকে শহরের শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। র‌্যাবের হাতে আটক রবিউল সরদার শহরের শংকরপুর এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। তার আসল বাড়ি খুলনার পাইকগাছা উপজেলার পাইকগাছা গ্রামে।

র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের অধিনায়ক লে. কমান্ডার এম নাজিউর রহমান বিকেলের তাৎক্ষণিক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, ঘটনার পরপরই ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা শেফালির প্রেমিক রবিউল সরদারের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বুধবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে আটককৃত দু’জনকেই মৃতের ভাই গাজী শাহনেয়াজের দায়ের করা মামলায় আটক দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

পরকীয়া প্রেমের জেরে ব্যাটারির অ্যাসিড পুশ করে স্বামীকে হত্যা

Update Time : ১০:৩৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ মে ২০২৩

পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্বামী জহির হাসান গাজীকে হত্যার ঘটনায় স্ত্রী শেফালি বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক রবিউল সরদারকে আলাদা অভিযানে র‌্যাব ও যশোর কোতয়ালি থানা পুলিশ আটক করেছে।

এ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে যশোর কোতয়ালি পুলিশ ও যশোর র‌্যাব ক্যাম্প আলাদা আলাদা প্রেসবিফিংয়ে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে।

জহির হাসান শহরের বকচর হুশতলা এলাকার মৃত হোসেন আলী গাজীর ছেলে। তিনি ওই এলাাকার কল্পতরু হাউজিয় স্টেটের শান্তা রানী কুন্ডর বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন।

যশোর কোতয়ালি থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ভিন্ন কৌশলে স্বামীকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন শেফালি। তিনি যশোর শহরের মাতৃসেবা নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আয়া। শেফালির সাথে শহরের শংকরপুরের রবিউল সরদার নামে এক যুবকের পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি হয়। রবিউল শংকরপুর ইসহাক সড়কের আব্দুল সরদারের ছেলে। এ নিয়ে আগের দিন স্বামী জহিরের সাথে তার গোলযোগ হয়। পরদিন দুপুরে স্বামীর খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন তিনি। ওষুধের প্রভাবে ঘুমিয়ে পড়ার পর ওই দিন সন্ধ্যার দিকে তার শরীরে ভিজিয়ে রাখা মোবাইল ফোনের ব্যাটারি থেকে নিসৃত অ্যাসিড সিরিঞ্জের মাধ্যমে পুশ করেন শেফালি। এ অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। কিন্তু রাতে জহির হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে পরিবারের কছে জানান শেফালি। জহিরের ছোট ভাই ফেরদৌস রাত দেড়টার দিকে তাকে নিয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আসেন। এসময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরও জানান, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জহিরের স্ত্রীর পরকীয়া ও এ নিয়ে দাম্পত্য কলোহের কথা জেনে শেফালিকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং ঘটনার বর্ণনা দেন।

এদিকে বিকেলে র‌্যাব যশোর ক্যাম্পে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ঘটনার সাথে মূল পরিকল্পনাকারী শেফালির প্রেমিক রবিউল সরদারকে শহরের শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। র‌্যাবের হাতে আটক রবিউল সরদার শহরের শংকরপুর এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। তার আসল বাড়ি খুলনার পাইকগাছা উপজেলার পাইকগাছা গ্রামে।

র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের অধিনায়ক লে. কমান্ডার এম নাজিউর রহমান বিকেলের তাৎক্ষণিক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, ঘটনার পরপরই ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা শেফালির প্রেমিক রবিউল সরদারের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে বুধবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে আটককৃত দু’জনকেই মৃতের ভাই গাজী শাহনেয়াজের দায়ের করা মামলায় আটক দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।