ঢাকা ০৩:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ

বিদেশিদের প্রভুত্ব মানবে না সরকার : ওবায়দুল কাদের

রাজনীতি ডেস্ক
  • Update Time : ০৬:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৫৩ Time View

বিদেশিদের প্রভুত্ব মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘বিদেশিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায় আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু বন্ধুর পরিবর্তে যারা প্রভুর ভূমিকায় আসতে চায় সেই প্রভুর দাসত্ব আমরা মানি না।’

রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে সেতুমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সর্বশেষ সফরেও তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। তারা যা বলেছে, তাতে বিএনপির আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু নেই। সরতার পতন, ব্যর্থতা, সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা-এসব বিষয়ে তাঁরা কিছু পায়নি। সে জন্য তারা চুপ করে থাকার কৌশল নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচারের ভাঙা রেকর্ড শুনতে শুনতে কান ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। এখন তাদের গলার জোর একটু কমে গেছে। মুখে বিষটা আরও উগ্রো হয়ে গেছে। তাদের আন্দোলনে ব্যর্থতা, নির্বাচনে না আসার ব্যর্থতা-এখন এই ব্যর্থতাই তাদের বেসামাল ও বেপরোয়া করেছে।

তাদের এই নেতিবাচক মানসিকতা সরকারের ওপরে চাপাচ্ছে। যা বাস্তবে আমরা দেখি না।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের গন্ধ সব ব্যাপারে বলতে চাই না। এখন বিএনপির কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। কারণ, তাঁরা বলেছিল নির্বাচন হবে না।

নির্বাচন হলে পাঁচ দিনও টিকবে না। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যা চায়, সেই চাওয়াটা পাওয়া হয়নি। তাঁরা শুনতে চেয়েছিল সরকারের ওপরে নিষেধাজ্ঞা আসবে। ভিসানীতি আরোপ হবে- এমন স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে গেছে। কিন্তু তাঁরা তাদের কথা বলেছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার তাদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।’

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে যেতে পারে এমন আশঙ্কা আছে কি না– এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের দেশের জনগণ প্রমাণ করেছে তাঁরা এত উসকানি, এত আন্দোলন যে বাংলাদেশ উত্তাল সাগর হয়ে যাবে– এসবের পরও তাদের ওই পিকনিক পার্টি সমাবেশে জনগণ প্রলুব্ধ হয়নি, প্ররোচিতও হয়নি।’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশের জনগণ সারা বিশ্বের খবর রাখে। সারা বিশ্বের সব খবর নিয়ে গ্রামে চায়ের দোকানে রীতিমতো গবেষণা হয়। মানুষ বুঝে এখানে সরকারের দোষ নেই। বিশ্বে যে সংকট দ্রব্যমূল্য নিয়ে, সে দ্রব্যমূল্য বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়। সারা দুনিয়ায় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। পৃথিবীর একটা দেশ দেখান, যেখানে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক অবস্থায় আছে। তবে আমাদের জনগণের ক্রয়ক্ষমতা এখনো আছে। আমরা আশা করি, সামনের রমজানেও জিনিসপত্র পর্যাপ্ত থাকবে।’

চাঁদাবাজির কারণে গরুর মাংসের দাম বাড়ছে– এমন অভিযোগের বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘চাঁদাবাজির একটা বিষয় অবশ্যই আছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠিন বক্তব্য রেখেছেন। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।’

এ সময় বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ পরিশোধ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের ঋণখেলাপি হওয়ার রেকর্ড নেই, এবারও হবে না। তবে ঋণ বাড়তে পারে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দীসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।

Please Share This Post in Your Social Media

বিদেশিদের প্রভুত্ব মানবে না সরকার : ওবায়দুল কাদের

Update Time : ০৬:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

বিদেশিদের প্রভুত্ব মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘বিদেশিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায় আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু বন্ধুর পরিবর্তে যারা প্রভুর ভূমিকায় আসতে চায় সেই প্রভুর দাসত্ব আমরা মানি না।’

রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে সেতুমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সর্বশেষ সফরেও তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। তারা যা বলেছে, তাতে বিএনপির আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু নেই। সরতার পতন, ব্যর্থতা, সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা-এসব বিষয়ে তাঁরা কিছু পায়নি। সে জন্য তারা চুপ করে থাকার কৌশল নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচারের ভাঙা রেকর্ড শুনতে শুনতে কান ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। এখন তাদের গলার জোর একটু কমে গেছে। মুখে বিষটা আরও উগ্রো হয়ে গেছে। তাদের আন্দোলনে ব্যর্থতা, নির্বাচনে না আসার ব্যর্থতা-এখন এই ব্যর্থতাই তাদের বেসামাল ও বেপরোয়া করেছে।

তাদের এই নেতিবাচক মানসিকতা সরকারের ওপরে চাপাচ্ছে। যা বাস্তবে আমরা দেখি না।’
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের গন্ধ সব ব্যাপারে বলতে চাই না। এখন বিএনপির কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। কারণ, তাঁরা বলেছিল নির্বাচন হবে না।

নির্বাচন হলে পাঁচ দিনও টিকবে না। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যা চায়, সেই চাওয়াটা পাওয়া হয়নি। তাঁরা শুনতে চেয়েছিল সরকারের ওপরে নিষেধাজ্ঞা আসবে। ভিসানীতি আরোপ হবে- এমন স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে গেছে। কিন্তু তাঁরা তাদের কথা বলেছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার তাদের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।’

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে যেতে পারে এমন আশঙ্কা আছে কি না– এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের দেশের জনগণ প্রমাণ করেছে তাঁরা এত উসকানি, এত আন্দোলন যে বাংলাদেশ উত্তাল সাগর হয়ে যাবে– এসবের পরও তাদের ওই পিকনিক পার্টি সমাবেশে জনগণ প্রলুব্ধ হয়নি, প্ররোচিতও হয়নি।’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশের জনগণ সারা বিশ্বের খবর রাখে। সারা বিশ্বের সব খবর নিয়ে গ্রামে চায়ের দোকানে রীতিমতো গবেষণা হয়। মানুষ বুঝে এখানে সরকারের দোষ নেই। বিশ্বে যে সংকট দ্রব্যমূল্য নিয়ে, সে দ্রব্যমূল্য বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়। সারা দুনিয়ায় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। পৃথিবীর একটা দেশ দেখান, যেখানে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক অবস্থায় আছে। তবে আমাদের জনগণের ক্রয়ক্ষমতা এখনো আছে। আমরা আশা করি, সামনের রমজানেও জিনিসপত্র পর্যাপ্ত থাকবে।’

চাঁদাবাজির কারণে গরুর মাংসের দাম বাড়ছে– এমন অভিযোগের বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘চাঁদাবাজির একটা বিষয় অবশ্যই আছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠিন বক্তব্য রেখেছেন। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।’

এ সময় বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ পরিশোধ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশের ঋণখেলাপি হওয়ার রেকর্ড নেই, এবারও হবে না। তবে ঋণ বাড়তে পারে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দীসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারা।