বাঞ্ছারামপুরে কিশোরীকে ধর্ষণ করে হত্যার চেষ্টায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা
- Update Time : ০৬:০০:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ মে ২০২৩
- / ৪৭৬ Time View
রাকিবুল হাসান রিয়ান, ব্রাহ্মণাবাড়িয়া (বাঞ্ছারামপুর)প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ১০ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে হত্যার চেষ্টা করায় ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে ।
গত ১৩ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আইয়ুব পুর ইউনিয়নের কড়িকান্দি- ফেরিঘাট আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে এঘটনা ঘটে । কিশোরীকে ধর্ষণের ২০দিন পেরিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে এখনো ধর্ষক গ্রেফতার না হওয়ায় চাঞ্চল্যকর এঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীরা ধর্ষিত কিশোরীর পরিবারকে একের পর হুমকি প্রদান করে যাচ্ছে ৷ ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্যের কথিত ভাতিজা ধর্ষন মামলার মূলহোতা টিপন বাহিনীর কারণে নিরাপত্তাহীনতা ও আতংকে রয়েছে বলে জানান আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকা পরিবারের সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের কাছে সঠিক বিচার দাবি করছেন তারা।
সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার আইয়ুবপুর ইউনিয়নের কড়িকান্দি- ফেরিঘাট এলাকায় নির্মিত প্রধানমন্ত্রীর উপহারের দেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২৬ নং ঘরে মামা-মামীর সাথে বসবাস করেন ভিকটিম কিশোরী স্থানীয় একটি মাদ্রাসাতে পড়াশোনা করে । স্ত্রী, ৩ সন্তান,মা নানী এবং কিশোরী সহ মোট ৭জন সদস্যকে নিয়ে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরে বসবাস করেন তারা মামা আক্তার ৷ গত ১৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ১০ বছর বয়সী কিশোরীকে কৌশলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩২ নং ঘরে ডেকে নিয়ে তাকে মারধর ও জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন আইয়ুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ ৯নং ওয়ার্ড শাখা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: টিপন মিয়া ওরফে সোহেল সরকার। ধর্ষনের কথা তার মামা মামীর কাছে স্বীকার করলে বা কাউকে বললে ভিকটিমকে হত্যার হুমকি দেয় টিপন। ধর্ষণের মামলা দিতে থানায় গেলে মামলা না নিয়ে কোর্টে মামলা নেয়ার পরামর্শ দেন পুলিশ। পরে গত ১৮ এপ্রিল ধর্ষিত কিশোরীর মামা আক্তার বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জর্জ কোর্ট নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল-৩, এ ধর্ষন ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ করে একটি মামলার আবেদন করেন। আদালত বাঞ্ছারামপুর মডেল থানাকে মামলা নেয়ার নির্দেশ প্রদান করলে গত ২৬ এপ্রিল মো: টিপন মিয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করেন বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো: নূরে আলম ।
ধর্ষক মো: টিপন মিয়া ওরফে সোহেল সরকার আইয়ুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৯নং ওয়ার্ড শাখা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আছেন। এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন আইয়ুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী নূর মোহাম্মদ।
ধর্ষিত কিশোরী সঠিক বিচার দাবী করে বলেন, আমাকে ঘরে ডেকে নিয়ে মুখ বেধে জোর করে আমাকে ধর্ষন করেছে। আমার মামা মামলা করেছে। কিন্তু আসামি গ্রেফতার হয় নাই। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের স্থায়ী বাসিন্দা আয়েশা বেগম বলেন, হেয় (টিপন) দীর্ঘদিন যাবত আমাদের অত্যাচার করে যাচ্ছে। এই শিশু বাচ্চাটিকেও ছাড় দেয় নাই, আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক মিয়া বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ঘর দিয়েছেন আমরা খুবই আনন্দে আছি। টিপনের জ্বালায় আমরা থাকতে পারিনা । সে একটা বাচ্চাকে ধর্ষন করছে। এটা কইলে আমাদের মারতে আসে। আমরা ডরে(ভয়ে) থাকতে পারি না। আমরা এর বিচার চাই।
আশ্রয়ন প্রকল্পেই থাকেন রুপা নামের এক শিশু, সাংবাদিক দেখে দৌড়ে এসে অভিযোগ দিয়ে বলছেন, গতকাল আমাকে টিপনে মুখ বেধে কোথায় যানি নিয়ে যেতে চাইছিলো। আমি কামড় দিয়ে, চিৎকার দিয়ে ছুটে আইয়া পরছি।
হান্নান মিয়া বলেন, এখানে এই ধরনের কয়েকটা ঘটনা ঘটেছে । আমরা তাদের ভয়ে কিছু বলতে পারিনা।
ভিকটিমের মামা আক্তার বলেন, আমার ভাগনিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ধর্ষন করেছে। আলামিন মেম্বার থানায় বলে দিছে মামলা না নেয়ার জন্য এজন্য আমরা ভয়ে থানায় যাইনাই। পরে আদালতে গেছি। এস আই আলামিন আসামি ধরে নাই। ধর্ষণকারী টিপনের বিচার চাই, এর যেনো সঠিক বিচার হয়।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নূরে আলম বলেন, আদালত হতে কিশোরী টিপন ধর্ষণ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ আমরা পেয়ে আমরা নিয়মিত মামলা রুজু করেছি। ভিকটিমকে ডাক্তারি পরিক্ষা সম্পূর্ণ করক । আসামীকে গ্রেফতার চেষ্টা চলছে।






































































































































































































