বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাত বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের
- Update Time : ১২:০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২৬ Time View
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (বাকৃবিসাস) সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেছে সম্প্রতি ঘোষিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বাকৃবি শাখার পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ। রবিবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান, সদস্যসচিব মো. শফিকুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ এম শোয়েবসহ সংগঠনের শতাধিক নেতা-কর্মী। সাংবাদিক সমিতির উপস্থিত ছিলেন সভাপতি হাবিবুর রহমান রনি, সাধারণ সম্পাদক মো. আমানুল্লাহসহ সমিতির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
সাক্ষাতকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমসাময়িক পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণ, বাকৃবি কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (বাকসু) নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ নিয়ন্ত্রণ, ডাইনিং সেবার মানোন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা ও হলের সিট সংকট নিরসনের উপায়সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোচনা হয়।
এসময় বাকৃবি ছাত্রদলের নবগঠিত আহবায়ক কমিটির পক্ষ থেকে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি যাতে কমিটি সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকে এবং বিশেষত মেধাবী ও যোগ্য শিক্ষার্থীরা যোগ দিতে পারে। যদিও সবাই আসেনি, তবে যারা এসেছে তারা অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অংশগ্রহণ করছে—এটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি।’
নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন ও নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে নারী শিক্ষার্থীদের সাড়া ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক। নারীদের জন্য শতভাগ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার এবং এই দায়িত্ব আমরা ভবিষ্যতেও বজায় রাখবো। নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন, নিরাপদ যাতায়াত এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা যেন যথাযথভাবে নিশ্চিত থাকে এ বিষয়েও আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাগতদের অবাধ বিচরণের নিয়ন্ত্রণে তিনি বলেন, ‘আমাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ ও অনাকাঙ্ক্ষিত মিছিল-মিটিং বন্ধ করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ শান্ত ও শিক্ষার্থী-বান্ধব রাখতে আমরা অন্যান্য সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা নেবো। এতে করে ক্যাম্পাসে স্থিতিশীলতা ও শিক্ষার পরিবেশ আরও মজবুত হবে।’
উপস্থিত শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মো শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রদলের রাজনীতি বরাবরই শিক্ষার্থী-বান্ধব। অতীতে যারা হামলা-মামলার শিকার হয়েছিল বা অন্যায়ভাবে মূল্যায়িত হতে পারেনি তাদের অধিকার ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আমরা আন্তরিক। আমাদের কমিটির মাধ্যমে আমরা কমপক্ষে কিছুটা হলেও তাদের ন্যায্য মূল্যায়ন করতে পেরেছি এটাই আমাদের সাফল্য। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়না হলো বাকৃবি সাংবাদিক সমিতি। আমরা বিশ্বাস করি, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র স্বচ্ছ, পরিষ্কার ও নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরবে।’
শিক্ষার্থীদের আধুনিক হেলথকেয়ারের সুযোগ সুবিধার দাবি তুলে তিনি জানান, ‘শিক্ষার্থীদের আধুনিক হেলথকেয়ারের সুবিধা প্রদান এখন সময়ের দাবি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক মেডিকেল সুবিধা, দ্রুত সেবা এবং পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নিয়োগ জরুরি। শিক্ষার্থীরা যেন শহরে চিকিৎসার জন্য যেতে বাধ্য না হয়—এমনই একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা আমরা প্রত্যাশা করি।
শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ এম শোয়েব বলেন, ‘আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ে তরুণ ও নতুন নেতৃত্ব বিকশিত হোক। শিক্ষাঙ্গনে সৃজনশীল, যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বই আমাদের অগ্রগতির মূল চালিকা শক্তি। এজন্য আমরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর আরোপিত স্থগিতাদেশ দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানাই। শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এটি অপরিহার্য।’
শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কমানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্টাইপেন্ড বৃদ্ধি করা হয়নি। বর্তমান ব্যয়বহুল সময়ে শিক্ষার্থীদের সম্মানজনক পরিমাণ স্টাইপেন্ড প্রদান খুবই জরুরি। এটি শিক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কমাবে এবং অধ্যয়নে মনোযোগী হতে সাহায্য করবে।’
সর্বোপরি, একটি স্বচ্ছ, নিরাপদ, অংশগ্রহণমূলক এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক ও শিক্ষার্থী-বান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে উঠবে।
Please Share This Post in Your Social Media
-
সর্বশেষ
-
জনপ্রিয়



































































































