ঢাকা ০৬:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ
বিমানবন্দর-টঙ্গী থেকে ধারালো অস্ত্রসহ ৮ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার কিশোরগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের উন্নয়ন খাতের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সাংবাদিককে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা ও গ্র্যাজুয়েট হতে হবে বেনজীরের আরও ১১৩ দলিলের সম্পদ ও গুলশানের ৪টি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ সুজানগরে গৃহবধূকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কাউকে ছাড় দেব না : ইসি রাশেদা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে একটি বাড়ি থেকে ১২ কোটি রুপির স্বর্ণ জব্দ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণের আহ্বান প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর ঝালকাঠিতে রেমালের প্রভাবে নদীর পানি বেড়েছে ২১৭ নেতাকে বহিষ্কার করল বিএনপি

বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বে কেউ ফাটল ধরাতে পারবে নাঃ জিএম কাদের

Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ মে ২০২৩
  • / ৮৩ Time View

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমপি বলেছেন, পৃথিবীর সব ধর্মই শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণের কথা বলেছে। প্রতিটি ধর্মই মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়ণের কথা বলেছে। বাংলাদেশের মানুষ হাজার বছর ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ঐতিহ্য লালন করছে। সব ধর্মের মানুষ যেন আত্মীয়তার বন্ধনে বাধা। দেশের মানুষের রক্তের মধ্যেই আছে ধর্মনিরপেক্ষতা। অন্যের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আমাদের শেখাতে হয় না।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার দয়াগঞ্জের জাতীয় শিব মন্দির চত্বরে স্বামী শ্রী অধোক্ষানন্দ দেবতীর্থ মহারাজের নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

জিএম কাদের আরও বলেন, ভারত হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে কাছের এবং বড় প্রতিবেশী। ভারতের জনগণ সব সময় আমাদের পাশে ছিল। শুধু একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ নয় সব প্রয়োজনেই ভারত বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে আমাদের পাশে ছিল। আমাদের সংস্কৃতি, চেহারা ও ইতিহাসে মিল আছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ভারত শুধু সামরিক শক্তি নয়, অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছে। বন্ধুপ্রতিম দেশের উন্নয়নের সঙ্গে আমরাও উপকৃত হচ্ছি। ব্যবসা, চিকিৎসা এবং শিক্ষার জন্যও ভারত আমাদের কাছে দরকারি। আমাদের স্বার্থেই ভারতের সঙ্গে সুস্পর্ক রাখা জরুরি।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জিএম কাদের বলেন, প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গেই জাতীয় পার্টি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাস করে। ভারতের সঙ্গে আমাদের যেমন সম্পর্ক রাখা দরকার, তেমনি আমাদের সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক রাখা জরুরি।

ভৌগলিক কারণেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। কারণ, ভারতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে বাংলাদেশকে যেন কেউ ব্যবহার করতে না পারে। ভারতের ন্যায্য দাবি হচ্ছে, বাংলাদেশকে ব্যবহার করে কেউ যেন ভারতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে।

‘পরস্পরের প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও ভারত শক্তিশালী সম্পর্ক। তাই, বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বে কেউ ফাটল ধরাতে পারবে না। এমন সম্পর্কে পরস্পর এক সঙ্গে এগিয়ে চলা সহজ হয়। ’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, ভারতের প্রয়োজনে আমরা সহায়তা দেব, আবার আমাদের প্রয়োজনে ভারত সহায়তা করবে এটাই দুটি দেশের মানুষের প্রত্যাশা। এ কারণেই ভারতে যে সরকারই আসে তারাই বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

তিনি বলেন, আমরা পরস্পরের ভাই হিসেবে থাকব, একে অন্যের বিপদে পাশে থাকব। বাংলাদেশ ও ভারত একইসঙ্গে সার্বিক উন্নয়ণের পথে এগিয়ে যাবে।

এ সময় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেন, দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রকৃত বন্ধু হচ্ছে জাতীয় পার্টি। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শুভ জন্মষ্টমীতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছেন। জন্মাষ্টমীর র্যালী বের করতে সব সহায়তা করেছেন। হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেছিলেন এরশাদ। এছাড়া পূজা-পার্বণে জাতীয় পার্টি সব সময় সংখ্যালঘুদের পাশে থাকে। বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অক্ষয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্ব অকৃত্রিম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন ভারতের ত্রিপুরা বিধান সভার ডেপুটি স্পিকার শ্রী রাম প্রসাদ পাল।

অ্যাডভোকেট বিধান বিহারী গোস্বামীর সভাপতিত্বে সংবর্ধনা সভা পরিচালনা করেন জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন দে। বক্তৃতা করেন সত্যম রায় চৌধুরী, এসকে বাদল, তরুণ চক্রবর্তী।

উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান আকাশ, ভাইস চেয়ারম্যান আমির উদ্দিন আহমেদ ঢালু, যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট আবু তৈয়ব।

Please Share This Post in Your Social Media

বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বে কেউ ফাটল ধরাতে পারবে নাঃ জিএম কাদের

Update Time : ০৯:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ মে ২০২৩

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমপি বলেছেন, পৃথিবীর সব ধর্মই শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণের কথা বলেছে। প্রতিটি ধর্মই মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়ণের কথা বলেছে। বাংলাদেশের মানুষ হাজার বছর ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ঐতিহ্য লালন করছে। সব ধর্মের মানুষ যেন আত্মীয়তার বন্ধনে বাধা। দেশের মানুষের রক্তের মধ্যেই আছে ধর্মনিরপেক্ষতা। অন্যের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আমাদের শেখাতে হয় না।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার দয়াগঞ্জের জাতীয় শিব মন্দির চত্বরে স্বামী শ্রী অধোক্ষানন্দ দেবতীর্থ মহারাজের নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

জিএম কাদের আরও বলেন, ভারত হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে কাছের এবং বড় প্রতিবেশী। ভারতের জনগণ সব সময় আমাদের পাশে ছিল। শুধু একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ নয় সব প্রয়োজনেই ভারত বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে আমাদের পাশে ছিল। আমাদের সংস্কৃতি, চেহারা ও ইতিহাসে মিল আছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ভারত শুধু সামরিক শক্তি নয়, অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছে। বন্ধুপ্রতিম দেশের উন্নয়নের সঙ্গে আমরাও উপকৃত হচ্ছি। ব্যবসা, চিকিৎসা এবং শিক্ষার জন্যও ভারত আমাদের কাছে দরকারি। আমাদের স্বার্থেই ভারতের সঙ্গে সুস্পর্ক রাখা জরুরি।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জিএম কাদের বলেন, প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গেই জাতীয় পার্টি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাস করে। ভারতের সঙ্গে আমাদের যেমন সম্পর্ক রাখা দরকার, তেমনি আমাদের সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক রাখা জরুরি।

ভৌগলিক কারণেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। কারণ, ভারতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে বাংলাদেশকে যেন কেউ ব্যবহার করতে না পারে। ভারতের ন্যায্য দাবি হচ্ছে, বাংলাদেশকে ব্যবহার করে কেউ যেন ভারতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে।

‘পরস্পরের প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও ভারত শক্তিশালী সম্পর্ক। তাই, বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বে কেউ ফাটল ধরাতে পারবে না। এমন সম্পর্কে পরস্পর এক সঙ্গে এগিয়ে চলা সহজ হয়। ’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, ভারতের প্রয়োজনে আমরা সহায়তা দেব, আবার আমাদের প্রয়োজনে ভারত সহায়তা করবে এটাই দুটি দেশের মানুষের প্রত্যাশা। এ কারণেই ভারতে যে সরকারই আসে তারাই বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

তিনি বলেন, আমরা পরস্পরের ভাই হিসেবে থাকব, একে অন্যের বিপদে পাশে থাকব। বাংলাদেশ ও ভারত একইসঙ্গে সার্বিক উন্নয়ণের পথে এগিয়ে যাবে।

এ সময় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেন, দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রকৃত বন্ধু হচ্ছে জাতীয় পার্টি। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শুভ জন্মষ্টমীতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছেন। জন্মাষ্টমীর র্যালী বের করতে সব সহায়তা করেছেন। হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেছিলেন এরশাদ। এছাড়া পূজা-পার্বণে জাতীয় পার্টি সব সময় সংখ্যালঘুদের পাশে থাকে। বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অক্ষয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্ব অকৃত্রিম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন ভারতের ত্রিপুরা বিধান সভার ডেপুটি স্পিকার শ্রী রাম প্রসাদ পাল।

অ্যাডভোকেট বিধান বিহারী গোস্বামীর সভাপতিত্বে সংবর্ধনা সভা পরিচালনা করেন জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন দে। বক্তৃতা করেন সত্যম রায় চৌধুরী, এসকে বাদল, তরুণ চক্রবর্তী।

উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান আকাশ, ভাইস চেয়ারম্যান আমির উদ্দিন আহমেদ ঢালু, যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট আবু তৈয়ব।