ঢাকা ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ
লোক দেখানো কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড দাবী এলাকাবাসীর

বর্ধিত সময়েও শেষ হয়নি সিলেটের সুরমা নদীর ১৫ কিলোমিটার খনন কাজ

মো: মুহিবুর রহমান, সিলেট
  • Update Time : ০২:৫৫:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৫০ Time View

সিলেটের সুরমা নদী খনন প্রকল্পটি নির্ধারিত মেয়াদেও শেষ হয়নি। লামাকাজী বাজারের কিছু অংশ ও খিত্তার গাও এলাকায় সরমা নদীতে চর সহ সুরমার অনেক স্থানে এখনও খনন শুরু হয়নি। লোক দেখানো কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড এ দাবী সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজনের।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে আগামী জুন মাস পর্যন্ত তারা খনন কাজ চালিয়ে যাবেন। এর মধ্যে ১৫ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন না হলেও যতটুকু কাজ সম্পন্ন হবে তা নিয়েই প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাবে। এরমধ্যে অন্তত ৮০ ভাগ কাজ শেষ করতে চায় পাউবো। অন্যদিকে সুরমা নদীর সিলেট নগরীর কুশিঘাট এলাকায় বিশাল এলাকা জুড়ে নদীর বুকে সৃষ্টি হয়েছে মাঠ। সেখানে প্রতিদিন চলে ফুটবল খেলা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ২২ জানুয়ারি ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট নগরীর কুশিঘাট থেকে বিশ্বনাথের দশগ্রাম পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার জায়গার ১৫ কিলোমিটার খনন কাজ শুরু হয়। সিলেট সদর উপজেলার চানপুর নামক স্থান থেকে নদী খনন কার্যক্রম এর উদ্বোধন করেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান এমপি ডক্টর এ কে আব্দুল মোমেন। কিন্তু খনন শুরুর এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই শুরু হয় নানা প্রতিবন্ধকতা।

অন্যদিকে পাউবো সূত্র জানায়, ২০২২ সালের জুনে শেষ হয়েছে চলমান এ প্রকল্পের মেয়াদ। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে নদীর সমীক্ষা শেষ হয়। এরপর ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে পরিমার্জন (রিভাইজ) করে অবশেষে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে কাজ শুরু হয়। গতবছরের জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। সিলেট নগরীর কুশিঘাট থেকে বিশ্বনাথের দশগ্রাম পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার জায়গার ১৫ কিলোমিটার খনন করা হবে এ প্রকল্পের অধীনে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেটের প্রধান নদীর বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠেছে। কাজিরবাজার, কুশিঘাটসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এক তৃতীয়াংশ শুকিয়ে গেছে। সেই শুকনো স্থানে প্রতিদিন সকাল, দুপুর কিংবা বিকেলে ফুটবল-ক্রিকেট খেলার ধুম পড়ে। কেউ কেউ সবুজ শাকসবজিও ফলাচ্ছেন চরে। কোথাও কোথাও পানিও নেমে গেছে হাঁটুর নিচে। ছোট শিশুরা পায়ে হেঁটে দিব্যি সুরমা পাড়ি দিচ্ছে যখন তখন। আবার কাজিরবাজার এলাকায় দেখা গেছে অন্যচিত্র। ময়লা আবর্জনার ছড়াছড়ি সবদিকে। তার মধ্যে পলিথিন, প্লাস্টিক বেশি। দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছে।

অপরদিকে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যের কারণে খনন কাজ বার বার বাধাগ্রস্ত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে খনন কাজ শেষ করা যায়নি। প্লাস্টিক ও পলিথিনে মেশিনারী যন্ত্রপাতি বিকল হয়। গত মৌসুমে ২০/২৫ মিনিট পরপর মেশিন পরিস্কার করতে হয়েছে। তখন দফায় দফায় খনন কাজ বন্ধ রাখতে হয়। অবশ্য চলতি মৌসুমে দ্রুত খনন কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানান ঠিকাদারী সংস্থা কনফিডেন্স গ্রপের প্রতিনিধি সিনিয়র ম্যানেজার আজিম উদ্দিন।

তিনি জানান, বর্তমানে টুকেরবাজার ও জাঙ্গাইল এলাকায় খনন কাজ চলছে।কিন্তু কাজের তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছেনা। লামাকাজীর খিত্তার গাও এলাকায় সরমা নদীতে চর জেগেছে। অপর দিকে বিশ্বনাথের আতাপুর বিদ্যাপতি গ্রামসহ লামাকাজী- বিশ্বনাথ- রশিদপুর সড়ক নদী ভাঙ্গনের হুমকীর সম্মুখীন বলে এলাকাবাসী জানান। এলাকাবাসী সিলেট পানি উন্রানয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে এ ব্যাপারে আবেদন ও করেছেন। লামাকাজীর খিত্তার গাও এলাকায় সরমা নদীতে চর খননের জোর দাবী জানান।

এদিকে, গত ১১ বছরে সিলেটের সুরমা নদী খননে চারটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনাগুলো (ডিপিপি) মন্ত্রাণলয়ে পাঠানো হয়। এরপর তিনবার সমীক্ষাও চালানো হয়। কিন্তু ওই প্রকল্পগুলোর কোনোটাই আলোর মুখ দেখেনি। ছোটো পরিসরে যে একটি প্রকল্প চলছে তাও নির্ধারিত সময়ে খনন কাজ শতভাগ শেষ করা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন ভূমি সন্তান সিলেটের কর্মী শুয়াইব হাসান বলেন, সুরমা নদীতে যে খনন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে, সেটি গত বর্ষার আগে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা ছিল। ঠিক তাই হয়েছে। কারণ বর্ষায় কাজ শেষ না হলে নদীতে আবার পলি জমে সেই আগের অবস্থায় ফিরে যায় নদীর তলদেশ।

তিনি অভিযোগ করেন, মেয়াদ বাড়লেও মাঝ পথে কাজ শেষ দেখিয়ে বাজেট গলধকরণ করার দূরবিসন্ধি আছে কিনা সেই সন্দেহ উড়িয়ে দেয়া যায়না। অন্যদিকে অল্প বৃষ্টিতে বারবার জলাবদ্ধতায় পড়তে হয় সিলেট নগরবাসীকে। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি খনন করে সুরমা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার। তবে সুরমার চলমান খনন কাজ জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজে আসবে কিনা এ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, চলমান প্রকল্পটি আগামী জুন পর্যন্ত চালানো যাবে। এরমধ্যে শতভাগ খনন কাজ শেষ না হলেও অন্তত ৮০ ভাগ কাজ শেষ হবে। দ্রুতগতিতে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, সুরমার সিলেট অংশের যে অংশটি কুশিঘাট এলাকা নিয়ে সবচেয়ে বেশি মাতামাতি হচ্ছে, সেটি প্রকল্পের আওতাধীন রয়েছে। দু’ একমাসের মধ্যে এই অংশে খনন কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, এখানে এক সাথে সবকটা ড্রেজার চালাতে হবে। এর জন্য সবশেষে কুশিঘাট এলাকা খনন শুরু হবে। তিনি জানান, প্রকল্পের আর কোন মেয়াদ বাড়বেনা।

Please Share This Post in Your Social Media

লোক দেখানো কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড দাবী এলাকাবাসীর

বর্ধিত সময়েও শেষ হয়নি সিলেটের সুরমা নদীর ১৫ কিলোমিটার খনন কাজ

Update Time : ০২:৫৫:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

সিলেটের সুরমা নদী খনন প্রকল্পটি নির্ধারিত মেয়াদেও শেষ হয়নি। লামাকাজী বাজারের কিছু অংশ ও খিত্তার গাও এলাকায় সরমা নদীতে চর সহ সুরমার অনেক স্থানে এখনও খনন শুরু হয়নি। লোক দেখানো কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড এ দাবী সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজনের।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে আগামী জুন মাস পর্যন্ত তারা খনন কাজ চালিয়ে যাবেন। এর মধ্যে ১৫ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন না হলেও যতটুকু কাজ সম্পন্ন হবে তা নিয়েই প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাবে। এরমধ্যে অন্তত ৮০ ভাগ কাজ শেষ করতে চায় পাউবো। অন্যদিকে সুরমা নদীর সিলেট নগরীর কুশিঘাট এলাকায় বিশাল এলাকা জুড়ে নদীর বুকে সৃষ্টি হয়েছে মাঠ। সেখানে প্রতিদিন চলে ফুটবল খেলা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ২২ জানুয়ারি ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট নগরীর কুশিঘাট থেকে বিশ্বনাথের দশগ্রাম পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার জায়গার ১৫ কিলোমিটার খনন কাজ শুরু হয়। সিলেট সদর উপজেলার চানপুর নামক স্থান থেকে নদী খনন কার্যক্রম এর উদ্বোধন করেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান এমপি ডক্টর এ কে আব্দুল মোমেন। কিন্তু খনন শুরুর এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই শুরু হয় নানা প্রতিবন্ধকতা।

অন্যদিকে পাউবো সূত্র জানায়, ২০২২ সালের জুনে শেষ হয়েছে চলমান এ প্রকল্পের মেয়াদ। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে নদীর সমীক্ষা শেষ হয়। এরপর ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে পরিমার্জন (রিভাইজ) করে অবশেষে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে কাজ শুরু হয়। গতবছরের জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। সিলেট নগরীর কুশিঘাট থেকে বিশ্বনাথের দশগ্রাম পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার জায়গার ১৫ কিলোমিটার খনন করা হবে এ প্রকল্পের অধীনে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সিলেটের প্রধান নদীর বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠেছে। কাজিরবাজার, কুশিঘাটসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এক তৃতীয়াংশ শুকিয়ে গেছে। সেই শুকনো স্থানে প্রতিদিন সকাল, দুপুর কিংবা বিকেলে ফুটবল-ক্রিকেট খেলার ধুম পড়ে। কেউ কেউ সবুজ শাকসবজিও ফলাচ্ছেন চরে। কোথাও কোথাও পানিও নেমে গেছে হাঁটুর নিচে। ছোট শিশুরা পায়ে হেঁটে দিব্যি সুরমা পাড়ি দিচ্ছে যখন তখন। আবার কাজিরবাজার এলাকায় দেখা গেছে অন্যচিত্র। ময়লা আবর্জনার ছড়াছড়ি সবদিকে। তার মধ্যে পলিথিন, প্লাস্টিক বেশি। দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছে।

অপরদিকে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্যের কারণে খনন কাজ বার বার বাধাগ্রস্ত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে খনন কাজ শেষ করা যায়নি। প্লাস্টিক ও পলিথিনে মেশিনারী যন্ত্রপাতি বিকল হয়। গত মৌসুমে ২০/২৫ মিনিট পরপর মেশিন পরিস্কার করতে হয়েছে। তখন দফায় দফায় খনন কাজ বন্ধ রাখতে হয়। অবশ্য চলতি মৌসুমে দ্রুত খনন কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানান ঠিকাদারী সংস্থা কনফিডেন্স গ্রপের প্রতিনিধি সিনিয়র ম্যানেজার আজিম উদ্দিন।

তিনি জানান, বর্তমানে টুকেরবাজার ও জাঙ্গাইল এলাকায় খনন কাজ চলছে।কিন্তু কাজের তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছেনা। লামাকাজীর খিত্তার গাও এলাকায় সরমা নদীতে চর জেগেছে। অপর দিকে বিশ্বনাথের আতাপুর বিদ্যাপতি গ্রামসহ লামাকাজী- বিশ্বনাথ- রশিদপুর সড়ক নদী ভাঙ্গনের হুমকীর সম্মুখীন বলে এলাকাবাসী জানান। এলাকাবাসী সিলেট পানি উন্রানয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে এ ব্যাপারে আবেদন ও করেছেন। লামাকাজীর খিত্তার গাও এলাকায় সরমা নদীতে চর খননের জোর দাবী জানান।

এদিকে, গত ১১ বছরে সিলেটের সুরমা নদী খননে চারটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনাগুলো (ডিপিপি) মন্ত্রাণলয়ে পাঠানো হয়। এরপর তিনবার সমীক্ষাও চালানো হয়। কিন্তু ওই প্রকল্পগুলোর কোনোটাই আলোর মুখ দেখেনি। ছোটো পরিসরে যে একটি প্রকল্প চলছে তাও নির্ধারিত সময়ে খনন কাজ শতভাগ শেষ করা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

পরিবেশবাদী সংগঠন ভূমি সন্তান সিলেটের কর্মী শুয়াইব হাসান বলেন, সুরমা নদীতে যে খনন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে, সেটি গত বর্ষার আগে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা ছিল। ঠিক তাই হয়েছে। কারণ বর্ষায় কাজ শেষ না হলে নদীতে আবার পলি জমে সেই আগের অবস্থায় ফিরে যায় নদীর তলদেশ।

তিনি অভিযোগ করেন, মেয়াদ বাড়লেও মাঝ পথে কাজ শেষ দেখিয়ে বাজেট গলধকরণ করার দূরবিসন্ধি আছে কিনা সেই সন্দেহ উড়িয়ে দেয়া যায়না। অন্যদিকে অল্প বৃষ্টিতে বারবার জলাবদ্ধতায় পড়তে হয় সিলেট নগরবাসীকে। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি খনন করে সুরমা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার। তবে সুরমার চলমান খনন কাজ জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজে আসবে কিনা এ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ জানান, চলমান প্রকল্পটি আগামী জুন পর্যন্ত চালানো যাবে। এরমধ্যে শতভাগ খনন কাজ শেষ না হলেও অন্তত ৮০ ভাগ কাজ শেষ হবে। দ্রুতগতিতে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, সুরমার সিলেট অংশের যে অংশটি কুশিঘাট এলাকা নিয়ে সবচেয়ে বেশি মাতামাতি হচ্ছে, সেটি প্রকল্পের আওতাধীন রয়েছে। দু’ একমাসের মধ্যে এই অংশে খনন কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, এখানে এক সাথে সবকটা ড্রেজার চালাতে হবে। এর জন্য সবশেষে কুশিঘাট এলাকা খনন শুরু হবে। তিনি জানান, প্রকল্পের আর কোন মেয়াদ বাড়বেনা।