ঢাকা ১১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভাগ্নে-ভাগ্নিকে গলা কেটে হত্যার দায়ে মামার মৃত্যুদন্ড থমথমে রংপুর: কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীদের দখলে রাজপথ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ মুক্ত ঘোষণা সিলেট শাবি’র হলে হলে আন্দোলকারীদের তল্লাশী, অস্ত্র উদ্ধার,ক্যাম্পাস না ছাড়ার ঘোষণা মোটরসাইকেল নিয়ে দ্বন্দ্বে ঘরে ঢুকে যুবককে গুলি করে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ কোটাবিরোধী আন্দোলন: নোয়াখালীতে যুবদল-ছাত্রদলের ৫ নেতা গ্রেপ্তার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা, হল ছাড়তে নারাজ শিক্ষার্থীরা পুলিশের ওপর হামলা ও আগুন লাগার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে – আর‌পিএম‌পি ক‌মিশনার কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত বেরোবি শিক্ষার্থী আবু সাঈদের দাফন সম্পন্ন আমার ভাই মরলো কেন! প্রশাসন জবাব চাই’ শ্লোগানে উত্তাল গাইবান্ধা
ফলন ও বাজার দর ভাল পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন চাষীরা

গোবিন্দগঞ্জের চুইং জাতের আখের কদর বেড়েছে

Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ মে ২০২৩
  • / ১০০ Time View

গাইবান্ধা থেকে আঃ খালেক মন্ডলঃ চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমের প্রচন্ড গরম ও দাবদাহে সারাদেশে কদর বেড়েছে গোবিন্দগঞ্জের চুইং (চিবিয়ে খাওয়া) জাতের আখের।

বৈশাখের শুরু থেকেই প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকাররা ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে নিয়ে যাচ্ছে এই রসালো নরম আখ। উপজেলার কমারদহ ইউনিয়নের কৃষকরা এ বছর অধিক জমিতে চাষ করেছেন চিউইং ভ্যারাইটি লাল জাতের এই আখ ।

এ বছর অনুকুল আবহাওয়ার কারণে আখের রোগ বালাই ও পোকা আক্রমণ কম। এ কারণে ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। এর ওপর চলতি বছর প্রচন্ড গরম থাকায় বিশেষ জাতের এই আখের চহিদা বাড়ায় বাজার দর ভালো পেয়ে লাভবান হচ্ছেন চাষীরা।

 

বিগত বছরগুলোতে করোনার কারণে চাহিদা কমে যাওয়ায় বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন কৃষকরা। কিন্ত এ বছর প্রচন্ড গরম ও দাবদাহর কারণে চাহিদা বাড়ায় ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় খুশি তারা। ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও বগুড়া, নওগাঁ, রাজশাহী, খুলনা, সাতক্ষীরা, নারায়নগঞ্জ, সিলেটসহ নানা জায়গা থেকে পাইকাররা আসতে শুরু করেছেন।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কমারদহ ইউনিয়নের আখচাষীরা এবারও বকচর, চেরাগাড়ী, চাঁদপারা, ঘোড়ামারা, মাস্তা, বার্ণাআকুবসহ আশপাশের এলাকা জুড়ে বিশেষ লাল জাতের কিউ সিক্সটিন, বিএসআরআই-৪১ ও ৪২ জাতের আখ চাষ করেছেন। বিশেষ লাল রঙের এ আখ দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও তেমনি মিষ্টি, রসালো নরম এবং সুস্বাদু। তাই এ আখের শরবত বিক্রি হয়ে থাকে এবং ছোবা নরম হওয়ায় মানুষ চিবিয়ে খেয়ে থাকেন। দেশব্যাপী এ আখের চাহিদা বাড়াই আখ কিনতে আসা ব্যবসায়ী এবং পাইকারদের উপস্থিতিতে এখন সরগরম এই এলাকা।

বকচর গ্রামের চুইং জাতের আখ চাষী সুজা মিয়া বলেন, চৈত্র-বৈশাখ আখ বিক্রির ভরা মৌসুম। তাই বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ী এবং পাইকাররা আখ কিনতে আসছেন। তবে বর্উতমানে প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বাড়ায় আখ চাষের ব্যয় বেড়েছে। তবে এ বছর আখের ফলন ভালো ও বাজারে আখের চাহিদা থাকায় দাম ভালো আছে এজন্য আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার আশা আছে। তিনি বলেন, বিগত দু’তিন বছর করোনার কারনে আখ বিক্রি করতে না পারায় এই এলাকার আখচাষীদের ক্ষেতেই শত শত বিঘা জমির আখ নষ্ট হয়ে চরম লোকসান গুনতে হয়েছে। এবার কিছুটা হলেও সে ক্ষতি পোষাতে পারেবেন কৃষক।

ব্যবসায়ী ও স্থানীয় আখের রস বিক্রেতা সোলায়মান আলী জানান, এ বছর গরম বেশি পড়ায় বাজারে আখের রস বিক্রি বেড়েছে। আর এ কারনে আখের চাহিদাও বেড়েছে। জমি থেকেই প্রতি পিছ আখ কিনতে হচ্ছে ৯ থেকে ১০ টাকায়। যা শত করা ৯শ” থেকে হাজার টাকা। আর এক গ্লাস সরবত বিক্রি হয় ১০ টাকায়। গরম থাকলে বেশ ভাল বিক্রি হয়।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রেজা-ই-মাহমুদ বলেন, চাষীদের বিশেষ লাল জাতের চুইং ভ্যারাইটির এ আখ আবাদে কারিগরি ধারনা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই আখ এই উপজেলার একটি অর্থকরী ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এ জন্য নিয়মিত বিশেষ তদারকি করা হচ্ছে ।

আগামীতে আখের রসের জুস তৈরীতে ও প্রক্রিয়াজাত করণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি ভাবে উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এই এলাকার আখ চাষীরা।

Please Share This Post in Your Social Media

ফলন ও বাজার দর ভাল পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন চাষীরা

গোবিন্দগঞ্জের চুইং জাতের আখের কদর বেড়েছে

Reporter Name
Update Time : ১০:৫১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ মে ২০২৩

গাইবান্ধা থেকে আঃ খালেক মন্ডলঃ চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমের প্রচন্ড গরম ও দাবদাহে সারাদেশে কদর বেড়েছে গোবিন্দগঞ্জের চুইং (চিবিয়ে খাওয়া) জাতের আখের।

বৈশাখের শুরু থেকেই প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকাররা ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে নিয়ে যাচ্ছে এই রসালো নরম আখ। উপজেলার কমারদহ ইউনিয়নের কৃষকরা এ বছর অধিক জমিতে চাষ করেছেন চিউইং ভ্যারাইটি লাল জাতের এই আখ ।

এ বছর অনুকুল আবহাওয়ার কারণে আখের রোগ বালাই ও পোকা আক্রমণ কম। এ কারণে ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। এর ওপর চলতি বছর প্রচন্ড গরম থাকায় বিশেষ জাতের এই আখের চহিদা বাড়ায় বাজার দর ভালো পেয়ে লাভবান হচ্ছেন চাষীরা।

 

বিগত বছরগুলোতে করোনার কারণে চাহিদা কমে যাওয়ায় বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন কৃষকরা। কিন্ত এ বছর প্রচন্ড গরম ও দাবদাহর কারণে চাহিদা বাড়ায় ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় খুশি তারা। ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও বগুড়া, নওগাঁ, রাজশাহী, খুলনা, সাতক্ষীরা, নারায়নগঞ্জ, সিলেটসহ নানা জায়গা থেকে পাইকাররা আসতে শুরু করেছেন।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কমারদহ ইউনিয়নের আখচাষীরা এবারও বকচর, চেরাগাড়ী, চাঁদপারা, ঘোড়ামারা, মাস্তা, বার্ণাআকুবসহ আশপাশের এলাকা জুড়ে বিশেষ লাল জাতের কিউ সিক্সটিন, বিএসআরআই-৪১ ও ৪২ জাতের আখ চাষ করেছেন। বিশেষ লাল রঙের এ আখ দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও তেমনি মিষ্টি, রসালো নরম এবং সুস্বাদু। তাই এ আখের শরবত বিক্রি হয়ে থাকে এবং ছোবা নরম হওয়ায় মানুষ চিবিয়ে খেয়ে থাকেন। দেশব্যাপী এ আখের চাহিদা বাড়াই আখ কিনতে আসা ব্যবসায়ী এবং পাইকারদের উপস্থিতিতে এখন সরগরম এই এলাকা।

বকচর গ্রামের চুইং জাতের আখ চাষী সুজা মিয়া বলেন, চৈত্র-বৈশাখ আখ বিক্রির ভরা মৌসুম। তাই বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ী এবং পাইকাররা আখ কিনতে আসছেন। তবে বর্উতমানে প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বাড়ায় আখ চাষের ব্যয় বেড়েছে। তবে এ বছর আখের ফলন ভালো ও বাজারে আখের চাহিদা থাকায় দাম ভালো আছে এজন্য আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার আশা আছে। তিনি বলেন, বিগত দু’তিন বছর করোনার কারনে আখ বিক্রি করতে না পারায় এই এলাকার আখচাষীদের ক্ষেতেই শত শত বিঘা জমির আখ নষ্ট হয়ে চরম লোকসান গুনতে হয়েছে। এবার কিছুটা হলেও সে ক্ষতি পোষাতে পারেবেন কৃষক।

ব্যবসায়ী ও স্থানীয় আখের রস বিক্রেতা সোলায়মান আলী জানান, এ বছর গরম বেশি পড়ায় বাজারে আখের রস বিক্রি বেড়েছে। আর এ কারনে আখের চাহিদাও বেড়েছে। জমি থেকেই প্রতি পিছ আখ কিনতে হচ্ছে ৯ থেকে ১০ টাকায়। যা শত করা ৯শ” থেকে হাজার টাকা। আর এক গ্লাস সরবত বিক্রি হয় ১০ টাকায়। গরম থাকলে বেশ ভাল বিক্রি হয়।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রেজা-ই-মাহমুদ বলেন, চাষীদের বিশেষ লাল জাতের চুইং ভ্যারাইটির এ আখ আবাদে কারিগরি ধারনা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই আখ এই উপজেলার একটি অর্থকরী ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এ জন্য নিয়মিত বিশেষ তদারকি করা হচ্ছে ।

আগামীতে আখের রসের জুস তৈরীতে ও প্রক্রিয়াজাত করণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি ভাবে উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এই এলাকার আখ চাষীরা।