ঢাকা ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গুগলের দেয়া তথ্যে বাংলাদেশে শিশু যৌন নিপীড়নকারী গ্রেফতার

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:১৮:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জুন ২০২৩
  • / ৯৩ Time View

যৌন নিপীড়নকারী ইনজামুল ইসলাম(২৬)। ছবি: সংগৃহীত

সার্চ ইঞ্জিন গুগলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একাধিক শিশু যৌন নিপীড়নকারী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তার নাম মো. ইনজামুল ইসলাম (২৬)। গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার ভবানীপুরের বানিয়ার চালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ ও দিনাজপুরের ১০ বছরের কম বয়সি একাধিক শিশুকে যৌন নিপীড়ন করেছে ২৬ বছরের তরুণ ইনজামুল ইসলাম। যৌন নিপীড়নের সেই দৃশ্যগুলো ভিডিও ধারণ করে রাখে নিজের মুঠোফোনে।

ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন গুগল এ তথ্য পৌঁছে দেয় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেনের (এনসিএমইসি) কাছে। তারা এ তথ্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকাকে জানিয়ে দেয়।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এ বিষয়ে সিআইডিকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে সিআইডি প্রধান সম্মানিত অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়ার দিকনির্দেশনায় সিআইডি’র সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) বিষয়টি পর্যবেক্ষণ এবং অনুসন্ধানপূর্বক ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তরুণকে শনাক্ত করে।

৩১ মে বুধবার সিআইডি, সিপিসির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্টের বিশেষ টিম গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুরের বানিয়ারচালা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত ইনজামুল ইসলামকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার ইনজামুল ইসলামকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুগুলো তার নিকটাত্মীয়। গত ২০১৯ সালে সে তার এক নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে প্রথম শারীরিক সম্পর্ক করে। প্রতিনিয়ত শারীরিক সম্পর্ক করার সময় একদিন তার ওই নিকটাত্মীয়ের মেয়ে তাদের ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলে।

অভিযুক্ত তরুণ তার ওই নিকটাত্মীয়ের মেয়েকেও (১০) ফুসলিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং নগ্ন ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে নিকটাত্মীয়ের মেয়েকে আরও প্রলোভন দেখিয়ে তার অন্য বান্ধবীদের এনে যৌন নিপীড়ন করার পাশাপাশি তাদের যৌন নিপীড়নের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। সেসব তার মোবাইল ফোনের স্টোরেজ ও গুগল ড্রাইভে সংরক্ষণ করে রাখে।

অভিযুক্তকে গ্রেফতারের সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে তার অন্যান্য নিকটাত্মীয়সহ অনেকের নগ্ন ছবি, ভিডিও এবং চাইল্ড পর্নোগ্রাফির প্রচুর কন্টেন্ট পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে সে শিশু যৌন নিপীড়নের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।

সে আরও জানায়, গ্রামের শিশু-কিশোরী এবং প্রাপ্তবযয়স্ক নারীদের সঙ্গে প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং পরবর্তীতে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে তাদের ভিডিও কনটেন্ট গুগল ড্রাইভে সংরক্ষণ করে রাখত।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন (এনসিএমইসি) যুক্তরাষ্ট্র্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। তারা শিশু যৌন নির্যাতন বন্ধ, শিশু পর্ণোগ্রাফি নির্মূলসহ শিশুদের অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে।

যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধন করা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যেমন ফেসবুক, গুগল, মাইক্রোসফট তাদের নেটওয়ার্কে শিশুদের যৌন কাজে ব্যবহার, যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য এনসিএমইসিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জানায়।

২০২১ সাল থেকে এনসিএমইসির সঙ্গে যুক্ত হয় সিআইডি। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণপূর্বক শিশু যৌন নিপীড়নকারী শনাক্তকরণসহ আইনানুগ সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় সিআইডি।

গ্রেফতার করা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানা, ডিএমপিতে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ মোতাবেক নিয়মিত মামলা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

গুগলের দেয়া তথ্যে বাংলাদেশে শিশু যৌন নিপীড়নকারী গ্রেফতার

Update Time : ০৮:১৮:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জুন ২০২৩

সার্চ ইঞ্জিন গুগলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একাধিক শিশু যৌন নিপীড়নকারী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তার নাম মো. ইনজামুল ইসলাম (২৬)। গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার ভবানীপুরের বানিয়ার চালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ ও দিনাজপুরের ১০ বছরের কম বয়সি একাধিক শিশুকে যৌন নিপীড়ন করেছে ২৬ বছরের তরুণ ইনজামুল ইসলাম। যৌন নিপীড়নের সেই দৃশ্যগুলো ভিডিও ধারণ করে রাখে নিজের মুঠোফোনে।

ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন গুগল এ তথ্য পৌঁছে দেয় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেনের (এনসিএমইসি) কাছে। তারা এ তথ্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকাকে জানিয়ে দেয়।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এ বিষয়ে সিআইডিকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে সিআইডি প্রধান সম্মানিত অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়ার দিকনির্দেশনায় সিআইডি’র সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) বিষয়টি পর্যবেক্ষণ এবং অনুসন্ধানপূর্বক ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তরুণকে শনাক্ত করে।

৩১ মে বুধবার সিআইডি, সিপিসির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্টের বিশেষ টিম গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুরের বানিয়ারচালা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত ইনজামুল ইসলামকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার ইনজামুল ইসলামকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুগুলো তার নিকটাত্মীয়। গত ২০১৯ সালে সে তার এক নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে প্রথম শারীরিক সম্পর্ক করে। প্রতিনিয়ত শারীরিক সম্পর্ক করার সময় একদিন তার ওই নিকটাত্মীয়ের মেয়ে তাদের ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলে।

অভিযুক্ত তরুণ তার ওই নিকটাত্মীয়ের মেয়েকেও (১০) ফুসলিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং নগ্ন ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে নিকটাত্মীয়ের মেয়েকে আরও প্রলোভন দেখিয়ে তার অন্য বান্ধবীদের এনে যৌন নিপীড়ন করার পাশাপাশি তাদের যৌন নিপীড়নের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। সেসব তার মোবাইল ফোনের স্টোরেজ ও গুগল ড্রাইভে সংরক্ষণ করে রাখে।

অভিযুক্তকে গ্রেফতারের সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে তার অন্যান্য নিকটাত্মীয়সহ অনেকের নগ্ন ছবি, ভিডিও এবং চাইল্ড পর্নোগ্রাফির প্রচুর কন্টেন্ট পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে সে শিশু যৌন নিপীড়নের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।

সে আরও জানায়, গ্রামের শিশু-কিশোরী এবং প্রাপ্তবযয়স্ক নারীদের সঙ্গে প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং পরবর্তীতে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে তাদের ভিডিও কনটেন্ট গুগল ড্রাইভে সংরক্ষণ করে রাখত।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন (এনসিএমইসি) যুক্তরাষ্ট্র্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। তারা শিশু যৌন নির্যাতন বন্ধ, শিশু পর্ণোগ্রাফি নির্মূলসহ শিশুদের অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে।

যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধন করা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যেমন ফেসবুক, গুগল, মাইক্রোসফট তাদের নেটওয়ার্কে শিশুদের যৌন কাজে ব্যবহার, যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য এনসিএমইসিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জানায়।

২০২১ সাল থেকে এনসিএমইসির সঙ্গে যুক্ত হয় সিআইডি। সেখান থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণপূর্বক শিশু যৌন নিপীড়নকারী শনাক্তকরণসহ আইনানুগ সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় সিআইডি।

গ্রেফতার করা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানা, ডিএমপিতে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ মোতাবেক নিয়মিত মামলা হয়েছে।