ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কালীগঞ্জে দুলাল ভান্ডারী হত্যাকান্ড: পুলিশের রহস্যজনক ভুমিকায় ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শংকা

Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ মে ২০২৩
  • / ৮২ Time View

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জে দুলাল ভান্ডারীর নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশের রহস্যজনক ভুমিকার কারণে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন নিহত দুলালের পুত্র ও মামলার বাদী আরাফাত।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদক ব্যবসার টাকার ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ নিহত দুলাল ভান্ডারী, মাহবুব মেম্বারের ছোট ভাই হাবিবুর ও রূপগঞ্জ উপজেলার মধ্য জিন্দা গ্রামের আঃ কুদ্দুছ আকন্দের পুত্র রায়হানের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

এরই প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার (১১ মে) রাত ৯টার দিকে দুলাল ভান্ডারী কালীগঞ্জ বাজার বাসষ্ট্যান্ডে রায়হানকে দেখতে পেয়ে তাড়া করলে সে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।

রায়হানকে পালিয়ে যেতে দেখে দুলাল তার আত্মীয় বর্তুল গ্রামের সোহেল মাঝি ও শান্তকে ফোনে জানায় রায়হান কালীগঞ্জে মোটরসাইকেল দিয়ে এক শিশুকে আহত করে পালিয়ে যাচ্ছে। তাকে দেখতে পেলে যেন থামানো হয়।

পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সোহেল মাঝি ও তার পুত্র শান্ত রায়হানকে তাদের বাড়ীর সামনের রাস্তায় আটক করে। কিছুক্ষণ পরে দুলাল ও তার দুই সঙ্গী বর্তুল গ্রামের ফিরোজ মিয়ার পুত্র সোহেল এবং একই এলাকার কমল চন্দ্র মন্ডলের পুত্র প্রান্ত সেখানে মোটরসাইকেলে করে হাজির হয়ে রায়হানকে মারধরের চেষ্টা করে।

এসময় রায়হান তার মোটরসাইকেল ও চাবি ফেলে পালিয়ে গিয়ে তার আত্মীয় মাহবুব মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করে। পরে মাহবুব মেম্বার ও তার ছোট ভাই মাদক ব্যবসায়ী হাবিবুর তাদের লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে দুলালের উপর আক্রমণের চেষ্টা করলে সোহেল ও প্রান্ত কৌশলে পালিয়ে যায় এবং দুলাল প্রাণ রক্ষার্থে সোহেল মাঝির বাড়ীর ছাদে আশ্রয় নেয়।

পরে তারা সোহেল মাঝির বাড়ীতে হামলা এবং বাড়ীর গেট, দরজা, জানালা ভাংচুর করে দুলাল, সোহেল মাঝি ও শান্তকে খুঁজতে থাকে।

এরই ফাঁকে দুলাল ছাদ থেকে নেমে শান্তর ঘরে সুকেসের পিছনে আশ্রয় নিলে তারা তাকে সেখান থেকে খুঁজে বের করে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে আহত করে রাস্তায় ফেলে রাখে। পরে সেখান থেকে অটোরিক্সাযোগে সাত খালের মুখে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পুনরায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরি ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে মূমূর্ষ অবস্থায় ফেলে রাখে।

দুলালের অবস্থা আশংকাজনক দেখে মাহবুব মেম্বার রাত তিনটার দিকে ফোনে কালীগঞ্জ থানাকে জানায় স্থানীয়রা এক ছিনতাইকারীকে পিটিয়ে আহত করে ফেলে রেখেছে। তখন থানা পুলিশ আহতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাহবুব মেম্বারকে পরামর্শ দিলে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি দুলালকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালের রেজিষ্ট্রারে ওই দুই ব্যক্তি তাদের নিজ নাম না লিখে রায়হান ও জুলফিকরের নাম উল্লেখ করে চলে যায়।

পরে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুলালের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করেন। ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য মাহবুব মেম্বার তার নিকটাত্মীয় মাদক ব্যবসায়ী রায়হানকে একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করার পরামর্শ দিয়ে ওই রাতেই থানায় প্রেরণ করে।

পুলিশ রায়হানের নিকট লিখিত অভিযোগ চাইলে সে লিখিত অভিযোগ না করেই থানা থেকে পালিয়ে যায়।

শুক্রবার সকালে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে মাহবুব মেম্বারকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসে এবং ওই দিন বিকেলে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে প্রেরণ করেন।

নিহত দুলালের ভগ্নিপতি জুলফিকার আলী হাসান জানান, ‘হত্যাকান্ডের ঘটনায় আমি সহ নিহতের পুত্র আরাফাত মামলা দায়েরের জন্য শুক্রবার দুপুরে থানায় গেলে ওসি (তদন্ত) শেখ মোঃ আমিরুল ইসলাম মামলা না নিয়ে বিভিন্ন বাহানায় কালক্ষেপন করতে থাকেন।

নানা নাটকিয়তা শেষে রাত প্রায় সাড়ে ৭টার দিকে আমাদের নিকট হতে ওসি (তদন্ত) আসামীদের নামের তালিকা নেয়।

পরে রাত প্রায় ১১টার দিকে ওই কর্মকর্তা আরাফাতের হাতে একটি কম্পিউটার প্রিন্ট আউট দিয়ে সেখানে স্বাক্ষর দিতে বলেন এবং জানান যে, আপনারা ১১ জনের নাম দিয়েছেন কিন্তু ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত না থাকায় ১জনকে বাদ দিয়ে আমরা এজাহারে ১০জনের নাম উল্লেখ করেছি।

পিতার মৃত্যুশোক, সারাদিনের ক্লান্তি, দুঃশ্চিন্তা ও আসামীদের নাম মুখস্ত না থাকায় আরাফাত এজাহারে আসামীদের নামের ক্রমিক নং ১-১০ পর্যন্ত দেখে স্বাক্ষর করে।

এসময় অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফায়েজুর রহমান তার কক্ষে এজাহারে স্বাক্ষর করার মূহুর্তটি অদৃশ্য কারণে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে আমাদেরকে মামলার কোন কপি না দিয়েই বিদায় করে দেন।

পরে শনিবার দুপুরে আমরা মামলার কপির জন্য থানায় গেলে সন্ধ্যায় আসার জন্য বলেন। কিন্তু সন্ধ্যায়ও আমাদেরকে কোন কপি দেওয়া হয়নি।

এদিকে শনিবার বিকেলে মামলার কপি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাতে বিষয়টি বাদীর নজরে পড়ে। তিনি সেখান থেকে এজাহার পড়ে জানতে পারেন ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত আসামীদের নামের তালিকা হতে ৬ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বাদীর সাথে আলোচনা না করেই অন্য ৫ জনের নাম অর্ন্তভুক্ত করে ১০জনের নামে এজাহারটি লিখা হয়েছে। সে কারণেই এজাহারে স্বাক্ষর নেওয়ার সময় বিষয়টি ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি দুলাল ভাইকে হাসপাতালে নিয়ে যাইনি। কে বা কারা আমার নাম রেজিষ্ট্রারভুক্ত করেছে। তবে হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সময় আমি তার সাথে ছিলাম। প্রকৃত আসামীদের বাদ দিয়ে অন্য ব্যক্তিদের নাম এজাহারভুক্ত করায় আমরা সুবিচার পাওয়া নিয়ে শংকায় আছি।’

এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত (সোমবার বিকেল) মামলার সর্বশেষ তথ্য ও এজাহারের কপি বাদীকে দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

অপর দিকে মামলার ১নং আসামী মাহবুব মেম্বারকে মামলা দায়েরের পূর্বেই ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করেন।

কিন্তু আসামীদের তালিকায় মাহবুব মেম্বারের নাম থাকায় পরে তাকে হত্যা মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) শেখ মোঃ আমিরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করে রিসিভ না করায় পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

কালীগঞ্জে দুলাল ভান্ডারী হত্যাকান্ড: পুলিশের রহস্যজনক ভুমিকায় ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শংকা

Update Time : ০৮:০৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ মে ২০২৩

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জে দুলাল ভান্ডারীর নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশের রহস্যজনক ভুমিকার কারণে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন নিহত দুলালের পুত্র ও মামলার বাদী আরাফাত।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদক ব্যবসার টাকার ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ নিহত দুলাল ভান্ডারী, মাহবুব মেম্বারের ছোট ভাই হাবিবুর ও রূপগঞ্জ উপজেলার মধ্য জিন্দা গ্রামের আঃ কুদ্দুছ আকন্দের পুত্র রায়হানের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

এরই প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার (১১ মে) রাত ৯টার দিকে দুলাল ভান্ডারী কালীগঞ্জ বাজার বাসষ্ট্যান্ডে রায়হানকে দেখতে পেয়ে তাড়া করলে সে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।

রায়হানকে পালিয়ে যেতে দেখে দুলাল তার আত্মীয় বর্তুল গ্রামের সোহেল মাঝি ও শান্তকে ফোনে জানায় রায়হান কালীগঞ্জে মোটরসাইকেল দিয়ে এক শিশুকে আহত করে পালিয়ে যাচ্ছে। তাকে দেখতে পেলে যেন থামানো হয়।

পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সোহেল মাঝি ও তার পুত্র শান্ত রায়হানকে তাদের বাড়ীর সামনের রাস্তায় আটক করে। কিছুক্ষণ পরে দুলাল ও তার দুই সঙ্গী বর্তুল গ্রামের ফিরোজ মিয়ার পুত্র সোহেল এবং একই এলাকার কমল চন্দ্র মন্ডলের পুত্র প্রান্ত সেখানে মোটরসাইকেলে করে হাজির হয়ে রায়হানকে মারধরের চেষ্টা করে।

এসময় রায়হান তার মোটরসাইকেল ও চাবি ফেলে পালিয়ে গিয়ে তার আত্মীয় মাহবুব মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করে। পরে মাহবুব মেম্বার ও তার ছোট ভাই মাদক ব্যবসায়ী হাবিবুর তাদের লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে দুলালের উপর আক্রমণের চেষ্টা করলে সোহেল ও প্রান্ত কৌশলে পালিয়ে যায় এবং দুলাল প্রাণ রক্ষার্থে সোহেল মাঝির বাড়ীর ছাদে আশ্রয় নেয়।

পরে তারা সোহেল মাঝির বাড়ীতে হামলা এবং বাড়ীর গেট, দরজা, জানালা ভাংচুর করে দুলাল, সোহেল মাঝি ও শান্তকে খুঁজতে থাকে।

এরই ফাঁকে দুলাল ছাদ থেকে নেমে শান্তর ঘরে সুকেসের পিছনে আশ্রয় নিলে তারা তাকে সেখান থেকে খুঁজে বের করে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে আহত করে রাস্তায় ফেলে রাখে। পরে সেখান থেকে অটোরিক্সাযোগে সাত খালের মুখে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পুনরায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরি ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে মূমূর্ষ অবস্থায় ফেলে রাখে।

দুলালের অবস্থা আশংকাজনক দেখে মাহবুব মেম্বার রাত তিনটার দিকে ফোনে কালীগঞ্জ থানাকে জানায় স্থানীয়রা এক ছিনতাইকারীকে পিটিয়ে আহত করে ফেলে রেখেছে। তখন থানা পুলিশ আহতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাহবুব মেম্বারকে পরামর্শ দিলে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি দুলালকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালের রেজিষ্ট্রারে ওই দুই ব্যক্তি তাদের নিজ নাম না লিখে রায়হান ও জুলফিকরের নাম উল্লেখ করে চলে যায়।

পরে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক দুলালের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করেন। ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য মাহবুব মেম্বার তার নিকটাত্মীয় মাদক ব্যবসায়ী রায়হানকে একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করার পরামর্শ দিয়ে ওই রাতেই থানায় প্রেরণ করে।

পুলিশ রায়হানের নিকট লিখিত অভিযোগ চাইলে সে লিখিত অভিযোগ না করেই থানা থেকে পালিয়ে যায়।

শুক্রবার সকালে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে মাহবুব মেম্বারকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসে এবং ওই দিন বিকেলে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে প্রেরণ করেন।

নিহত দুলালের ভগ্নিপতি জুলফিকার আলী হাসান জানান, ‘হত্যাকান্ডের ঘটনায় আমি সহ নিহতের পুত্র আরাফাত মামলা দায়েরের জন্য শুক্রবার দুপুরে থানায় গেলে ওসি (তদন্ত) শেখ মোঃ আমিরুল ইসলাম মামলা না নিয়ে বিভিন্ন বাহানায় কালক্ষেপন করতে থাকেন।

নানা নাটকিয়তা শেষে রাত প্রায় সাড়ে ৭টার দিকে আমাদের নিকট হতে ওসি (তদন্ত) আসামীদের নামের তালিকা নেয়।

পরে রাত প্রায় ১১টার দিকে ওই কর্মকর্তা আরাফাতের হাতে একটি কম্পিউটার প্রিন্ট আউট দিয়ে সেখানে স্বাক্ষর দিতে বলেন এবং জানান যে, আপনারা ১১ জনের নাম দিয়েছেন কিন্তু ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত না থাকায় ১জনকে বাদ দিয়ে আমরা এজাহারে ১০জনের নাম উল্লেখ করেছি।

পিতার মৃত্যুশোক, সারাদিনের ক্লান্তি, দুঃশ্চিন্তা ও আসামীদের নাম মুখস্ত না থাকায় আরাফাত এজাহারে আসামীদের নামের ক্রমিক নং ১-১০ পর্যন্ত দেখে স্বাক্ষর করে।

এসময় অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফায়েজুর রহমান তার কক্ষে এজাহারে স্বাক্ষর করার মূহুর্তটি অদৃশ্য কারণে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে আমাদেরকে মামলার কোন কপি না দিয়েই বিদায় করে দেন।

পরে শনিবার দুপুরে আমরা মামলার কপির জন্য থানায় গেলে সন্ধ্যায় আসার জন্য বলেন। কিন্তু সন্ধ্যায়ও আমাদেরকে কোন কপি দেওয়া হয়নি।

এদিকে শনিবার বিকেলে মামলার কপি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাতে বিষয়টি বাদীর নজরে পড়ে। তিনি সেখান থেকে এজাহার পড়ে জানতে পারেন ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত আসামীদের নামের তালিকা হতে ৬ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বাদীর সাথে আলোচনা না করেই অন্য ৫ জনের নাম অর্ন্তভুক্ত করে ১০জনের নামে এজাহারটি লিখা হয়েছে। সে কারণেই এজাহারে স্বাক্ষর নেওয়ার সময় বিষয়টি ভিডিও ধারণ করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি দুলাল ভাইকে হাসপাতালে নিয়ে যাইনি। কে বা কারা আমার নাম রেজিষ্ট্রারভুক্ত করেছে। তবে হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সময় আমি তার সাথে ছিলাম। প্রকৃত আসামীদের বাদ দিয়ে অন্য ব্যক্তিদের নাম এজাহারভুক্ত করায় আমরা সুবিচার পাওয়া নিয়ে শংকায় আছি।’

এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত (সোমবার বিকেল) মামলার সর্বশেষ তথ্য ও এজাহারের কপি বাদীকে দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

অপর দিকে মামলার ১নং আসামী মাহবুব মেম্বারকে মামলা দায়েরের পূর্বেই ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করেন।

কিন্তু আসামীদের তালিকায় মাহবুব মেম্বারের নাম থাকায় পরে তাকে হত্যা মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) শেখ মোঃ আমিরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করে রিসিভ না করায় পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।