ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উন্মুক্ত হলো খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল, জনসাধারণের ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : ০৫:১৪:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৯৮ Time View

খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে মানুষ ভিড় করছেন।

সদ্য প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে ভিড় করছেন মানুষ। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সেখানে ছুটে আসছেন। বয়স্কদের সঙ্গে শিশু ও কিশোরদের উপস্থিতিও দেখা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে কিছু সময়ের জন্য উদ্যানটি জনসাধারণের জন্য বন্ধ রাখা হয়।

এ সময় বিভিন্ন প্রবেশপথে মানুষ জড়ো হতে থাকেন। পরে সকাল ১১টা ৫৮ মিনিটে জিয়া উদ্যান সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে দর্শনার্থীরা কবর জিয়ারত করতে থাকেন। সংসদ ভবনের বিপরীতে জিয়া উদ্যানের প্রবেশপথে র‍্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়। উদ্যানের ভেতরেও পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর লালমাটিয়া থেকে আসা ১২ বছরের কিশোর শাহ মারুফ এহসান জানায়, , “আমি শুনেছি শেখ হাসিনা থাকাকালীন খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের বিষয়ে কোনো লেখা লিখতে দেওয়া হতো না। কেউ লিখলেও প্রকাশ করতে দিত না। তারপরও যারা লিখত, তাদের গুম করা হতো। খালেদা জিয়াকে কারাগারে যেতে হয়েছে। তিনি তিনবার দেশ পরিচালনা করেছেন। আমি তাকে শ্রদ্ধা করি। তার প্রতি সম্মান জানাতে এখানে এসেছি এবং দোয়া করেছি।”

বেলা ১২টার দিকে কয়েকজনকে সমাধিস্থলে প্রবেশ করে কুরআন তিলাওয়াত করতে দেখা যায়। এ সময় প্রবেশপথে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান ছিল।

খামারবাড়ি থেকে আসা নিলুফার সুলতানা বলেন, “খালেদা জিয়া অল্প বয়সে স্বামী হারিয়েছেন। দুই সন্তানকে নিয়ে সংগ্রাম করেছেন। গত ১৫ বছরে তিনি যে কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা দেশবাসী দেখেছে। তিনি এই দেশের মানুষের অভিভাবক ছিলেন। দেশের মানুষ তাকে ভালোবাসত, গতকালের জানাজায় সেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হয়েছে।”

বিএনপির কর্মী জামান বলেন, “খালেদা জিয়া মহীয়সী নারী ছিলেন। তিনি দেশের গণতন্ত্রের অভিভাবক ছিলেন।”

জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে প্রবেশ করে কবর জিয়ারত করেন।

বের হওয়ার সময় তিনি বলেন, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া আপসহীন ছিলেন। আমি যখন যা চেয়েছি, তিনি আমাকে তা দিয়েছেন। র‍্যাবকে রাজনৈতিকভাবে এক দিনের জন্য, এক ঘণ্টার জন্যও আমরা ব্যবহার করিনি। কেউ এটা বলতে বা প্রমাণ করতে পারবে না।”

“অন্যায় করলে বিএনপির নেতাকর্মীদেরও ছাড় দেওয়া হতো না। এমন নেত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া,” যোগ করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে এসে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল বলেন, “ম্যাডাম ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনে অক্সিজেনের মতো। তার চলে যাওয়ায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাডামের এভাবে চলে যাওয়ার জন্য স্বয়ং ফ্যাসিস্ট হাসিনা দায়ী। কারণ সে নিজে ম্যাডামের মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করেছে। সে যদি হারেস না করতো, কষ্ট না দিত তাহলে ম্যাডামের হয়তোবা এভাবে মৃত্যু হতো না। ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ম্যাডামের আত্মা শান্তি পাবে না।”

Please Share This Post in Your Social Media

উন্মুক্ত হলো খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল, জনসাধারণের ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
Update Time : ০৫:১৪:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

সদ্য প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে ভিড় করছেন মানুষ। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সেখানে ছুটে আসছেন। বয়স্কদের সঙ্গে শিশু ও কিশোরদের উপস্থিতিও দেখা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে কিছু সময়ের জন্য উদ্যানটি জনসাধারণের জন্য বন্ধ রাখা হয়।

এ সময় বিভিন্ন প্রবেশপথে মানুষ জড়ো হতে থাকেন। পরে সকাল ১১টা ৫৮ মিনিটে জিয়া উদ্যান সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে দর্শনার্থীরা কবর জিয়ারত করতে থাকেন। সংসদ ভবনের বিপরীতে জিয়া উদ্যানের প্রবেশপথে র‍্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়। উদ্যানের ভেতরেও পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর লালমাটিয়া থেকে আসা ১২ বছরের কিশোর শাহ মারুফ এহসান জানায়, , “আমি শুনেছি শেখ হাসিনা থাকাকালীন খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের বিষয়ে কোনো লেখা লিখতে দেওয়া হতো না। কেউ লিখলেও প্রকাশ করতে দিত না। তারপরও যারা লিখত, তাদের গুম করা হতো। খালেদা জিয়াকে কারাগারে যেতে হয়েছে। তিনি তিনবার দেশ পরিচালনা করেছেন। আমি তাকে শ্রদ্ধা করি। তার প্রতি সম্মান জানাতে এখানে এসেছি এবং দোয়া করেছি।”

বেলা ১২টার দিকে কয়েকজনকে সমাধিস্থলে প্রবেশ করে কুরআন তিলাওয়াত করতে দেখা যায়। এ সময় প্রবেশপথে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান ছিল।

খামারবাড়ি থেকে আসা নিলুফার সুলতানা বলেন, “খালেদা জিয়া অল্প বয়সে স্বামী হারিয়েছেন। দুই সন্তানকে নিয়ে সংগ্রাম করেছেন। গত ১৫ বছরে তিনি যে কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা দেশবাসী দেখেছে। তিনি এই দেশের মানুষের অভিভাবক ছিলেন। দেশের মানুষ তাকে ভালোবাসত, গতকালের জানাজায় সেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হয়েছে।”

বিএনপির কর্মী জামান বলেন, “খালেদা জিয়া মহীয়সী নারী ছিলেন। তিনি দেশের গণতন্ত্রের অভিভাবক ছিলেন।”

জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে প্রবেশ করে কবর জিয়ারত করেন।

বের হওয়ার সময় তিনি বলেন, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া আপসহীন ছিলেন। আমি যখন যা চেয়েছি, তিনি আমাকে তা দিয়েছেন। র‍্যাবকে রাজনৈতিকভাবে এক দিনের জন্য, এক ঘণ্টার জন্যও আমরা ব্যবহার করিনি। কেউ এটা বলতে বা প্রমাণ করতে পারবে না।”

“অন্যায় করলে বিএনপির নেতাকর্মীদেরও ছাড় দেওয়া হতো না। এমন নেত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া,” যোগ করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে এসে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল বলেন, “ম্যাডাম ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনে অক্সিজেনের মতো। তার চলে যাওয়ায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। ম্যাডামের এভাবে চলে যাওয়ার জন্য স্বয়ং ফ্যাসিস্ট হাসিনা দায়ী। কারণ সে নিজে ম্যাডামের মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করেছে। সে যদি হারেস না করতো, কষ্ট না দিত তাহলে ম্যাডামের হয়তোবা এভাবে মৃত্যু হতো না। ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত ম্যাডামের আত্মা শান্তি পাবে না।”