ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উত্তপ্ত এজলাস, বের করে দেওয়া হলো আইনজীবীকে

রাজনীতি ডেস্ক
  • Update Time : ০৮:৩০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / ৭৫৬ Time View

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সাবেক সভাপতি বরিকুল ইসলাম বাঁধনসহ সাতজনকে ১০ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসময় শুনানিতে আসামি বাঁধনের পক্ষের এক আইনজীবী জুলাই মামলা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এজলাসে রাষ্ট্রপক্ষ ও বিএনপির আইনজীবীদের মধ্যে উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ওই আইনজীবীকে এজলাস থেকে বেরও করে দেওয়া হয়।

বুধবার (৫ নভেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলামের আদালতে সাত আসামিকে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। এসময় আসামি বাঁধনের আইনজীবী হিসেবে রিমান্ড শুনানিতে অংশ নেন এ এস এম আলী হায়দার। শুনানির একপর্যায়ে তিনি বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘একটা সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলার অনেক ফ্লো ছিল। সময়ের পরিক্রমায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলাগুলো এখন স্তিমিত হয়ে গেছে। আমরা দেখেছি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যারা মামলা করেছে, তাদের অনেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সময়ের পরিক্রমায় আমরা দেখবো, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা থেকেও অনেকে নাম প্রত্যাহার করবে। আমরা দেখেছি, এর জন্য বিহাইন্ড দ্য সিন অনেক টাকার লেনদেনও হয়েছে।’

এ বক্তব্যের পরে এজলাসে উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরে আবার রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। আসামিপক্ষে ও রাষ্ট্রপক্ষ আরও অনেকে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত সাত আসামির প্রত্যেককে ১০ দিন করেই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বলেন, ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়ার পর ১০ দিনই মঞ্জুর এটা একটা নজিরবিহীন ঘটনা। এজলাসে আজ হইচই অবস্থা ছিল। কোর্টে স্বাভাবিক পরিবেশ ছিল না।

রিমান্ডে যাওয়া অন্য আসামিরা হলেন- সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম সাইফ, মো. মোস্তাফিজুর রহমান জনি, যুবলীগের কর্মী মো. শেখ রাশেদুজ্জামান, সেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী মো. মামুন শেখ পরশ।

রিমান্ড শুনানি শেষে হাজতখানায় নেওয়ার সময় আসামি সুমন হোসেন বলেন, আমার মতো একজন সুমনকে আটক রেখে কী হবে। লাখ লাখ সুমন আছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে। শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে। ছাত্রলীগ কখনো নিষিদ্ধ হওয়ার সংগঠন না। জয় বাংলা।’

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পল্টন থানার বিজয় নগর পানির ট্যাংকি এলাকায় গত ৩১ অক্টোবর সকাল ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মিছিল দিতে থাকেন। সেসময় তাদের আটক করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

উত্তপ্ত এজলাস, বের করে দেওয়া হলো আইনজীবীকে

রাজনীতি ডেস্ক
Update Time : ০৮:৩০:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সাবেক সভাপতি বরিকুল ইসলাম বাঁধনসহ সাতজনকে ১০ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসময় শুনানিতে আসামি বাঁধনের পক্ষের এক আইনজীবী জুলাই মামলা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এজলাসে রাষ্ট্রপক্ষ ও বিএনপির আইনজীবীদের মধ্যে উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ওই আইনজীবীকে এজলাস থেকে বেরও করে দেওয়া হয়।

বুধবার (৫ নভেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলামের আদালতে সাত আসামিকে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। এসময় আসামি বাঁধনের আইনজীবী হিসেবে রিমান্ড শুনানিতে অংশ নেন এ এস এম আলী হায়দার। শুনানির একপর্যায়ে তিনি বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘একটা সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলার অনেক ফ্লো ছিল। সময়ের পরিক্রমায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলাগুলো এখন স্তিমিত হয়ে গেছে। আমরা দেখেছি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যারা মামলা করেছে, তাদের অনেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সময়ের পরিক্রমায় আমরা দেখবো, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা থেকেও অনেকে নাম প্রত্যাহার করবে। আমরা দেখেছি, এর জন্য বিহাইন্ড দ্য সিন অনেক টাকার লেনদেনও হয়েছে।’

এ বক্তব্যের পরে এজলাসে উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরে আবার রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। আসামিপক্ষে ও রাষ্ট্রপক্ষ আরও অনেকে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত সাত আসামির প্রত্যেককে ১০ দিন করেই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বলেন, ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়ার পর ১০ দিনই মঞ্জুর এটা একটা নজিরবিহীন ঘটনা। এজলাসে আজ হইচই অবস্থা ছিল। কোর্টে স্বাভাবিক পরিবেশ ছিল না।

রিমান্ডে যাওয়া অন্য আসামিরা হলেন- সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহুল ইসলাম, ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম সাইফ, মো. মোস্তাফিজুর রহমান জনি, যুবলীগের কর্মী মো. শেখ রাশেদুজ্জামান, সেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী মো. মামুন শেখ পরশ।

রিমান্ড শুনানি শেষে হাজতখানায় নেওয়ার সময় আসামি সুমন হোসেন বলেন, আমার মতো একজন সুমনকে আটক রেখে কী হবে। লাখ লাখ সুমন আছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে। শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে। ছাত্রলীগ কখনো নিষিদ্ধ হওয়ার সংগঠন না। জয় বাংলা।’

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পল্টন থানার বিজয় নগর পানির ট্যাংকি এলাকায় গত ৩১ অক্টোবর সকাল ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মিছিল দিতে থাকেন। সেসময় তাদের আটক করা হয়।